kalerkantho

সাকিব বললেন

সুযোগগুলো পুরোপুরি নিতে পারিনি

সাইদুজ্জামান, লন্ডন থেকে   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সুযোগগুলো পুরোপুরি নিতে পারিনি

ছবি : মীর ফরিদ

‘ম্যান অব দ্য মোমেন্ট’ তিনি অবশ্য অনেক আগে থেকেই বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মুখ। লন্ডনের রয়াল ল্যাংকাস্টার হোটেলের লবিতে যখনই নামছেন, উত্সুক ভক্তকুল ঘিরে ধরছে সাকিব আল হাসানকে। অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য তাঁর ২০১৯ বিশ্বকাপে। এতে ব্যক্তিগত তৃপ্তি আছে, তবে সেমিফাইনালের আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার হতাশাও আছে। সেসব নিয়েই গতকাল লন্ডনের উষ্ণ দুপুরে পাওয়া গেল তাঁকে হোটেলের সামনে

 

প্রশ্ন : দারুণ একটা বিশ্বকাপ গেল আপনার। টপ পারফরমার সাকিব আল হাসান কিভাবে দেখছেন এটাকে?

সাকিব আল হাসান : ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই ভালো। খুবই খুশি। যে ধরনের মানসিকতা নিয়ে এসেছিলাম, যে ধরনের ইচ্ছা ছিল, যেমন তাগিদ ছিল, সেভাবেই হয়েছে। সেদিক থেকে সন্তুষ্ট।

 

প্রশ্ন : গত বিশ্বকাপে আপনার পারফরম্যান্স তেমন ভালো ছিল না। এবার বিশেষ কী প্রস্তুতি ছিল, এত ভালো করার ক্ষেত্রে?

সাকিব : যে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম, আত্মবিশ্বাস ছিল যে প্রথম ম্যাচ থেকেই ভালো কিছু হবে বলে মনে হচ্ছিল। আগের প্রতিটি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে রান ছিল। কিন্তু পরে আর সেভাবে পারিনি। ওটারও একটা তাগিদ ছিল যে মোমেন্টাম পাওয়ার যেন সেটা ধরে রাখতে পারি।

 

প্রশ্ন : আপনার ধারাবাহিকতা সব সময়ই ছিল। তবু এবারের বিশ্বকাপে আপনার নৈপুণ্যে সবাই বিস্মিত। আপনি নিজেও কি?

সাকিব : না, আমি নিজে সারপ্রাইজড হইনি। কারণ আমি জানি কী চিন্তা করে এসেছিলাম। হ্যাঁ, এটা জানতাম যে হলে সবচেয়ে সেরা যেটি হতে পারে, সেটিই হয়েছে।

 

প্রশ্ন : আপনি নিজে এত ভালো খেললেন তবু দল সেমির আগেই ছিটকে গেল। নিজেকে কি দুর্ভাগা মনে হয়?

সাকিব : এটা নিয়ে সেভাবে চিন্তা করি না। অবশ্যই সেমিফাইনালে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ আমাদের ছিল। তবে সেসব নিয়ে তো আমি কখনো চিন্তা করি না। রেকর্ডটেকর্ড নিয়ে বেশি ভেবে খেলার মানুষ আমি নই।

 

প্রশ্ন : সেই আয়ারল্যান্ড সফর থেকে ধরলে তো অনেক লম্বা ট্যুর। মানসিকভাবে কতটা ক্লান্ত আপনি?

সাকিব : সবশেষ দুটি ম্যাচে মানসিকভাবে ক্লান্ত মনে হয়েছে নিজের কাছে। তার পরও ফিটনেস লেভেল ভালো ছিল বলে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। হয়তো মাঝখানে দু-একটি দিন ফিটনেস নিয়ে কাজ করলে আরেকটু ভালো হতো। কিন্তু তাতে আবার ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার সুযোগও ছিল। দুটিকে ব্যালান্স করতে পারা কঠিন ছিল। সেদিক থেকে শেষ দুটি ম্যাচ অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল।

 

প্রশ্ন : দুটি সেঞ্চুরি করেছেন, সব ম্যাচেই রান করেছেন। এর মধ্যে কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

সাকিব : আফগানিস্তানের বিপক্ষে রান করতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে। ওদের যে ধরনের কোয়ালিটি স্পিনার ছিল এবং যে ধরনের উইকেটে খেলেছি, সেটিই মূল কারণ। তবে যদি খুব পছন্দের ইনিংস বলতে হয়, তবে সেটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেঞ্চুরি। অবশ্য সব কটিই তো ভালো লাগার। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি বেশি পছন্দের।

 

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের জন্য আপনার প্রস্তুতি একরকম ‘মিথ’ বলে মনে হয়েছে। এবার কেন এত কষ্ট করলেন? নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি?

সাকিব : বলা মুশকিল কী কারণে। কিন্তু মনে হয়েছে, এটা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো হয়েছে যে বিশ্বকাপে আসার আগে এটা মনে হয়েছে এবং ভালো প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পেরেছি।

 

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে এবারের পারফরম্যান্সের পর নিজেকে কতটা উঁচুতে দেখছেন?

সাকিব : নিজেকে কোনো লেভেলেই দেখি না। তবে যখন মনে হয় ভালো খেলেছি, ভালো তো অবশ্যই লাগে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আমিও খুশি। তবে এসব নিয়ে সেভাবে চিন্তা করি না।

 

প্রশ্ন : আপনার সঙ্গে যদি অন্যদের নৈপুণ্যের তুলনা করি...মানে সবারই কি আপনার মতো সমান ক্ষুধা ছিল?

সাকিব : কোচিং স্টাফদের ভেতর ইতিবাচক মানসিকতাই ছিল। বাকি কোন ক্রিকেটারের মনে কোনটা ছিল, বলা মুশকিল।

 

প্রশ্ন : তার পরও মাঠে দেখে কি মনে হয়েছে, সবাই শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করেছে?

সাকিব : মাঠে সবাই সবার দিক থেকে শতভাগ দেয়। বাইরে থেকে অনেক সময় অনেক রকম লাগতে পারে, কিন্তু ভেতরে সবাই সেরাটাই দেয়। এগুলো আসলে নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে আমি নিশ্চিত যে যার যার জায়গা থেকে সেরাটাই দিয়েছে।

 

প্রশ্ন : কিন্তু ফিল্ডিং দেখে তো সে রকম মনে হয়নি!

সাকিব : এগুলো আসলে আলোচনা করার ব্যাপার আমাদের ড্রেসিংরুমে, মিডিয়ায় নয়। যদি এ রকম আলোচনার সুযোগ আসে, আমার কথা বলার সুযোগ আসে, তখন টিম মিটিংয়েই বলব। আমি এসব নিয়ে টিম মিটিংয়েই বলতে চাই।

 

প্রশ্ন : অন্তত সেই ‘কিক’টার কথা তো বলুন! আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচের পরই বলেছিলেন যে বিশ্বকাপের পর জানাবেন কোন ‘কিক’ আপনাকে তাতিয়ে তুলেছিল।

সাকিব : কিছু জিনিস রহস্য হয়ে থাকাই ভালো। নইলে সেটা হারিয়ে যেতে পারে!

 

প্রশ্ন : সেমিফাইনালে উঠতে না পারা নিয়ে হতাশার কথাটা তো বলবেন নিশ্চয়?

সাকিব : অবশ্যই আক্ষেপ আছে, দলের দিক থেকে। কারণ আমাদের লক্ষ্যই ছিল সেমিফাইনালে খেলা। লক্ষ্য অর্জন না হলে আক্ষেপ তো থাকবেই। তবে আমি পারফরম করার পরও দল পারেনি বলে কোনো আক্ষেপ নেই। খারাপ লাগছে এ কারণেই যে দল হিসেবে খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা পারলাম না। কিংবা বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, সেটি ঠিকভাবে পূরণ করতে পারলাম না।

 

প্রশ্ন : এবারের বিশ্বকাপে সবাই বাংলাদেশের বড় দল হয়ে ওঠার কথা বলছে, কিন্তু এ প্রশংসা তো সেই কবে থেকেই মিলছে বাংলাদেশ দলের। আপনার কি মনে হয় ট্রফি জিতলেই একদিন সত্যিকারের বড় দল হয়ে উঠবে বাংলাদেশ?

সাকিব : ট্রফি দরকার কি না, সেটা বলা মুশকিল। ট্রফি সব দল পায় না। আবার ট্রফি না জেতা দলও বড় দলের মর্যাদা পায়। ইংল্যান্ড তো কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি, তবু ওরা বড় দল। ও রকম একটা কিছু হলেও চলবে। তবে এটা ঠিক যে যদি সেমিতে খেলতে পারতাম তাহলে যেভাবে আমাদের নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার ও বাইরের দেশের মানুষ বলাবলি করছেন, যেভাবে সবাই প্রশংসা করছেন, সেটার যথার্থ মূল্য দিতে পারতাম। সেখানেই আমাদের একটা গ্যাপ থেকে গেছে। দিন শেষে আজ (দক্ষিণ আফ্রিকা) জিতলে আমরা আট নম্বরে নেমে যাব। ওইভাবে চিন্তা করলে খুবই বাজে ফল। সব মিলিয়ে, সবাই আমাদের যেভাবে প্রশংসা করেছে সেটার যথার্থ মূল্যায়ন হয়তো আমরা দিতে পারলাম না। অনেকেই বলে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় আমরা একটা পয়েন্ট মিস করেছি। কিন্তু ওই ম্যাচ যদি আমরা হেরে যেতাম? তবে ওই ম্যাচ ছাড়াও আমাদের সুযোগ ছিল। আমরা সুযোগগুলো পুরোপুরি নিতে পারিনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা