kalerkantho

হাইকোর্টের নির্দেশ

দুই সিটি করপোরেশনকে মশার ওষুধ আনতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই সিটি করপোরেশনকে মশার ওষুধ আনতে হবে

রাজধানীর মশা মারতে বিদেশ থেকে কার্যকর ও যথাযথ ওষুধ বিশেষ ব্যবস্থায় আনতে দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংকট মোকাবেলায় সম্ভব হলে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই ওষুধ আমদানি করে তা সিটি এলাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করবে। ওষুধ দ্রুত আনতে লাইসেন্স ও ছাড়পত্রসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে সারা দেশের জন্য ওষুধ আনার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকা সিটির মধ্যে সব সরকারি হাসপাতালে একজন সহযোগী অধ্যাপকের নিচে নয় এমন একজন চিকিৎসকের নেতৃত্বে ২৪ ঘণ্টা ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার তদারকি করার ব্যবস্থা করতে এবং সব সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত সিট (বেড) বরাদ্দসহ বিশেষ ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, যেন একজন রোগীও চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে ফেরত না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে মানবিক দিক বিবেচনায় আদালতের আদেশ বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণে (টেস্ট) কিটস বেশি পরিমাণে আমদানি করে তা সারা দেশে স্বল্প মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। গতকাল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। ডিএসসিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা ও ডিএনসিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু। আদেশের সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ দুই সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকার ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে হাইকোর্টে বাহাস : গতকাল সকালে শুনানিকালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ওষুধ আনবে সরকার। আমাদের দেওয়ার পর তা আমরা ছিটাব। জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) কাজী মাঈনুল হাসান বলেন, সরকারের দায়িত্বশীলরা মিটিং করে সিটি করপোরেশনকে ওষুধ আনতে বলেছেন। সাইদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘আমাদের আনতে হলে অনেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়া কোনো দিনই শেষ হবে না। এ কারণেই সরকার আনবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে তলব : দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর তর্কবিতর্কের সময় আদালত বলেন, ‘আমরা সেই কবে থেকে চিৎকার করে বলছি ডেঙ্গুর কথা। কিন্তু সেটা তাদের (সরকার) কানে পৌঁছে না। এখন সারা দেশে খুব নাজুক অবস্থা। এ রকম অবস্থায় সরকার বলছে সিটি করপোরেশন ওষুধ আনবে, আর সিটি করপোরেশন বলছে সরকার আনবে। আসলে ওষুধ আনার দায়িত্ব কার? আদালত বলেন, সচিবরা সিটি করপোরেশনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন? এ অবস্থায় ওষুধ আনার দায়িত্ব কার তা নিশ্চিত হতে দুপুর ২টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে হাইকোর্টে আসতে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে দুপুর ২টায় সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত হন। এরপর আদালত তাঁর বক্তব্য শোনেন। এ সময় তিনি বলেন, যেহেতু এখনকার ওষুধে কাজ হচ্ছে না, আমরা প্রতিদিন বৈঠক করছি। তাই সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সিটি করপোরেশন ওষুধ আমদানি করবে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এই ওষুধ আমদানির সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতের আদেশে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। জানতে পেরেছি, বিদেশে ডেঙ্গুর ওষুধ বেসরকারিভাবে উৎপাদিত হয়। তাই সরকারিভাবে (জিটুজি) আনা কষ্টকর হবে। এ জন্য দুই সিটি করপোরেশনকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুত ওষুধ আনতে পারব।

 

মন্তব্য