kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

কমলাপুরে ট্রেনে শিশু ধর্ষণ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

এক দিন পরে মামলা নির্যাতিত হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমলাপুরে ট্রেনে শিশু ধর্ষণ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

রাজধানীর কমলাপুরে রেলস্টেশনে ট্রেনের ভেতরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১২) আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে চলন্ত ট্রেন থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে যাত্রীরা। সম্রাট (২০) নামে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশেও দেয় তারা। এ ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে (কমলাপুর) থানায় একটি মামলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে সম্রাট। থানায় এক দিন রাখার পর গতকাল সন্ধ্যায় মেয়েটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানায়, তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। সে কমলাপুর রেলস্টেশনে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করে।

পুলিশ ও স্বজনরা বলছে, ভুক্তভোগী মেয়েটির গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। ঢাকার মানিকনগরে সে এক আত্মীয়র সঙ্গে থাকে ও একটি স্কুলে পড়ে। সেই আত্মীয় মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার বিকেলে হাসপাতালের নিচে নামে মেয়েটি। সেখান থেকে তাকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সম্রাট ফুঁসলিয়ে কমলাপুর নিয়ে যায়। সে মেয়েটিকে বলে, তেজগাঁও স্টেশনে তারা ট্রেন থেকে নেমে যাবে। এর পর কমলাপুরে যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টয়লেটে আটকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনে মেয়েটিকে অস্বাভাবিক ও অসুস্থ দেখে যাত্রীরা পরিচয় জানতে চায়। সম্রাটের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন করে। তখন দুজন সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। একপর্যায়ে মেয়েটি তাকে ফুঁসলিয়ে ট্রেনের টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণের কথা জানায়। এরপর বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন থামলে পুলিশের কাছে মেয়েটিকে হস্তান্তর করা হয়। সম্রাটকেও আটক করে পুলিশে দেয় যাত্রীরা। ভুক্তভোগীকে বুধবার রাতে প্রথমে বিমানবন্দর থানা-পুলিশে ও পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতেই পুলিশ মেয়েটিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ধর্ষণের ঘটনা শুনে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

খবর পেয়ে সেখানে যান সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল শিকদার। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুধবার রাত থেকে আজ (গতকাল) দুপুর পর্যন্ত মেয়েটিকে পুলিশ বসিয়ে রাখে শেষে মামলা নিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ধর্ষণের পরে অসুস্থ শিশুটি থানায় বসে থেকে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছে।’

রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ওমর ফারুক বলেন, দ্রুত মামলা করে আসামি সম্রাটকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুশো বণিক বলেন, রাতে ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্তের পর তার মা আসতে দেরি হওয়ায় মামলা করতে দেরি হয়েছে। মামলার পরই গতকাল মেয়েটিকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা