kalerkantho

ডেঙ্গুবিষয়ক ব্রিফিং নিয়ে নাটকীয়তা!

বিদেশ ভ্রমণ প্রশ্নে চুপ থাকলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সচিব বললেন, এ বিষয়ে মন্ত্রী অন্য সময় কথা বলবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ডেঙ্গুবিষয়ক ব্রিফিং নিয়ে নাটকীয়তা!

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রথমে গত মঙ্গলবার বিকেলে ই-মেইল মারফত বুধবার দুপুর ১২টায় ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদ্বোধন ও ডেঙ্গুসংক্রান্ত সমসাময়িক বিষয়াদির ওপর প্রেস ব্রিফিং’-এর আমন্ত্রণপত্র  পাঠান গণমাধ্যমে। জানানো হয়, স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) মো. আসাদুল ইসলাম ওই ব্রিফিং করবেন। মঙ্গলবার রাত পেরিয়ে বুধবার সকালে যখন আমন্ত্রিত গণমাধ্যমকর্মীরা সচিবালয়ে যান তখন হঠাৎ করে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, আজ (বুধবার) ব্রিফিং হবে না, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ‘ডেঙ্গু প্রকোপ : বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসাব্যবস্থা বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং’ করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজেই। দ্বিতীয় দফার এই আমন্ত্রণপত্র বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ ই-মেইলে আগের মতোই গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার যথারীতি সাংবাদিকরা ভিড় করেন সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ও বাইরের করিডরে। আবার সেই জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মইদুল ইসলাম প্রধান উপস্থিত সাংবাদিকদের আকস্মিকভাবে জানান, আজও (গতকাল) অনিবার্য কারণে পূর্বনির্ধারিত প্রেস ব্রিফিং হবে না। একই তথ্য তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানান।

ওই সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাকক্ষে একে একে ঢুকতে শুরু করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও আসেন। আসেন কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এর পরই আসেন দুই সিটি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও সাঈদ খোকন এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। এ সময় স্বাস্থ্যসচিব জানান, এখানে প্রেস ব্রিফিং হবে না, পূর্বনির্ধারিত ব্রিফিংটি পরে হবে এবং সময়সূচি সাংবাদিকদের জানানো হবে। তাই তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন বাইরে যাওয়ার জন্য। তখন সাংবাদিকরা মন্ত্রী ও দুই মেয়রের কাছে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। সচিব বারবার সাংবাদিকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁরা কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অনুরোধ করেন।

বিদেশ ভ্রমণের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চুপ : একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও মৃতের সরকারি তথ্য জানান। এ সময় সাংবাদিকরা বারবার তাঁর বিদেশ ভ্রমণ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নীরব থাকেন। তখন স্বাস্থ্যসচিব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে মন্ত্রী পরে আলাদা করে ব্রিফিংয়ে কথা বলবেন।

১১টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুমুক্ত ঘোষণা দক্ষিণের মেয়রের : পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এর মধ্যেই আশার আলো হচ্ছে—ঢাকা দক্ষিণের ১১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু নেই। এসব এলাকা ডেঙ্গুমুক্ত।’ তিনি এ সময় অনেকটা উত্ফুল্লভাবেই বলেন, ‘ডেঙ্গুমুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে—১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিগাতলা-হাজারীবাগ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ মার্কেট-ঢাকা কলেজ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীবাগ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাগ-নবাবগঞ্জ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামবাগ, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল-ইংলিশ রোড, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীবাজার, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন ও ৫৫-৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীরচর।’ তিনি ১১টির কথা বললেও ওয়ার্ডের বিবরণ দেন ১০টির। এলাকাগুলোকে ডেঙ্গুমুক্ত ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার একটি সার্ভের কথা বলেন।

তবে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই কক্ষে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা কিছুটা আড়ালে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বা রোগী আছে কি নেই সে রকম কোনো সার্ভে করেনি, বরং দুই সিটির ১১০টি এলাকায় তাঁরা সার্ভে করে এডিস মশার লার্ভা ও এডাল্ট মশার ঘনত্ব দেখেছেন মাত্র। তখন এই তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তখনই আবার প্রশ্ন করলে মেয়র সাঈদ খোকন অনেকটা চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, ‘আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। প্রয়োজনে আপনারা গিয়ে ঘুরে দেখে আসুন।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিশেষ ওষুধ আসছে। অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে। এর মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ পুরোপুরি ডেঙ্গুমুক্ত হবে।’

সহজ সরল স্বীকারোক্তি উত্তরের মেয়রের : অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম অকপটে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার চেষ্টার কমতি নেই। আমি যেহেতু নতুন তাই আমার বোঝা ও জানায় ঘাটতি থাকতেই পারে। তাই আমি সবার কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। সেই সঙ্গে আমি অকার্যকর ওষুধের পরিবর্তে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যকর ওষুধ সংগ্রহের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এমনকি একটি গবেষণা কেন্দ্র চালুর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছি। এ ছাড়া পাশের দেশ ভারতের একজন কীটতত্ত্ববিদকে ঢাকায় নিয়ে আসছি। দু-এক দিনের মধ্যেই তিনি হয়তো ঢাকায় পৌঁছে মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবেন—যেমনটা কলকাতায় প্রয়োগ করা হয়েছে বলে শুনেছি।’

মন্তব্য