kalerkantho

রোহিঙ্গা সংকট

প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব জাপানের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব জাপানের

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশ জাপানের ওই প্রস্তাব বিবেচনা করবে। তবে তিনি মনে করেন, এর আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে আজ বুধবার মিয়ানমার যাচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় বৈঠকের আগে তারো কোনো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপান রাজনৈতিক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে। তারাও চায়, এ সমস্যার একটা দ্রুত সমাধান হোক। তারা একটি ভালো ভূমিকা পালন করতে পারে।’ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। যদি প্রয়োজন হয় তারা টোকিওতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে যৌথভাবে ডেকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেবে।

এখানে জাপানের স্বার্থ কী জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের স্বার্থ এখানে তাদের বিনিয়োগ। তারা শান্তি চায়।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দেশেই বিনিয়োগ নিরাপদ করার জন্য এই সংকট সমাধান করতে বলেছি। কারণ অনিশ্চয়তা থাকলে কোনো বিনিয়োগই ফলপ্রসূ হয় না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাপানের বিনিয়োগ যদি নিরাপদ করতে হয় তবে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। নয়তো সেখানে উগ্রবাদ দেখা দিতে পারে। তাদের স্বার্থে, মিয়ানমারের স্বার্থে, আমাদের সবার মঙ্গলের জন্য এই সমস্যা সমাধান হওয়া দরকার। ’

বাংলাদেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীন ও জাপানের মধ্যে কাকে মানবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের মধ্যে ঝগড়া থাকতে পারে। যেমন ভারত ও চীনের মধ্যে ঝগড়া থাকতে পারে। আমরা জানি না। আমরা আমাদের স্বার্থ দেখব। আমরা আমাদের কাজটা করার জন্য তাদের কাছে যাই।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের বিষয়ে বাংলাদেশ যুক্ত হতে চায় না। নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাপানও এ ব্যাপারে সম্মত আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে জাপানের সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। জাপানের বৈশ্বিক সহযোগিতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে আছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ‘বেসামরিক পর্যবেক্ষক’ নিয়োগের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকেও (গতকাল মঙ্গলবার) বলেছি। তারা (জাপান) এর প্রশংসা করেছে।’

জাপান রাজি কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তো তাই বললেন। রাজিই বললেন, অ্যাপ্রিশিয়েট (প্রশংসা) করেছেন।’

মিয়ানমার রাজি কি না জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘মিয়ানমার আপত্তি করেনি। এ সম্পর্কে কোনো বিরূপ মনোভাব দেখায়নি। সোমবারের বৈঠকে (ঢাকায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক) আমি ছিলাম না। কিন্তু আমার মনে হয় তারা এতে যথেষ্ট ইতিবাচক।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গতকালের বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে জাপানকে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বাস্তবতা অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামের কাঠামো সংস্কারের পক্ষে।

 

মন্তব্য