kalerkantho

পাস্তুরিত তরল দুধ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

সংকটে ভোক্তারা, চাহিদা বেড়েছে গুঁড়া দুধের

এম সায়েম টিপু   

৩০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংকটে ভোক্তারা, চাহিদা বেড়েছে গুঁড়া দুধের

পাস্তুরিত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সপ্তাহের জন্য এসব দুধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানার ব্যাপারে উদাসীন রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানিরা। বড় বড় দোকান ও সুপার শপে অবশ্য পাস্তুরিত এসব তরল দুধ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১৪টি কম্পানির পক্ষ থেকে পণ্য বিপণন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সংকটে পড়েছে সাধারণ ভোক্তারা। বিকল্প হিসেবে মোড়কজাত বিদেশি গুঁড়া দুধের দিকে ঝুঁকেছে ক্রেতারা। গতকাল সোমবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মালিবাগের সিটহাট কনফেকশনারিতে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের নির্দেশনার পরও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশীয় কম্পানির পাস্তুরিত তরল দুধ বিক্রি করছেন দোকানি। জানতে চাইলে দোকানের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, ২৭ জুলাইয়ের মিল্ক ভিটা ও আড়ংয়ের দুধ বিক্রি করছেন তাঁরা। দুধ বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে তাঁদের কাছে কোনো নির্দেশনা নেই, বরং গতকাল সকালে দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে আগে সরবরাহ করা দুধ বিক্রি করা যাবে।

মালিবাগে সুপার শপ স্বপ্নে গিয়ে দেখা যায়, এই আউটলেটে কোনো ধরনের তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম কালের কণ্ঠকে জানান, গত রবিবার আদালতের নির্দেশনার পরপরই আউটলেট থেকে সব ধরনের তরল দুধ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ (সোমবার) কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দুধ সরবরাহ করা হয়নি। তবে হঠাৎ করেই দুধ না পেয়ে ভোক্তারা বিপাকে পড়েছে। বিকল্প না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করছে। এ অবস্থায় অনেকে তুলনামূলক বেশি দামে মোড়কজাত বিদেশি গুঁড়া দুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

কাকরাইলের সুপার শপ আগোরায় কথা হয় শান্তিনগরের বাসিন্দা মিতালী চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে বাচ্চার নাশতায় দুধ লাগে। আজও অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে দুধ কিনতে এসে দেখি তরল দুধ নেই। জানলাম, তরল দুধ বিক্রির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই নিয়মিত বাজেটের বাইরে গিয়ে বিদেশি মোড়কজাত গুঁড়া দুধ কিনতে হলো।’

আউটলেট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, তরল দুধ বিক্রি বন্ধ হওয়ায় গুঁড়া দুধের চাহিদা বেড়ে গেছে। আবার বেশির ভাগ ক্রেতাই দেশি গুঁড়া দুধের চেয়ে বিদেশি গুঁড়া দুধে আস্থা রাখছে। ফলে তরল দুধের বিকিকিনি বন্ধের ফাঁকে বিদেশি গুঁড়া দুধের চাহিদা ও বিক্রি দুটিই বেড়ে গেছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় তরল দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পাস্তুরিত তরল দুধ বিক্রি বন্ধ হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে পত্রিকায় নেতিবাচক লেখালেখির ফলে বাজারে তরল দুধের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। দৈনিক এক লাখ ৩০ হাজার লিটার দুধের চাহিদা গত সপ্তাহে ৭৫ হাজার লিটারে নেমে আসে। এর ওপর গত রবিবার আদালতের স্থগিতাদেশের পর আজ (গতকাল) পুরো সরবরাহই বন্ধ ছিল। তবে মিল্ক ভিটা দুধের ব্যাপারে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ায় আজ বাজারের চাহিদা অনুসারে আবারও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনায় উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পণ্য প্রত্যাহার করার কোনো নির্দেশনা ছিল না। ফলে এরই মধ্যে বিপণণ করা পণ্য দোকানগুলো থেকে প্রত্যাহারের ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা ছিল না। গতকাল আমরা কোনো দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহ করিনি। তবে হঠাৎ করে তরল দুধের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা