kalerkantho

তিন অপরাধে দৃষ্টি আইসিসি কৌঁসুলির

নিপীড়িত রোহিঙ্গারা ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মত জানাতে পারবে

মেহেদী হাসান   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন অপরাধে দৃষ্টি আইসিসি কৌঁসুলির

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধিতে বর্ণিত তিনটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রকাশ ঘটেছে। আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা এমনটিই ধারণা করছেন। অপরাধ তিনটি হলো—‘ডিপোর্টেশন’ (নির্বাসন), ‘আদার ইনহিউম্যান অ্যাক্টস’ (অন্যান্য অমানুষিক কাজ) ও ‘পারসিকিউশন’ (জাতি বা ধর্মগত কারণে নিপীড়ন)। তাই প্রাথমিকভাবে ওই তিনটি সম্ভাব্য অপরাধ সামনে রেখেই তদন্ত শুরু করার অনুমতি চেয়েছেন ফেতু বেনসুদা। এ ছাড়া তদন্তের সময় রোম সংবিধিতে বর্ণিত অন্য অপরাধগুলোরও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন।

এদিকে আইসিসির কৌঁসুলি গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছেন, নিপীড়িত রোহিঙ্গা বা তাদের আইনি প্রতিনিধিরা তদন্ত শুরু করার বিষয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত আইসিসিতে অভিমত জানাতে পারবেন। আইসিসির ওয়েবসাইট থেকে পিডিএফ ফরম ডাউনলোড করে দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি বা ফরাসিতে তা পূরণ করার পর ডাকযোগে (International Criminal Court Victims Participation and Reparations Section Situation in Bangladesh/Myanmar PO Box 19519 2500 CM, The Hague, The Netherlands) বা ই-মেইলে  ([email protected]) মত পাঠানো যাবে। এ ছাড়া অনলাইনে (https://www.icc-cpi.int/vr/)  ফরম পূরণ করেও মত দিতে পারবেন নিপীড়িত রোহিঙ্গা বা তাদের আইনি প্রতিনিধিরা।

আইসিসির কৌঁসুলি সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছেন, মিয়ানমার রোম সংবিধির সদস্য না হওয়ায় সেখানে সংঘটিত সম্ভাব্য সব অপরাধের তদন্ত তিনি ও তাঁর দপ্তর করবে না। তবে বাংলাদেশ রোম সংবিধির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আইসিসির বিচারকদের অনুমতি সাপেক্ষে এ দেশে সংঘটিত অপরাধগুলোর অংশবিশেষের ওপর তাঁর তদন্তের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হবে।

ফেতু বেনসুদা জানান, নির্বাসনের তদন্ত করা বলতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারে সংঘটিত সম্ভাব্য হিংস্র কর্মকাণ্ডের ওপর নিবিড় দৃষ্টি দিতে চান তিনি। মিয়ানমারের কোনো ধরনের হিংস্র কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা ছাড়া আর যথার্থ কোনো উপায় ছিল না, সেদিকেও তিনি দৃষ্টি দিতে চান।

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সম্ভাব্য অপরাধ বিষয়ে কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালতকে জানিয়েছেন, ‘নির্বাসন’ রোম সংবিধির ৭(১)(ঘ) ধারা মোতাবেক বিচারযোগ্য অপরাধ। পালিয়ে যেতে বাধ্য করার মতো জবরদস্তিমূলক কাজকর্ম মিয়ানমারের ভেতর ঘটলেও ওই অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকেছে। ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করা ‘নির্বাসন’ অপরাধের একটি আবশ্যিক উপাদান।

‘অন্যান্য অমানুষিক কাজকর্ম’ রোম সংবিধির ৭(১)(ট) ধারা মোতাবেক বিচারযোগ্য অপরাধ। এর ব্যাখ্যা হিসেবে আইসিসির কৌঁসুলি বলেছেন, প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনের ইচ্ছাকৃত এবং গুরুতর লঙ্ঘনের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদে ও মানবিকভাবে তাদের মূল রাষ্ট্রে, যেখানে তাদের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, সেখানে ফেরার অধিকার খর্ব করে দারুণ দুঃখভোগ করানো বা গুরুতর জখম ঘটানো। রোহিঙ্গাদের ওপর এটি সংঘটিত হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ আছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতি বা ধর্মগত কারণে নিপীড়ন’ প্রসঙ্গে আইসিসির কৌঁসুলি আদালতকে বলেন, রোম সংবিধির ৭(১)(জ) ধারা মোতাবেক, নির্বাসন করা এবং প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনে প্রত্যাবর্তনের অধিকারের ইচ্ছাকৃত ও গুরুতর বঞ্চনা হয়েছে বা হচ্ছে।

আইসিসিতে দাখিল করা আবেদনপত্রে ফেতু বেনসুদা রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের পর মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নাম-নিশানা মুছে ফেলা সম্পর্কিত তথ্যও উল্লেখ করেছেন। সর্বোপরি, তিনি নিশ্চিত যে সেখানে সংঘটিত অপরাধের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করার সম্ভাবনা এবং বিচারের যৌক্তিকতা আছে।

মন্তব্য