kalerkantho

ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে ৭০ হাজার কারাবন্দি

ওমর ফারুক   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে ৭০ হাজার কারাবন্দি

দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৭০ হাজার বন্দি রয়েছে। কারাগারগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত না হলেও ঝুঁকি রয়েছে। কারা কর্মকর্তারা জানান, কারাগার একটি স্পর্শকাতর স্থান। এখানে বন্দিদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। যদি কোনো বন্দির ডেঙ্গু ধরা পড়ে তাহলে সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এ ছাড়া বন্দিদের মশারি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় রোগটি আরো দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা আছে। এ কারণে কারা কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এডিস মশা যাতে জন্মাতে না পারে সে জন্য প্রতিদিন ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেউ যাতে আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ করা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগারে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য বেসরকারি পর্যায় থেকে ওষুধ কেনা হচ্ছে, যে ওষুধে মশা মরছে। প্রতিটি কারাগারে ফগার মেশিন চালানোর জন্য বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলাদা দল গঠন করে কারাগারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, কারাগারে মশা নিধনের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ মিটফোর্ড এলাকা থেকে কেনা হয়, যা ফগার মেশিন দিয়ে ছিটানো হয়। সেই ওষুধে মশা মরছে। ফলে এখন পর্যন্ত কারাগার এলাকা মশামুক্ত রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, প্রতি কৌটা ওষুধের দাম পড়ে তিন হাজার টাকা। এক দিন পর পর এই ওষুধ পুরো কারাগার ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় ছিটানো হয়।

কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারের ভেতরে কোনো বন্দিকে মশারি দেওয়া হয় না। মশারি ব্যবহার করে কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই কারাগারে মশারি দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেঙ্গু রোধের জন্য মশারির ব্যবস্থা করতে হলে প্রথার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সেটাও সরকারের তরফ থেকে আদেশ আসতে হবে।’

আরেক কারা কর্মকর্তা বলেন, কারাগারে কোনো বন্দি যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় তাহলে মশারি ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় তাকে আলাদা করা যাবে না। এতে আক্রান্ত একজনকে কামড়ানো মশা আরেক বন্দিকে কামড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। এভাবে বন্দিদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন ঝুঁকি থাকায় কেউ যেন ডেঙ্গু আক্রান্ত না হয় সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনই মশা নিধনে কাজ করছে।

বর্তমানে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১১ হাজার বন্দি রয়েছে। এ ছাড়া কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন তিন হাজারের মতো। সব মিলিয়ে কারাগার এলাকায় ১৪ হাজার লোকের বসবাস।

জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব উল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিনই ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এ ছাড়া কোথাও পানি জমতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কোনো বন্দি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি। তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কারাগার এলাকায় যেন মশা জন্মাতে না পারে।

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দি রয়েছে প্রায় এক হাজার ৮০০। এখন পর্যন্ত কোনো বন্দি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি বলে জানান কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, কারাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। আগে ১৫ দিন পর পর মশার ওষুধ ছিটানো হতো। এখন দু-তিন দিন পরপরই ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তাঁরা সতর্ক রয়েছেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা