kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

অলির তৎপরতা নিয়ে সন্দেহ বিএনপিতে

এনাম আবেদীন   

৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অলির তৎপরতা নিয়ে সন্দেহ বিএনপিতে

এলডিপি সভাপতি ড. অলি আহমদের সাম্প্রতিককালের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রকাশ্যে স্বাগত জানানো হলেও বিএনপির মধ্যে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। সে কারণে অলির ‘মুক্তি মঞ্চে’র সঙ্গে যাঁরা আছেন এবং নতুন যাঁরা যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁদের থামিয়ে দিতে পাল্টা তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি।

যদিও অলি আহমদসহ মুক্তি মঞ্চে যাওয়া নেতারা বিএনপির সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাইছেন না। ২০ দলীয় জোটে থেকেই তাঁরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে চাইছেন। শুধু তা-ই নয়, ২০ দলীয় জোট ভাঙার উদ্যোগ নিলে অলির নিজের দল এলডিপিতেই ভাঙন ধরার আশঙ্কা আছে বলে জানা গেছে। 

অলি আহমদ গত বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুতেই আমার দল বা মুক্তি মঞ্চের তৎপরতা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। কারণ নতুন নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমি আন্দোলন করছি। তা ছাড়া বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো কথা আমি বলছি না। তাই আমাকে নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে ২০ দলীয় জোটের প্রধান এই নেতা বলেন, ‘পৃথক মঞ্চ আমি কেন করেছি এটি বিএনপি সময় হলে বুঝতে সক্ষম হবে।’

এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘অলি আহমদ বা মুক্তি মঞ্চকে নিয়ে সন্দেহ অমূলক। কারণ বিএনপির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো তৎপরতা নেই।’ তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় থাকা নেতারাই এমন সন্দেহ করতে পারেন।

২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অলি আহমদের উদ্যোগ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তারা এখনো ২০ দলীয় জোটে আছেন বলে দাবি করছেন। তাই বিএনপির দলীয় ফোরামে এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গত ২৭ জুন এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে আলাদা প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ওই সময় ২০ দলীয় জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টি, জাগপা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরেও ছিলেন ন্যাশনাল মুভমেন্টের চেয়ারম্যান মুফতি আল্লামা মুহিব খান, বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্টের সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ শামসুল হুদা এবং উলামা-মাশায়েখ ইউনিটি নেতা হাফেজ মুফতি আবদুল্লাহ। তবে এই তিনজনের সঙ্গেই বিএনপির পক্ষ থেকে কথা বলে তাঁদের যেতে নিরুৎসাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের কয়েকজনকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ডেকে কথা বলেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা তাঁদের কোথাও না গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছেন।

জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের শরিক দু-একটি দলের পাশাপাশি মধ্যপন্থী ও ধর্মভিত্তিক হিসেবে পরিচিত কিছু দল ও ব্যক্তিকে মুক্তি মঞ্চে নেওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন অলি আহমদ। আগামী ১৬ জুলাই সিলেটে মুক্তি মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচি আছে। ওই কর্মসূচির পর মুক্তি মঞ্চের সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করা হবে।

এদিকে মুক্তি মঞ্চ গঠন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অলি আহমদের বাসায় যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের যাওয়া হয়নি। গত বুধবার অলি আহমদ বিদেশে চলে গেছেন। 

গত ১ জুলাই মুক্তি মঞ্চের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামে আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা। এ বিষয়েও বিএনপি নেতারা এহসানুল হুদার কাছে জানতে চেয়েছেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। যদিও এহসানুল হুদা কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর সঙ্গে বিএনপির কারো কথা হয়নি।

জানা যায়, আলাদা একটি মঞ্চে যোগদানের সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নিতে পারেনি জামায়াত। তা ছাড়া কৌশলগত কারণে এখনই বিএনপির বিপক্ষে অবস্থান নিতেও দলটি রাজি নয়। জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি মঞ্চে যোগ দিলে জোটের ভাঙন ত্বরান্বিত হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আবদুল হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জামায়াত এখনো ২০ দলের অংশ। আর নানা কারণে অলি আহমদের প্রগ্রামে যাওয়া হয়নি। তবে যাওয়া যেত না এমন নয়।’

সাম্প্রতিকালে অলি আহমদ প্রায় সব বক্তব্যে জামায়াতের পক্ষে কথা বলেছেন। অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিএনপি নেতারা জানান, মূলত নিজের নেতৃত্বাধীন মুক্তি মঞ্চকে অধিকতর কার্যকর করার জন্যই অলি আহমদ সাংগঠনিকভাব শক্তিশালী জামায়াতকে কাছে টানতে চাইছেন। বিএনপির নেতাদের আরো সন্দেহ, বাইরের শক্তির ইন্ধনেই অলি আহমদ মাঠে নেমেছেন। উদ্দেশ্য হলো ফাকা মাঠে রাজনীতিতে আরো সামনে আসা এবং সম্ভব হলে বিএনপির নেতৃত্বে ভাগ বসানো। কারণ সরকারের বাধায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করতে পারছে না। এমন সুযোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবি তুললে অলি আহমদকে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমর্থন করতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। যদিও বিএনপি ও ২০ দলের শরিক দলের বেশির ভাগ নেতাই মনে করেন, এমনটি বাস্তবে সম্ভব নয়।

 

মন্তব্য