kalerkantho

৩৩ ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচার

রাবেয়া-রোকাইয়া মুক্ত হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাবেয়া-রোকাইয়া মুক্ত হলো

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গতকাল সফল অস্ত্রোপচারের পর রাবেয়া ও রোকাইয়া। ছবি : আইএসপিআর

অবশেষে আলাদা হলো জোড়া মাথার যমজ বোন রাবেয়া ও রোকাইয়া। প্রায় ৩৩ ঘণ্টা টানা অস্ত্রোপচারের পর আলাদা করা হয়েছে পাবনার চাটমোহরের জোড়া মাথার এ দুই শিশুকে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় এ অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় এ অপারেশন শুরু হয়েছিল। সম্পন্ন করতে ৩৩ ঘণ্টা লাগে।

প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয়তায় পাবনার চাটমোহরের রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির তিন বছর ১৫ দিন বয়সের এই যমজ ২০১৭ সাল থেকেই সামগ্রিক সহায়তা পেয়ে আসছিল। হাঙ্গেরি সরকারের মাধ্যমে ‘অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল’ নামের সংগঠনও সক্রিয় সহায়তা দিয়েছে। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বিষয়টির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে প্রাণবন্ত বাচ্চা দুটির দুই স্তরে ‘অ্যান্ডোভাস্কুলার সার্জারি’ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ৪৮টি ছোট-বড় অপারেশন হাঙ্গেরিতে সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে জটিল অংশটি ‘যমজ মস্তিষ্ক’ আলাদাকরণের কাজটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়  সম্মিলিত ঢাকা সিএমএইচে সম্পন্ন হয়। এই অস্ত্রোপচারে হাঙ্গেরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিএমএইচের নিউরো অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে নিউরো ও প্লাস্টিক সার্জনসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, হার্ট ফাউন্ডেশন, নিউরো সাইন্স ইনস্টিটিউট, সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালের শতাধিক সার্জন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এই জটিল অপারেশনে অংশ নেন।

এ ধরনের অস্ত্রোপচার সারা বিশ্বেই বিরল। উপমহাদেশে এ রকম অস্ত্রোপচার এটিই প্রথম। এই অপারেশনটি বাংলাদেশে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা আরো বাড়ল। এ ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

ঢাকা সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের অপারেশন অত্যন্ত জটিল এবং সাফল্যের হার খুব বেশি না। অপারেশনের পর রাবেয়া এবং রোকাইয়ার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অস্ত্রোপচারে সর্বদাই অপারেশন-পরবর্তী ঝুঁকি এবং জটিলতা অত্যন্ত বেশি। সমগ্র দেশবাসীর কাছে রাবেয়া ও রোকাইয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।

আমাদের চাটমোহর প্রতিনিধি জানান, সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটি আলাদা হয়েছে—এমন খবর গ্রামের বাড়িসহ চাটমোহর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সবার মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

রাবেয়া ও রোকাইয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ও দেশবাসীর দোয়ায় আমার মেয়ে দুটোর সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করেছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আমাদের দুই মেয়ের অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

রফিকুল ইসলামের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মামুনুর রহমান বলেন, ‘এই জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া ও রোকাইয়াকে আমাদের এলাকাসহ সারা দেশের মানুষ মিডিয়ার কল্যাণে চিনেছে, জানতে পেরেছে। আজ (শুক্রবার) সকালে তাদের আলাদা হওয়ার খবর শুনে ভীষণ আনন্দ পেয়েছি। এখন একটাই চাওয়া, শিশু দুটি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।’

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা গ্রামের স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা দম্পতির ঘরে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয় যমজ রাবেয়া-রোকাইয়া। ২০১৬ সালের ১৬ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের ভূমিষ্ঠ করানো হয়।

 

 

মন্তব্য