kalerkantho

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই

নোমান মোহাম্মদ, কলম্বো থেকে   

৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই

প্রথম ওয়ানডে ছিল লাসিথ মালিঙ্গার জন্য। আজ তৃতীয় ওয়ানডে নুয়ান কুলাসেকেরার। শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের জন্য একটি ম্যাচও কি রইবে না তবে?

সিরিজের প্রথম ম্যাচে পুরো প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম সেজেছিল কিংবদন্তি মালিঙ্গার বিদায়ী আয়োজনে। স্টেডিয়ামের কংক্রিট-গোলক পেরিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা কলম্বো, পুরো দেশেই। বাংলাদেশকে হারিয়ে ঠিকই বীরের বিদায় হয় তাঁর। দ্বিতীয় ওয়ানডের আবহে অমন কোনো উপলক্ষ ছিল না। অবসরে যাওয়া মালিঙ্গাও তো ছিলেন না সেদিন। তবু শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পেরে ওঠেনি তামিম ইকবালের দল। টানা দ্বিতীয় হারে হেরে যায় সিরিজ।

আজ তৃতীয় ম্যাচটি স্বাগতিকরা উৎসর্গ করছে কুলাসেকেরাকে। মালিঙ্গার মতো কিংবদন্তি নন, তবে নতুন বলে তাঁর সঙ্গী হিসেবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের প্রতিনিধি এই পেসারও। জাতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে গেছেন বছর দুয়েক আগে; প্রথম ওয়ানডের আগে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণাও দিয়েছেন। আজ শেষ ম্যাচটি শ্রীলঙ্কা তাঁকে উৎসর্গ করছে সম্মান জানিয়ে। মাঠে না খেললেও এটি তাই কুলাসেকেরার ম্যাচ।

বাংলাদেশের ম্যাচ তাহলে কোনটি? আজ শেষ ওয়ানডেতেও যদি না জেতে, তাহলে তো ০-৩ ব্যবধানে সিরিজ হেরে ফিরতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। সাকিব-মাশরাফি-সাইফ-লিটনরা না থাকা সত্ত্বেও এটি তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অচিন্তনীয় এক বিপর্যয়। বিস্ময়কর পতন।

সেটি ঠেকানোর আভিযান আজ তামিমের দলের। পারবে না বাংলাদেশ? কোমরভাঙা সাপও তো সুযোগের সদ্ব্যবহারে বিষাক্ত ছোবলে পরাস্ত করতে পারে শত্রুকে!

ব্যর্থ যে হয়েছেন, তা মেনে নিতে আপত্তি নেই বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিমের। সে জন্য কোচ খালেদ মাহমুদ কিংবা অন্য কাউকে নয়, কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন নিজেদেরই, ‘বড় আশা নিয়ে এই সিরিজে এসেছিলাম। এখানে নিজেরাই নিজেদের ডুবিয়েছি। নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে দায় দেওয়ার নেই। কোচ নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। সাফল্য পাওয়ার জন্য করেছেন সম্ভাব্য সব কিছু। খেলোয়াড় হিসেবে যখন আমরা ভালো করতে পারব না, তখন কোচের ওপর সব দায় চাপানো ঠিক নয়। আমি বরং মনে করি, মাঠের ১১ জন ক্রিকেটার নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করতে পারিনি বলেই হেরেছি।’

সেই ঠিকঠাক কাজ করতে না পারায় অধিনায়কের দায় অন্য কারো চেয়ে কম নয়। দুই ওয়ানডেতে করেছেন ০ ও ১৯ রান। দায় এড়াচ্ছেন না তিনি। তবে অধিনায়কত্বের ওপর সব দোষ চাপিয়ে দেওয়ায়ও তাঁর অনীহা, ‘আমি বিশ্বাস করি, দল যত ভালো, অধিনায়কও তত ভালো। এখন আমি নিজেকে অধিনায়ক হিসেবে কিভাবে মূল্যায়ন করি, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, কিভাবে আমরা দল হিসেবে খেলছি। আর সত্যিটা হলো, আমরা দল হিসেবে ভালো করিনি। আর একটি, দুটি কিংবা তিনটি ম্যাচ দেখে কখনোই একজন খেলোয়াড় কিংবা অধিনায়ককে মূল্যায়ন করতে পারবেন না।’

সে মূল্যায়নের জন্য সময় পড়ে আছে সত্য। আপাত লক্ষ্য, অন্তত খানিকটা গর্ব ফিরিয়ে দেশে ফেরা। ০-৩ ব্যবধানে হারের চেয়ে ১-২ ব্যবধানে হার তো মন্দের ভালো। নিজেদের এবং বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য হলেও এটুকু করতে চান তামিম, ‘এই সিরিজে আমরা হেরে গিয়েছি। তবে ০-৩ ব্যবধানের সঙ্গে ১-২ ব্যবধানে হারার পার্থক্য আছে। শেষ ম্যাচ জিতলে আমরা নিজেদের অন্তত প্রমাণ করতে পারব যে প্রথম দুই ম্যাচে যেভাবে চিন্তা করেছিলাম সেভাবে খেলতে পারিনি। আত্মতৃপ্তির জন্য হলেও শেষ ম্যাচে জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ। আর বাংলাদেশের মানুষ আমাদের খেলা দেখছে। আমাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা আছে। তাদের জন্য হলেও ভালো খেলতে হবে।’

বাংলাদেশ যেখানে কিছুটা গর্ব ফেরানোর অভিযানে, শ্রীলঙ্কা সেখানে শেষ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে। একাদশে অদলবদলের ইঙ্গিত দিয়ে দিমুথ করুণারত্নে যেন বাংলাদেশের সামর্থ্যকেই করেন প্রশ্নবিদ্ধ। এমন সহজ সিরিজ জয় আশা করেননি জানিয়ে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের অবদানের কথাও মনে করিয়ে দেন, ‘অবশ্যই এমন সহজে সিরিজ জেতা আশা করিনি। আর হাতুরাসিংহে আমাদের জন্য সব সময় খুব ভালো কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে উনি ভালো জানেন। পরিকল্পনা করার সময় সেটি খুব কাজে দেয়। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে আমরা খুব ভালো ক্রিকেটও খেলেছি। সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’

সেই ভালো ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা আজও ধরে রাখতে চায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ চায় খারাপ ক্রিকেটের চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসতে। লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়টা বিষিয়ে দিতে পারেনি, আজ নুয়ান কুলাসেকেরার বিদায়ক্ষণ বিষণ্নতায় ডুবিয়ে দিতে চায়। সিরিজ হারের পর একটি জয়ে ওইটুকুন প্রাপ্তিও কম কী বাংলাদেশের জন্য!

 

মন্তব্য