kalerkantho

নদীর পানি বৃদ্ধি ও বাঁধ ভেঙে বন্যার বিস্তৃতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



নদীর পানি বৃদ্ধি ও বাঁধ ভেঙে বন্যার বিস্তৃতি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা গ্রামে বন্যার পানিতে বাড়িঘর অর্ধনিমজ্জিত। ছবি : কালের কণ্ঠ

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধি ও বাঁধ ভেঙে দেশের মধ্যাঞ্চলে গতকাল শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শেরপুর-জামালপুর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। টাঙ্গাইলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে চার উপজেলার নতুন নতুন এলাকা। কুড়িগ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাড়ে সাত লাখ মানুষ। নওগাঁর সিংড়ায় সেতু ভেঙে ৩০টি গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রানীনগরে নান্দাইবাড়ী-মালঞ্চি বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে তিনটি গ্রাম। ভাঙন তীব্র হয়েছে পদ্মার তীরবর্তী শরীয়তপুরের শিবচরে। পানিতে ডুবে ও সাপের ছোবলে জামালপুর, শেরপুর ও কুড়িগ্রামে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে এক শিশু। আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।

শেরপুর : ব্রহ্মপুত্র নদে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী ও নকলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান ও শিমুলতলী ডাইভারশনের (কজওয়ে) ওপর দিয়ে প্রায় আট ফুট উচ্চতায় প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শেরপুর-জামালপুর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। ফলে গতকাল ভোর থেকে ওই সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শেরপুর-জামালপুর মহসড়ক হয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার মোস্তফা মিয়া জানান, গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ২১ ঘণ্টায় পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যে গতিতে পানি বাড়ছে, তাতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, ওই ইউনিয়নে সব গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চুনিয়ার চর, সাতপাকিয়া, কুলুর চর, ডাকপাড়া ও দিকপাড়া এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন।

শ্রীবরদী উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

শেরপুরে বন্যার পানিতে ডুবে গতকাল দুই স্কুলছাত্রসহ তিন শিশু প্রাণ হারায়। নিখোঁজ রয়েছে আরেক শিশু।

তারা হলো সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া এলাকার খলিলুর রহমানের মেয়ে খুশি আক্তার (৬), চরমুচারিয়া ইউনিয়নের চরবাবনা এলাকার মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া (৭) ও শেরপুর পৌর এলাকার উত্তর গৌরীপুর মহল্লার নায়েব আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৩)। নতুন ভাগলগড় গ্রামের সামেদুল ইসলামের ছেলে রুবেল হোসেন (১৩) বন্যার পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছে।

টাঙ্গাইল : ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী অংশে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ ভেঙে যমুনার পানি প্রবল বেগে ঢুকছে পূর্বাঞ্চলে। ফলে ভূঞাপুরসহ গোপালপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে শতাধিক গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের সঙ্গে তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় আট সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ৯৯ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী ১৩০ সেন্টিমিটার ও ঝিনাই নদ ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ২২ ইউনিয়নের প্রায় ১০৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বন্যার কারণে জেলায় বোনা আমন এক হাজার ১৭৫ হেক্টর, রোপা আমন (বীজতলা) ৩৩ হেক্টর, আউশ ৬০৮ হেক্টর এবং সবজির ৯৬ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

গতকাল ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবীর বিন আনোয়ার ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিপি।

এ ছাড়া যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধিতে নাগরপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে টেপিবাড়ির ভাঙন বৃদ্ধি ঠেকাতে গতকাল সকাল থেকে দুই পাশে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ভূঞাপুরের মাদারিয়া এলাকায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেখানে ভাঙন মোকাবেলায় কাজ চলছে।

কুড়িগ্রাম : জেলায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ব্রহ্মপুত্র চিলমারী পয়েন্টে বিপত্সীমার ১১৫ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৯ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদী ব্রিজ পয়েন্টে ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল।

রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় শতভাগ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েকটি সড়ক ভেঙে চিলমারী উপজেলা পরিষদ, থানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে রেল চলাচল। কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়ক ও রেললাইনে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

উলিপুর পৌর এলাকার ভাটিয়াপাড়ায় সীমা (দেড় বছর) নামে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। তার বাবার নাম সাদেক মিয়া। জেলায় বন্যায় এ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রশাসন জানায়, জেলার বন্যাকবলিত ৫৬টি ইউনিয়নের ৫৭৮টি গ্রামের সাড়ে সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যাকবলিত বেশির ভাগ এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

নাটোর : সিংড়া উপজেলায় বন্যার পানির তোড়ে বক্তারপুর ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা সদরের সঙ্গে অন্তত ৩০টি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্রিজ ভেঙে দ্রুত পানি নামার কারণে আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এদিকে রানীনগরে নান্দাইবাড়ী-মালঞ্চি নামক স্থানে গতকাল ভোরে ছোট যমুনার বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। মালঞ্চি গ্রামে নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কে দুটি কালভার্টের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। এতে আত্রাই, রানীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

জামালপুর : যমুনা নদীর পানি জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার কমলেও গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিপত্সীমার ১৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যা পরিস্থিতির সামান্য কিছুটা উন্নতি হলেও টানা আট দিনে যমুনা নদী-তীরবর্তী ও বিস্তীর্ণ দুর্গম চরাঞ্চলে সাতটি উপজেলায় আট লাখ এক হাজার ৮০ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে বিপত্সীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বকশীগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় বন্যার ব্যাপক অবনতি ঘটছে। সদরের মেষ্টা, কেন্দুয়া, তিতপল্লা, তুলসীরচর ও লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানিতে ডুবে চারজন ও সাপের ছোবলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামপুর উপজেলার দক্ষিণ গিলাবাড়ী গ্রামে সামিউল ইসলাম মণ্ডলের ছেলে মশিউর রহমান (৩০) গতকাল সকালে ঘরের ভেতরেই পানিতে ডুবে মারা যান। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন। বন্যার কারণে দাফনের জায়গা না থাকায় স্বজনরা তাঁর লাশ নৌকাযোগে ইসলামপুর পৌর শহরে নিয়ে দাফন করেন। একই দিন সকালে বন্যার পানিতে মাছ ধরার সময় জালে আটকা পড়ে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে আবু বক্কর (৫০) নামের এক কৃষক, গোসল করতে নেমে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারি গ্রামের রাশেদ খানের ছেলে শাকিব খান (৬) ও বকশীগঞ্জ পৌরসভার চর কাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের পান ব্যবসায়ী সুজন মিয়া (২৫) পানিতে ডুবে মারা যান। সুজন গোসল করতে গিয়ে পাশের ইউনিয়ন মেরুরচরের ঘুঘুরা সেতু থেকে লাফ দিয়ে আর উঠতে পারেনি। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামে বন্যাকবলিত মজিবুর রহমান (৭০) নামের এক বৃদ্ধ সাপের ছোবলে মারা যান।

ধুনট (বগুড়া) : যমুনা নদীর পানি বগুড়া অংশে কমতে শুরু করেছে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত এখানে নদীর প্রবাহ তিন সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে সড়ক ও ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বগুড়ার সারিয়াকান্দির কালিতলা ও ধুনটের শহড়াবাড়ি খেয়াঘাটের সঙ্গে ৩০ রুটের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘাট বন্ধ থাকায় নৌপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ।

সিরাজগঞ্জ : কাজিপুরের দুর্গম চরাঞ্চলসহ আটটি ইউনিয়নের ২৮ হাজার ৫৮৫টি পরিবার পানিবন্দি। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে এসব পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারি যৎসামান্য ত্রাণ দেওয়া হলেও তা পাচ্ছে রাস্তার দুই পাশের বানভাসিরা। নির্জন চরের ঘরবাড়িতে পৌঁছাচ্ছে না।

তাড়াশ উপজেলায় গত তিন দিনে ছয়টি ইউনিয়নে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চলনবিল এলাকার তাড়াশ উপজেলার সগুনা, নওগাঁ, মাগুড়া বিনোদ ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ২০০ হেক্টর বোনা আমন ধান তলিয়ে গেছে।

রাজবাড়ী : গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি ২৪ সেন্টিমিটার বেড়ে গতকাল বিপত্সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কালুখালী, সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার বরাটের নয়নসুখ, মিজানপুর, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া এবং কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের রাজবাড়ী সেনানিবাস এলাকা ও পাংশার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুর : সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। গতকাল ওই ইউনিয়নের সাদীপুর, গদাধরডাঙ্গি ও কাদিরের বাজার এলাকার ফরিদপুর-চরভদ্রাসন আঞ্চলিক সড়ক প্লাবিত হয়েছে।

মাদারীপুর : শিবচরে তিনটি ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরের হাজারো পরিবার। গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৩০টি ঘরবাড়িসহ কয়েক দিনে শতাধিক ঘরবাড়ি, একটি মাদরাসা ও ওকালভার্ট বিলীন হয়েছে নদীতে। ভাঙনের মুখে পড়েছে পাঁচটি স্কুল, দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাটবাজারসহ তিন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও হাজারো বসতবাড়ি।

এদিকে পদ্মায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল কাঁঠালবাড়ীর চারটি ফেরিঘাট তলিয়ে গেছে। চার-পাঁচটি ফেরি কোনোক্রমে চলাচল করছে। ফেরির অচলাবস্থার কারণে এই রুটে দক্ষিণাঞ্চলের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকের কাঁচা পণ্য।

মন্তব্য