kalerkantho

ডেঙ্গুর মহামারি

সাত বছর আগেই সতর্ক করেছিল ডাব্লিউএইচও

মেহেদী হাসান   

৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত বছর আগেই সতর্ক করেছিল ডাব্লিউএইচও

বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ ডেঙ্গুর শিকার হতে পারে বলে ২০১২ সালেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। জাতিসংঘের ওই সংস্থার বিশেষ সতর্কবার্তা ছিল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে। তাতে বলা হয়েছিল, ডেঙ্গু বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হলেও ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়েছে এমন দেশ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশের বসবাস  এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। ডাব্লিউএইচওর প্রকাশনা ঘেঁটে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ডাব্লিউএইচও ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি ফর ডেঙ্গু প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’ শিরোনামে একটি বৈশ্বিক কৌশলপত্রও প্রকাশ করেছিল।

সাত বছর পর এখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ডাব্লিউএইচও এ বছরের শুরুতে বিশ্বে স্বাস্থ্যের জন্য যে ১০টি ঝুঁকির কথা বলেছিল তাতেও ডেঙ্গুর কথা উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শে স্বাস্থ্য ও রোগ ইস্যুতে ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি)’ তথ্য সংযুক্ত আছে। সিডিসির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে যারা যাবে তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে আছে ক্যারিবীয়, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক আইল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অংশ। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা ঘরে-বাইরে দিনে-রাতে কামড়াতে পারে।

রোগের যে মানচিত্র সিডিসি প্রকাশ করেছে তাতে গত তিন মাসে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের তথ্য রয়েছে। এর সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে ২০১২ সালে ডাব্লিউএইচও প্রকাশিত ডেঙ্গু-ঝুঁকির মানচিত্রের।

ডাব্লিউএইচও এ মাসের শুরুতে ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে কম্বোডিয়া, চীন, লাওস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া ও নিউ ক্যালিডোনিয়ায় ডেঙ্গু সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর খবর রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তরের (ইউএন ওচা) রিলিফওয়েবে প্রকাশিত বার্তাগুলোতে বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ অনেক দেশে ডেঙ্গু বড় আকারে সংক্রমণের কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে কয়েক শ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার বৃহত্তম ডেঙ্গু সংক্রমণ মোকাবেলা করছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের সামুই টাইমস পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারি মাস থেকে থাইল্যান্ডে অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। দেশটির রাজধানী ব্যাংকক ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চিয়াংমাইয়ে প্রায় দেড় লাখ লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত চারটি রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের বরাত দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) জানায়, আমেরিকা অঞ্চলে এ বছর ডেঙ্গু সংক্রমণের হার ২০১৭ ও ২০১৮ সালের মোট সংক্রমণের চেয়েও বেশি। এর মধ্যে ব্রাজিলে ১১ লাখেরও বেশি বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

 

মন্তব্য