kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

চারঘাটে দুর্ঘটনা

গত রাত পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত রাত পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় তেলবাহী ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় লাইনচ্যুত তেলবাহী ট্রেনের আটটি ওয়াগনের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী। বিশেষ করে আগে থেকেই যাদের ঢাকার উদ্দেশে টিকিট কাটা ছিল তারা পড়েছে বেশি ভোগান্তিতে। তারা টিকিটের জন্য ছোটে বাস কাউন্টারে। কিন্তু বাসগুলো এত বেশি যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেনি। ফলে অনেক  যাত্রীকে ঢাকাযাত্রা বাতিলও করতে হয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় চারঘাটের হলিদাগাছিতে তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতেই ওয়াগনগুলো উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। তবে রাতে বৃষ্টি ও আলোস্বল্পতার কারণে ও রেললাইন ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটে।

জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ওয়াগনগুলো লাইনচ্যুত হওয়ার সঠিক কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। তারা প্রতিবেদন জমা দিলে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, বুধবার রাত থেকে ক্রেনের সাহায্যে ওয়াগনলোকে শূন্যে উঠিয়ে লাইনে নিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে। এর আগে ভেঙে যাওয়া রেললাইন কেটে সরিয়ে দিয়ে নতুন লাইন প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। অনেক স্থানে পুরনো ও দুর্বল স্লিপার সরিয়ে নতুন স্লিপারও বসাতে হচ্ছে। এতে ওয়াগনগুলো উদ্ধারে বেশি সময় লাগছে। এ ছাড়া বুধবার রাতজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়টি ওয়াগন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্য দুটি ওয়াগন উদ্ধারে কত সময় লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

হলিদাগাছিতে দুর্ঘটনার পর বুধবার রাতের রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস, ঈশ্বরদীগামী কমিউটার ট্রেন, গতকাল সকালের আন্ত নগর ট্রেন বনলতা, সাগরদাড়ি, সিল্কসিটি, কপোতাক্ষ ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। টিকিট ফেরত নিয়ে যাত্রীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত যাত্রীদের ২৬ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। যেসব যাত্রী টাকা পায়নি, তাদের পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখে ছেড়ে আসা আন্ত নগর ট্রেন সিল্কসিটি নাটোরের আবদুলপুরে এবং বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহীর আড়ানিতে আটকে পড়ে আছে। এতে পুরো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।

আনিসুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান, শুক্রবার সকালে তাঁর একটি নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে ঢাকায়। সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি আগেই রাজশাহী থেকে ধূমকেতু ট্রেনের টিকিট কাটেন বৃহস্পতিবার রাতের। কিন্তু এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেন ছাড়ার কোনো নিশ্চয়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি লোকাল একটি বাসের টিকিট সংগ্রহ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ভালো মানের বাসের টিকিট না পেয়ে লোকাল বাসের টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

তেলবাহী ট্রেনটি খুলনা থেকে রাজশাহীর হরিয়ানের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

 

মন্তব্য