kalerkantho

নারিকেল তেল মাখলে মশা কামড়ায় না?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারিকেল তেল মাখলে মশা কামড়ায় না?

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সম্প্রতি রোগটির প্রতিরোধে নারিকেল তেল মাখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। অনেকেই তাদের অভিমত তুলে ধরে বলেছে, ‘নারিকেল তেল মশা তাড়ায় এবং তেল পায়ে মাখলে মশার কামড় থেকে বাঁচা সম্ভব।’ এ বিষয়ে গতকাল সোমবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মেশালে মশা নিবরণে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

মশা তাড়াতে নারিকেল তেল ব্যবহার প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি এ পদ্ধতির বিষয়ে পুরোপুরি একমত

নন। তিনি মনে করেন, মশা যেহেতু চামড়া ভেদ করে রক্ত পান করে, তাই চামড়ার ওপর ঘন যেকোনো ধরনের তেলই মশাকে কিছুটা প্রতিহত করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নারিকেল তেলের সঙ্গে কীটনাশক জাতীয় কোনো দ্রব্য মিশিয়ে নিলে আরো বেশি কার্যকর হবে।

তাহমিনা বলেন, ন্যাপথলিন বা কর্পূরের গুঁড়া বেশ ভালো কীটনাশক। নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূরের গুঁড়া মেশালে মশা নিবারণে তা আরো বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে এ ছাড়া কড়া গন্ধ থাকায় নারিকেল তেলের বদলে সরিষার তেলও মশা দূরে রাখতে কার্যকর হতে পারে।

পেঁপে পাতার রস : অন্যদিকে, ডেঙ্গু রোগ নিরাময়ে নানা প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া সমাধানের মধ্যে পেঁপে পাতার রসও নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচনা  চলছে। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেন, পেঁপে পাতার রস যে ডেঙ্গু নিরসনে ভূমিকা রাখে, এ দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

মুজিবুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিরসনে পেঁপে পাতার রসের ভূমিকা পরীক্ষা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষা হলেও বৈজ্ঞানিক নীতি অনুসরণ করে কোনো ধরনের ‘র‌্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি। তিনি জানান, কোনো ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল হতে হবে। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে ওই ওষুধটি কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর।

তবে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু রোগীকে পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর উপদেশ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। যেমন ২০১৭ সালে ভারতে ৪০০ জন ডেঙ্গু রোগীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে আসে, পেঁপে পাতার রস খাওয়া রোগীদের রক্তকণিকার পরিমাণ অন্য রোগীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি বেড়েছে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অপেক্ষাকৃত কম। খবরটি তখন ‘টাইমস অব ইন্ডিয়ায়’ প্রকাশিত হয়েছিল।

এ ছাড়া পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো ডেঙ্গুর রোগীদের মধ্যে রক্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার হারও কম হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। ডেঙ্গুর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য