kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

সাতটি আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

সবার আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবার আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছি

মন্ত্রিসভার সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য সাতটি আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার।

দেশে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জলাধার, ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করার পর আমাদের জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সুপরিকল্পিতভাবে উন্নতি ঘটাতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষকে একটি মানসম্মত জীবনযাত্রা উপহার দেওয়ার জন্য আমরা স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, আবাসন, কলকারখানা যা-ই নির্মাণ করি না কেন, তা সুপরিকল্পিত উপায়ে সম্পন্ন করতে চাই। আমরা  এলোমেলোভাবে কোনো নির্মাণকাজের অনুমতি দিতে চাই না।’

দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে সংগতি রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো পরিকল্পনা করার সময় আপনাদের জলাশয়গুলোর কথা মাথায় রাখতে হবে। কারণ এগুলো পানির আধার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এগুলো পানি ধরে রাখে, যা জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়তা করে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই জলাশয়গুলো রক্ষায় পরিকল্পনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মন্ত্রিসভার সদস্য, সচিব ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য আধুনিক সুবিধাসংবলিত এক হাজার ৬৭১টি আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করেছি।’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব প্রকল্পের চারটি সম্পন্ন করেছে গণপূর্ত বিভাগ। অন্য তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে জাতীয় গৃহায়ণ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে আবাসন সুবিধা পেয়ে তাঁরা তাঁদের দায়িত্বের প্রতি আরো মনোযোগী হবেন।’ তিনি বলেন, এরই মধ্যে তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানীতে আবাসন সুবিধা আরো ৪০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০১৪ সালে এটা ছিল মাত্র ৮ শতাংশ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরো ১৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ছয় হাজার ৩৫০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া ১৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে আরো এক হাজার ৬৭৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক হাজার ৫১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে তাদের মধ্যে বিতরণ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলায় দুই হাজার ৮১৬টি ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর সরকার সবার জন্য আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নিম্নমধ্যম আয়ের জনগণের জন্য ৩৩ হাজার ৫২৬টি প্লট উন্নয়ন এবং আট হাজার ৯২২টি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের ছয় হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য নির্মাণ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরো ১৮ হাজার ১০৫টি ফ্ল্যাটের উন্নয়ন এবং আট হাজার ৩৯টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ চলছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশব্যাপী ১৮ হাজার ১৪৮টি প্লট উন্নয়ন এবং এক লাখ ৪১ হাজার ৬৮৭টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্লট ও ফ্ল্যাটের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে জনগণের আবাসন সমস্যা দ্রুত হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি লোককেও বস্তিতে বসবাস করতে দিতে চাই না। কাজেই আমরা রাজধানীর বস্তিবাসীর জন্য এখন ফ্ল্যাট নির্মাণ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী পরে নগরীর ইস্কাটন রোডে গ্রেড-১ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত তিনটি ভবনের একটি পরিদর্শন করেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সাতটি প্রকল্পের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রেসসচিব বলেন, বৈঠকে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের মধ্যে নৌপথের কানেকটিভিটি বাড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য