kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাতিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার তিন দশকের পুরনো ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার প্রায় একই সময়ে উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি অকার্যকর হয়ে পড়ায় বিশ্বে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

১৯৮৭ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এর নাম ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি’ (আইএনএফ)। তাতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভ। চুক্তিতে বলা হয়, কোনো দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে না, যেটি ৫০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

কিন্তু গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, মস্কো পশ্চিমাদের নিশানা বানিয়ে ‘৯এম৭২৯’ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে, যা ৫০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটারের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।

চলতি বছরের শুরুতেও একই অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। তবে রাশিয়া বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এ অবস্থায় গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ব্যাংককে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি এখন মৃত এবং এর জন্য রাশিয়া এককভাবে দায়ী।’

এর কিছুক্ষণ আগে মস্কো থেকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আইএনএফ চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে।

অনেকেই মনে করছে, চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পরমাণুযুদ্ধের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেল। তিনি আরো বলেন, এর মধ্য দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি কমবে না, নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নতুন কোনো উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানান গুতেরেস।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ পাভেল ফেলজেনহাওয়ের বলেন, এখন দেখা যাবে, এসব দেশ নতুন নতুন অস্ত্র তৈরি করছে আর মহড়া দিচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা