kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

বন্ড অটোমেশন

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অগ্রগতি নেই

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও অগ্রগতি নেই

বন্ড সুবিধার অনিয়ম রোধ এবং ব্যবসায়ীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় বন্ড অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনা। সরকারের অর্থায়নে ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে চালুর কথা ছিল চলতি বছরের জুন মাসে। কিন্তু এই তিন বছরে অগ্রগতি বলতে অফিস নেওয়া ও কয়েকটি সেমিনার আয়োজন করা। বর্তমানে নতুন করে আবার প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে দুই বছর। এ অবস্থায় বন্ড অটোমেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বন্ড ব্যবস্থাপনায় হয়রানি দূর, আর্থিক অনিয়ম রোধ, খোলাবাজারে বন্ড সুবিধার পণ্য পাচার রোধ করে এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রকল্পটি চালু করতে কেন এত দেরি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন্ড অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা সোচ্চার হলেও রহস্যজনক কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কথা বলতে বন্ড অটোমেশন প্রকল্পের পরিচালক ও এনবিআর সদস্য সুলতান মোহাম্মদ ইকবালকে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধি পরিচয়ে একাধিকবার খুদে বার্তা দিয়ে চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরে উপপ্রকল্প পরিচালক হাসনাইন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পের কত শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে তা বলার সুযোগ নেই। তবে বাড়তি কিছু সময় লাগার কারণ কনসালট্যান্ট ফার্ম নিয়োগের প্রক্রিয়াগত। এতে কারো গাফিলতি নেই।’ 

তিনি বলেন, ‘স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সেমিনার করার উদ্দেশ্য হচ্ছে—বাস্তবায়নের ফাঁকগুলো চিহ্নিত করে তা অটোমেশনে যুক্ত করা। অটোমেশন ব্যবহারকারী-বান্ধব করা।’

প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেমিনার শেষে ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে আধুনিক যুগোপযোগী টেকসই বিজনেস প্রসেস চূড়ান্ত করা হবে। এরপর বিজনেস প্রসেস অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সবাই অনুমোদন করলে বন্ড অটোমেশন বিজনেস প্রসেস বাস্তবায়িত হবে।’

তিনি আরো বলেন, বিজনেস প্রসেস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে। তবে বন্ড অটোমেশন চালু হতে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দেশে পাঁচ হাজারের বেশি বন্ড লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড ব্যবস্থাপনা চলে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে। এই বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে বন্ড অটোমেশনে যুক্ত করা কঠিন বিষয়।

বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি ও এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে বন্ড অটোমেশন প্রকল্পের বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে এটি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেরি হওয়া একেবারেই কাম্য নয়। আমরা চাইব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিদ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হোক।’

বন্ড ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন হলে একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তার পণ্য উৎপাদনে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানি, গুদামে মজুদ করা, উৎপাদনে ব্যবহার এবং রপ্তানি—এই পুরো বিষয়টিই কম্পিউটার জেনারেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে, রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আসবে। পাশাপাশি বর্তমানে ইন টু বন্ড রেজিস্ট্রার (পণ্য গুদামে প্রবেশ) ও এক্স বন্ড রেজিস্ট্রার (গুদাম থেকে বের হওয়া পণ্য) এই দুই তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়ীদের হয়রানিতে পড়তে হবে না।

চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনার আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ড ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নিয়মিত অডিট ও কারখানার উৎপাদন তদারকি করা। অথচ আমাদের লোকবল আছে মাত্র ৭৫ জন। অটোমেশন বাস্তবায়িত হলে কম্পিউটারে বসেই তদারকি সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, বন্ড অটোমেশনের কাজটি দেওয়া হয়েছে কনসালট্যান্ট ফার্ম সিনেসিস আইটিকে। বন্ড অটোমেশনের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১ জুলাই। শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে।

জানতে চাইলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোন পদ্ধতিতে বা কয় ধাপে বন্ড ব্যবস্থাপনা চলছে তার একটি চিত্র জমা দিয়েছে কনসালট্যান্ট ফার্ম সিনেসিস। এখন কী করা হবে সেটি চূড়ান্ত হবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আরো অন্তত ১০টি সেমিনার আয়োজন করা হবে। এরপর সফটওয়্যারগুলো ইনস্টল করা হবে। তারপর চলবে ট্রায়াল রান। ফলে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।

একাধিক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী বলছেন, কৌশল করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। কারণ অটোমেশন চালু হলে বন্ড পণ্য চোরাকারবারিদের অন্তত ৮০ শতাংশের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। স্বনামধন্য যারা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার পণ্য গায়েব করে দিচ্ছে, অটোমেশন হলে সেটি করা অত সহজ হবে না। সুতরাং চক্রটি চাইবে এই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে।

 

 

মন্তব্য