kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

সংসদে অর্থমন্ত্রী

১২০০ কোটি টাকা সুদ এক বছরে মওকুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২০০ কোটি টাকা সুদ এক বছরে মওকুফ

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে সাতটি ব্যাংক এক বছরে (২০১৮ সালে) প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করেছে। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে গত বছর (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০১৮) ছয় হাজার ১৬৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে এক হাজার ১৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদ মওকুফ করেছে অগ্রণী ব্যাংক। এ ব্যাংকটি দুই হাজার আটটি ঋণের বিপরীতে ৪৯৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করেছে। আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক কোনো সুদ মওকুফ করেনি। অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংক ৬৬টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৪৩৫ কোটি ৯৬ লাখ, রূপালী ব্যাংক ২০৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ১৩৪ কোটি ২৬ লাখ, সোনালী ব্যাংক ১৪টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ, জনতা ব্যাংক দুই হাজার ৪৭৩টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৫৩ কোটি ৮১ লাখ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এক হাজার ৩৮০টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে চার কোটি ৩৫ লাখ এবং বেসিক ব্যাংক ১৯টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা সুদ মওকুফ করেছে।

সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে দেশে করদাতার সংখ্যা ৪০ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৯।

একই দলের সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। মে পর্যন্ত আদায়ের পরিমাণ এক লাখ ৯১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা (৬৮.৫৪ শতাংশ)।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য ৭৩টি প্রকল্প পাইপলাইনে আছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মে পর্যন্ত দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর থেকে ৫২১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার ছাড় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঋণ ৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ও অনুদান ২৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

সংরক্ষিত আসনের হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে (ডিসেম্বর ২০১৮) বাংলাদেশের কাছে বৈদেশিক ঋণের দায় পাঁচ হাজার ৫১৫ কোটি আট লাখ মার্কিন ডলার। এ ঋণের বিপরীতে ২০১৮ সালে ৯৪ কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল।

মন্তব্য