kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ডেঙ্গু রোগী ২০ হাজার বেসামাল হাসপাতাল

তৌফিক মারুফ, তানজিদ বসুনিয়া ও মাসুদ রানা   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ডেঙ্গু রোগী ২০ হাজার বেসামাল হাসপাতাল

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীতে সয়লাব রাজধানীর সব হাসপাতাল। মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও মশারির ভেতরই চলছে খাওয়াদাওয়াও। ছবিটি রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালগুলোতে ছুটছে মানুষ। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে কয়েক দিন ধরেই শনাক্তকৃত ডেঙ্গু রোগীর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ ভিড় করে সন্দেহের বশে। পরীক্ষায় বেশির ভাগেরই ডেঙ্গু নেগেটিভ আসে। সন্দেহের বশে আসা মানুষের পেছনে সময় দিতে গিয়ে শনাক্তকৃত রোগীদের চিকিৎসায় যেমন ব্যাঘাত ঘটেছে, তেমনি উপকরণেরও ঘন ঘন সংকট দেখা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে মানুষের ভিড়ে প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের কাছ থেকে মশার মাধ্যমে সুস্থ দর্শনার্থী ও কৌতূহলী মানুষের শরীরে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে হাসপাতালগুলোতে সুচিকিৎসার জন্য অপরিহার্য শৃঙ্খলা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে, যা নিয়ে জনস্বাস্থ্যবিদদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতালে যেভাবে রোগী-অরোগীর ভিড় শুরু হয়েছে, তাতে হাসপাতালে চিকিৎসার সুষ্ঠু পরিবেশ থাকছে না। বরং সুস্থ যেসব মানুষ হাসপাতালে ঘুরছে বা অবস্থান করছে তারাও ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই এ ব্যাপারে সবারই সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হলেও বেশির ভাগই তা ব্যবহার করছে না। পাশাপাশি অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে হাসপাতাল বেশি সময় পরিচ্ছন্নও রাখা যাচ্ছে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে আমরা রোগীদের অনেক করে বুঝিয়েও তাদের নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পারছি না। প্রতিটি ভর্তি রোগীকে মশারি বিতরণ করে এবং নার্সরা মশারি খাটিয়ে দিয়ে এলেও কিছুক্ষণ পরেই দেখি রোগী বা তাদের স্বজনরা মশারি খুলে রাখছে। এ ছাড়া বারবার অনুরোধ করেও একজন রোগীর সঙ্গে তিন-চারজন করে দর্শনার্থীর উপস্থিতি বন্ধ করতে পারছি না। বেশি কড়াকড়ি করতে গেলে রোগী ও স্বজনদের অনেকে এক ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। আমরা মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে এসব সয়ে গেলেও বিপদ হচ্ছে অন্য রোগে আক্রান্ত রোগী ও সুস্থ দর্শনার্থীদেরই।’ তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। আমরা এমন নমুনা পেয়েছি। তাই রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই, তাঁরা যাতে অপ্রয়োজনে হাসপাতালে ভিড় না করেন এবং কোনো রোগীর সঙ্গেই যেন একজনের বেশি কেউ না আসেন।’

ডা. উত্তম কুমার আরো বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতালে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রতিদিন ডেঙ্গু টেস্ট করতে মানুষ আসত বড়জোর দুই-তিন শ জন। কিন্তু যেদিন থেকে সরকার সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি ঘোষণা করেছে, সেদিন থেকে এখন প্রতিদিনই এক হাজার থেকে বারো শ জনের মতো মানুষ আসে কৌতূহল বা সন্দেহবশত। এর মধ্যে ৩০-৩৫ শতাংশ মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। যাদের অবস্থা হাসপাতালে ভর্তির মতো কেবল তাদেরই আমরা ভর্তি করছি। বাকিদের বাসায় গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ জুলাই ঢাকার আগারগাঁও থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রফিকুল হাসান। সুস্থ হয়ে ওঠা রফিকুল আগামী শনিবার ছাড়া পাবেন হাসপাতাল থেকে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরও তাঁর শয্যার পাশে ছয়জন মানুষের আড্ডা দেখা গেল। কারণ জানতে চাইলে রফিকুলের ভায়রা মাজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওকে দেখতে এসেছি। সাথে আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছি। তাই একটু বেশি লোকসমাগম মনে হচ্ছে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন (পুরুষ) ১ নম্বর ব্লকে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১১৪। ওই ১১৪ রোগীর দর্শনার্থী হিসেবে সাত শর বেশি লোককে দেখা গেল। ওই ব্লকে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় অবস্থান নেওয়া আব্দুর রহিমের শয্যার সামনে আটজনকে আড্ডা দিতে দেখা গেল। একজন জানালেন, তাঁরা আব্দুর রহিমকে দেখতে এসেছেন।

শুধু ১ নম্বর ব্লকেই নয়, দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেল হাসপাতালের মেডিসিন (নারী) ৪ নম্বর ব্লকেও। ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে দেখতে আসা মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ৪ নম্বর ব্লকের ১ নম্বর ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে দেখতে এসে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ অবস্থান করছে। বিষয়টি নজরে আনা হলে ৪ নম্বর ব্লকে দায়িত্বরত এক নার্স কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে কাজ করতে আমাদের দুই মিনিট লাগার কথা, এত বেশি ভিজিটর হওয়ার কারণে সেই কাজ করতে এখন পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। এখানে (৪ নম্বর ব্লক) সব রোগী নারী হলেও সব সময় তাদের সাথে পুরুষ বসে থাকে, এমনকি রাতেও তারা এখানে অবস্থান করে। রোগীর চাপে এমনিতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে এত দর্শনার্থী থাকায় কাজ করতে আরো সমস্যা হচ্ছে আমাদের।’

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ওই হাসপাতালের ১ নম্বর ব্লকে মেডিসিন (পুরুষ) ১১৪ জন, ৪ নম্বর ব্লকে মেডিসিন (নারী) ৭৫ জন, ১১ নম্বর ব্লকে (শিশু) ১১০ জন, ৭ নম্বর ব্লকে ২৪ জন ও ৩ নম্বর ব্লকে একজনসহ মোট ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছে।

সিনিয়র স্টাফ নার্স আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের একটি বড় সমস্যা যে এখানে কোনো বিধিনিষেধ নেই। রোগীর সাথে দু-একজন মানুষ থাকা অবশ্যই উচিত। কিন্তু সেখানে যদি পাঁচ থেকে ছয়জন মানুষ থাকে তাহলে আমাদের স্বাভাবিক কাজ করতে সমস্যা হয়। চিকিৎসার সময়ে তাদের বাইরে যেতে বললে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হয়।’

৪ নম্বর ব্লকের ১ নম্বর ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক (ইন্টার্ন) তানিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সত্যি বলতে এটা তাদের (দর্শনার্থী) জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করে। আমাদের কাজ করতেও বিলম্ব হয়। আমরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলেও তারা আবার ফিরে আসে। কাজ বিলম্বিত হলেও এখন অবস্থা এমন যে আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

মেডিসিন ইউনিট-২-এ দায়িত্বরত চিকিৎসক (ইন্টার্ন) ফারহানা নিপা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাজ বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি ওনারাও (দর্শনার্থী) স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। চারপাশে এত ডেঙ্গু রোগী, আমরা নিজেরাও তো ঝুঁকিতে থাকি। তাই নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে হলেও এখানে এক-দুজনের বেশি থাকা উচিত নয়।’

মিটফোর্ড হাসপাতালে গতকাল দুপুরে খলিল খাঁ ডেঙ্গু পরীক্ষা করে গেছেন। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া মানুষটি কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারছিলেন না। তিনি বলছিলেন, ‘এখানে রিপোর্ট নিতে এসেছি সকাল ৯টায়; কিন্তু ১টা বাজলেও হাতে পাইনি। তা ছাড়া এখানে যারা দায়িত্বে আছে তারা টাকা নিয়ে লাইন বাদ দিয়ে নিজেদের পরিচিতদের রিপোর্ট দিচ্ছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকেই মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবনের নিচে ও ওপরে শত শত মানুষের ভিড়। দুটি লাইনে পুরুষ-নারী সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। একটি লাইনে ডেঙ্গু পরীক্ষার স্লিপ ও অন্য লাইনে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আর ভেতরে মাত্র তিনজন ব্যক্তি এ স্লিপ ও রিপোর্ট দিচ্ছেন। দায়িত্বরত কয়েকজনকে টাকার বিনিময়ে লাইনে দাঁড়ানো লোকজনকে বাদ দিয়ে অন্য অনেকের স্লিপ ও রিপোর্ট দিয়ে দিতে দেখা গেছে।

জানা যায়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ৩৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ জন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ৪২ জন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছে। সৌরভ (১০) নামে কেরানীগঞ্জের একটি শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত এক হাজার ৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসক ওয়ার্ডের এক পাশে রোগী দেখলেও অন্য পাশে রোগীর স্বজনরা ভিড় করে বসে আছে।

নার্সিং সুপারভাইজার গায়ত্রী দেবী মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রোগীদের সঙ্গে একজনকে থাকতে বলি; কিন্তু রোগীর স্বজনরা কথা শোনে না। বরং এ কথা বললে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে পর্যন্ত আসে।’

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের এখানে ডেঙ্গু রোগীর জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। এ ছাড়া এখানে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডেঙ্গু পরীক্ষার স্লিপ ও রিপোর্ট দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে গতকাল সকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আনুষ্ঠানিকভাবে ৮৫ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সবাই মিলে মোকাবেলার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। এখন আমাদের দায়িত্ব ভালো চিকিৎসা দেওয়া।’

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭১২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৭১২ জন। গত ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় ১৯ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৬১ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বাকি পাঁচ হাজার ৩৩৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল। গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি ৩০টি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২২২ জন। অন্যদিকে ঢাকার বাইরের ৬৪ জেলা ও আটটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ৫৬২ জন। পুরনো রোগীসহ গতকাল পর্যন্ত ঢাকার বাইরে মোট ভর্তি রোগী ছিল এক হাজার ৫০৬ জন। আর সরকারি হিসাবে গতকাল পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ জনেই রয়েছে।

ঢাকা, মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জে তিনজনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ’র ফরিদপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শারমিন নামের এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল শিবচরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার বাবু খানের ছেলে ফারুক খান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত পাঁচ দিন ঢাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার মারা যান।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ভৈরবে ডেঙ্গুতে মো. হামজা (১২) নামের এক শিশু মারা গেছে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নরশীলপুর গ্রামে। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মিনিট পর সে মারা যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচজন চিকিৎসাধীন ছিল।

 

মন্তব্য