kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

রিশান ফরাজীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

বাদী-সাক্ষীর ফাঁদে মিন্নির পরিবার

রফিকুল ইসলাম, বরগুনা থেকে ফিরে   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বাদী-সাক্ষীর ফাঁদে মিন্নির পরিবার

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শাহনেয়াজ রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সে সময় রিফাতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিও ছিলেন। ওই হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজের মূল ফটকের কাছে কয়েকজন তরুণ রিফাতের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে। মিন্নি একাই অস্ত্রের মুখে পড়েও দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা লোকজন কেউ এগিয়ে আসেনি। কোপানোর সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রিফাত খুনের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। স্বামীকে বাঁচানোর সাহসী পদক্ষেপের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিন্নিকে সাহসীও অবহিত করা হয়।  

ফৌজদারি কার্যবিধির এই অপরাধের ধরন বলছে, নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিরই মামলার বাদী হওয়ার কথা। কিন্তু রিফাতের বাবা মিন্নিকে মামলার প্রধান সাক্ষী করেন। এর কিছুদিন পর মিন্নির বিরুদ্ধেই খুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। সেই ঘটনার জের ধরে সাক্ষী হিসেবে তথ্য নেওয়ার কথা বলে মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১২ ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি করা হয়। পরে মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছাড়াই তাঁর রিমান্ড শুনানি হয়। সেখানে আদালতের বিচারক রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর খুনের পরিকল্পনাকারী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন মিন্নি।

বাদী-সাক্ষীর ফাঁদে মিন্নির পরিবার

ভিডিও ফুটেজে যারা মিন্নির সাহসী ভূমিকা দেখেছেন, তাদের প্রশ্ন কেন এমনটি ঘটল? মামলায় যেখানে মিন্নির বাদী হওয়ার কথা, সেখানে তাঁকে সাক্ষী করা হলো। আবার সাক্ষী থেকে আসামির কাঠগড়ায় যেতে হলো। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, রিফাত হত্যা মামলার বাদী-সাক্ষীর ফাঁদে শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার। ঘটনাস্থল থেকে মিন্নিই বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রিফাতকে নিয়ে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠ ও রিফাতের বন্ধু মনজুরুল আলম জন হাসপাতালে ছুটে আসেন। রিফাতকে যখন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হচ্ছিল, তখন মিন্নিও স্বামীর সঙ্গে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জনের বাধার কারণে পারেননি।

বরগুনা হাসপাতাল থেকেই মিন্নির পরিবারের প্রতি ফাঁদ পাতা হয়। মিন্নির বাবার টাকায় বরগুনা থেকে বরিশালের উদ্দেশে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করা হয়। বরিশালে রিফাতের চিকিৎসার সব খরচ তিনিই বহন করেন। বিকেলে রিফাতের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে মিন্নির চাচাশ্বশুর আব্দুস সালাম শরীফ রাতে সেখানে আসেন। পরের দিন সকালে জামাইয়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার জন্য মিন্নির বাবা অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করেন। লাশ ওঠানোর আগে মিন্নির বাবার সঙ্গে জন খারাপ আচরণ করেন। জনের সঙ্গে থাকা বন্ধুরা শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের লাশকাটা ঘরের সামনে মিন্নির বাবাকে লাঞ্ছিত করে। এমনকি তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্স থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

স্বামীর লাশ দেখতে পারেননি মিন্নি

মিন্নির বাবা বিকল্প পরিবহনে বরগুনায় পৌঁছান। তার আগেই রিফাতের লাশ তাঁর বাবার বাসা বড়লবণগোলা গ্রামে পৌঁছায়। মিন্নির পরিবার লাশ দেখতে রিফাতের বাসায় যায়।

বড়লবণগোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেন রিফাতের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। ঘটনার পর ২৮ এবং ৩০ জুন তাঁর সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘২৭ জুন বিকেল তখন ৪টা হবে। ওই সময় মিন্নি তাঁর পরিবারের সঙ্গে রিফাতের বাসায় প্রবেশ করছিলেন। তখন রিফাতের বন্ধুরা জনের নেতৃত্বে মিন্নির পরিবারকে বাধা দেয়।’ বেল্লাল ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘জনের বিশেষ ভূমিকার কারণে সেখানকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেখানকার নারী-পুরুষ মিন্নির পরিবারের দিকে তেড়ে আসে। লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে মিন্নির পরিবার রিফাতের বাসার লাগোয়া তাঁর চাচা আব্দুস সালামের বাসার দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। রিফাতের জানাজার আগে-পরে তাঁর লাশ দেখার জন্য জনের কাছে অনুনয়-বিনয় করেন মিন্নি। কিন্তু মিন্নিকে তাঁর স্বামীর লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মিন্নির শ্বশুরের সহযোগিতায় তাঁরা ওই বাসা থেকে বের হন।

খুনের ঘটনার পরের দিন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়। কিন্তু মামলা দায়েরের আগে মিন্নির সঙ্গে তাঁর শ্বশুর কোনো যোগাযোগ করেননি। এদিকে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মিন্নিকে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এখন যাকে মিডিয়া হিরো বানাচ্ছে, সে-ই এ ঘটনার ভিলেন হতে পারে।’ এ নিয়ে কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনের পর সুনাম দেবনাথ তাঁর স্ট্যাটাসের ওই অংশটুকু মুছে ফেলেন।

২৮ জুন সকালে এ প্রতিবেদক রিফাত শরীফের বাসায় যান। তখন রিফাতের চাচাশ্বশুর বরগুনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেহ ও তাঁর স্ত্রী সেখানে ছিলেন। রিফাতের মা, বাবা আর বোনও ছিলেন। তখন রিফাতের বাবা বলেন, পুলিশের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ দেখে জনের সহযোগিতায় আসামিদের শনাক্ত করে তিনি মামলা দায়ের করেছেন। ছেলেকে চিকিৎসা থেকে শুরু করে কবর দেওয়ার কাজটিও জন করেছে। জনের সঙ্গে রিফাতের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। দুলাল শরীফের দাবি, ঘটনার সময় জন থাকলে রিফাতের ওই ঘটনা ঘটত না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসামিদের সঙ্গেও একসময় জনের ভালো সম্পর্ক ছিল। মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। মামলায় জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে যানা গেছে, ঘটনার পর রিফাতের কাছের আত্মীয় বলতে মিন্নির বাবাই সব সময় কাছে ছিলেন। কিন্তু মামলায় মিন্নির বাবাকে সাক্ষী করা হয়নি। উল্টো রিফাতের দুই চাচার নাম সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আব্দুস সালাম শরীফ রিফাত নিহত হওয়ার পর শের-ই-বাংলা হাসপাতালে আসেন। অপর চাচা আ. আজিজ শরীফ ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এজাহার ঘেঁটে জানা গেছে, বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রইসুল আলম রিপনের ছেলে মনজুরুল আলম জন ছাড়া ১০ সাক্ষীর আটজনই রিফাতের গ্রামের বাড়ি উত্তর বড়লবণগোলা গ্রামে। তাঁদের অধিকাংশই রিফাতের আত্মীয়, যারা রিফাতকে কোপানোর সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নি গ্রেপ্তারের আগে তাঁর সঙ্গে মাইঠা এলাকায় তাঁর বাবার বাসায় এ প্রতিবেদকের কথা হয়। মিন্নি বলেছিলেন, ‘বরগুনা হাতপাতাল থেকেই আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় জন। বলে মহিলাদের নিলে ঝামেলা। পরের দিন বিকেলে জনই আমার স্বামীর লাশ দেখতে বাধা দেয়। স্বামীর কবরে মাটিও দিতে পারিনি। পরিবেশটা এমনভাবেই তৈরি করা হয় যে আমার সঙ্গে বিয়ের কারণেই রিফাতকে খুন করা হয়েছে।’ মিন্নি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জনের সঙ্গে আমার দূরত্ব। কারণ জন মাদকের সঙ্গে জড়িত। রিফাতকেও একই পথে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি বাধা দেওয়ায় আমার ওপর জন ক্ষুব্ধ ছিল।’

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘জনের সঙ্গে রিফাতকে চলাফেরা করতে আমি নিষেধ করতাম। কারণ জনের ব্যাপারে শহরের মানুষের নেতিবাচক ধারণা আছে। ওই ঘটনার জের ধরেই রিফাতকে কোপানোর পর জন আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার শুরু করে। বন্ধুদের নিয়ে লাশকাটা ঘরের সামনে আমাকে লাঞ্ছিত করেছিল। জামাইয়ের লাশ নেওয়ার জন্য আমি টাকা দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করেও তাতে আসতে পারিনি। মামলা দায়েরের ব্যাপারে জন সম্পৃক্ত ছিল। মিন্নিকে ফাঁসানোর জন্য মামলায় তাঁকে (মিন্নি) বাদী এবং আমাকে সাক্ষী করেনি।’

জন সম্প্রতি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিফাতকে যখন বরিশালে নেওয়া হলো, তখন মিন্নির বাবা চিকিৎসার টাকা দেননি। এ নিয়ে রিফাতের বন্ধুরা ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের কেউ কেউ আবেগবশত তাঁর (মিন্নির বাবা) সঙ্গে বাজে আচরণ করেছে।’ মিন্নির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওর ব্যক্তিগত বিষয়গুলো আমি অবগত ছিলাম। তাই রিফাত আমার কাছের বন্ধু হলেও বিয়েতে আমি যাইনি। রিফাতের পরিবারের ধারণা ছিল মিন্নিকে রিয়ের কারণেই রিফাতের এই অকালে চলে যাওয়া। তাই মিন্নির পরিবার যখন রিফাতের লাশ দেখার চেষ্টা করেছিল, তখন রিফাতের ক্ষুব্ধ আত্মীয়রা চড়াও হয়েছিল। আমিই মিন্নির পরিবারকে লাঞ্ছিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে নিরাপদে বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম।’ মামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘রিফাতের বাবা মামলার বাদী। তিনিই এ ব্যাপারে জানেন।’

রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজী বলেন, ‘নয়নের সঙ্গে একসময় রিফাতের যোগাযোগ ছিল। মিন্নিকে বিয়ে করার পর নয়নের সঙ্গে রিফাতের দূরত্ব হয়। এ নিয়ে রিফাতকে বিভিন্ন সময় নয়ন হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু তা আমলে নেইনি। বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ ছিল। রিফাতকে মাদক দিয়ে নয়ন পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এই সব ঘটনার কারণে মিন্নিকে মামলার বাদী না করে সাক্ষী করেছিলাম। কিন্তু বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়নের মায়ের বক্তব্যের পর মিন্নির বিষয়ে আমার সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তাই সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছিলাম।’ মিন্নির বাবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছিল। সেই তথ্য গোপন করে তিনি আমার ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। যার কারণেই আমার ছেলেটার এই পরিণতি। আমি মিন্নির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

মামলার প্রধান আসামি নয়ন ২ জুলাই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। ওই দিন সকালেই সংসদ সদস্য শম্ভু নিহত রিফাত শরীফের বাড়িতে যান। তিনি রিফাতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। সে ঘটনার একটি ভিডিও কালের কণ্ঠ’র হাতে রয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাতের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শম্ভু বলছেন, ‘দুটি আইন পাসের জন্য সংসদে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। সে কারণেই আমি ঘটনার সময় আসতে পারিনি। তবে ঘটনার পর থেকেই রিফাতের বাবার সঙ্গে আমি নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। মামলা করতে দেরি হচ্ছে কেন? দ্রুত মামলা করার জন্য আমি তাঁকে বারবার বলেছি। সে যথাযথভাবে মামলাটি করেছে। মামলায় যদিও সে (রিফাতের বাবা) একটা নির্দিষ্টসংখ্যক আসামি দিয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, আরো অনেক লোক এর সঙ্গে জড়িত। এর পেছনে একটা গ্রুপ আছে।’ ওই সময় রিফাতের বাবাকে এমপির ডান পাশে দাঁড়ানো দেখা যায়। 

মিন্নির চিকিৎসার জন্য আইনজীবীদের আবেদন নাকচ

কালের কণ্ঠ’র বরগুনা প্রতিনিধি জানান, রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে আদালতে উপস্থিত করা এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আইনজীবীদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মিন্নির আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম জানান, মিন্নির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি বাতিলের জন্য তাঁর স্বাক্ষর নিতে এবং মিন্নির চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাজির করার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়ে আবেদন নাকচ করে দেন। এর আগের দিন মিন্নির পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করেন একই আদালত।

রিশান ফরাজীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রিফাত হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পাঁচ দিনের রিমান্ডের চার দিন শেষে তাকে গতকাল বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে রিশান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রিশানকে আদালতে হাজির করা হলে সে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।’

রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা সবাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

মন্তব্য