kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

সতর্কতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

২৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সতর্কতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

সাউদাম্পটনে মা-বাবার সঙ্গে সাকিব আল হাসান। ছবি : মীর ফরিদ

দল খারাপ করায় শপিং মলে পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ খানকে বিচ্ছিরি অপমানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ দলের এক ক্রিকেটার টুইট করতে চেয়েছিলেন। তাঁকে নিরস্ত করা হলো এটা বলে যে কয়েক দিন আগে নিজ দেশের অধিনায়কের পক্ষ নিয়ে কথা বলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার শিকার হয়েছেন তামিম ইকবাল। সেখানে পাকিস্তানি অধিনায়ককে সমবেদনা জানালে দ্বিগুণ সমালোচনা হবে। তাই তিনি আপাতত টুইট করা থেকে বিরত রয়েছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১০ রান দেওয়া রশিদ খানকে নিয়েও অনেক ট্রল হয়েছিল। কেউ মনে রাখেননি যে এই আফগান লেগ স্পিনারের ওয়ানডে বোলিং নৈপুণ্য দুর্দান্ত। ১৬.৮৯ গড়ে ১২৯ উইকেট নেওয়া রশিদের ইকোনমি রেট মাত্র ৪.৮। আধুনিক ক্রিকেটে অন্তত ১০০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মাঝে তিনিই সর্বোত্তম। অবশ্য গতকাল আর ট্রল করার মতো কিছু হয়নি। হয়নি, কারণ রোজ বৌলে ২২৪ রানে ভারতের হাই প্রোফাইল ব্যাটিং মাথা কুটে মরার ম্যাচে মাত্র ৩৮ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন যে রশিদ। 

আর এই রশিদ খানদের বিপক্ষেই আগামীকাল সাউদাম্পটনের একই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তিনি একা নন, মুজিব উর রেহমান ও মোহাম্মদ নবী নামের আরো দুই স্পিনার আছেন, যাঁদের প্রতি প্রভূত শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে বাংলাদেশ দলের। গত সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ের এশিয়া কাপ ম্যাচে বাংলাদেশের মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পেছনের কারিগরও এই তিনজন। যদিও মিঠুনের বিশ্বাস, ‘আমরা স্পিন ভালো খেলি।’

সাউদাম্পটনে টিম হোটেলের পেছনেই বিশাল শপিং মল ওয়েস্টকোয়ে। বাহারি ব্র্যান্ড শপের নিচতলায় সারি সারি রেস্টুরেন্ট। গতকাল দুপুরে সেখানে খেতে আসা তামিমই জিজ্ঞাসা করছিলেন, ‘দেখেছেন খেলা? এখনকার উইকেট তো মনে হয় অত ভালো না।’ ভালো না মানে, ইংল্যান্ডের অন্য উইকেটগুলোর মতো গতি নেই। কাল যে উইকেটে ম্যাচ হয়েছে, সেটাতেই বাংলাদেশের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে হবে। এতে বাড়তি কিছু সুবিধা তো পাবেই আফগানরা। উইকেটের সঙ্গে আগাম পরিচয় হয়ে গেল ওদের। তার ওপর ব্যবহৃত উইকেট আরেকটু গতি মন্থরতায় আক্রান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাতে রশিদ-মুজিব-নবীদেরও বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কথা।

কিন্তু পান থেকে চুন খসলে কে অতশত বিবেচনা করবে! মোহাম্মদ মিঠুন খোলামেলাই বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও সবাই মেনে নিয়েছে। কারণ ওরা আমাদের চেয়ে ভালো দল। কিন্তু আফগানিস্তানের কাছে হারলে কেউই মেনে নেবে না, ওদের চেয়ে আমরা ভালো দল বলেই। তাই এই ম্যাচে আমাদের সতর্ক ক্রিকেট খেলতে হবে।’

তবে এ ম্যাচের প্রি-প্রিভিউর দিনে বিরল এক দৃশ্য দেখেছে লিওনার্দো রয়্যাল হোটেলের সামনে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি মিডিয়া কন্টিনজেন্ট। নটিংহামে ম্যাচ খেলার পরদিন বাসে চড়ে পরশু শেষ বিকেলে সাউদাম্পটনে পৌঁছেছে দল। তাই আগেই গতকালের প্র্যাকটিস ঐচ্ছিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক সব দিনেই প্র্যাকটিসের জন্য সবার আগে বাসে উঠে বসে থাকেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু গতকাল অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ানকে দেখাই গেল না, প্র্যাকটিসে যাননি। ওয়ার্কএথিকসে মুশফিকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেন বাংলাদেশ দলের একজনই, সাব্বির রহমান। তিনি গেছেন অনুশীলনে। এসব দিনে একাদশের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা নিয়ম করেই যান। যেমন গেছেন আবু জায়েদ, মিঠুন ও মোসাদ্দেক হোসেন, যাঁর কাঁধের ব্যথা চলে গেছে বলেই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন। মুশফিকের প্র্যাকটিসে না যাওয়ার মতোই উল্লেখ্য ঐচ্ছিক অনুশীলনে মাশরাফি বিন মর্তুজার যোগ দেওয়া।

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ না খেললেও প্র্যাকটিসে যাননি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাঁর ইনজুরি নিয়ে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদন পাননি বলে জানিয়েছেন মিনহাজুল, ‘এখনো ফিজিওর কাছ থেকে কোনো প্রতিবেদন পাইনি। আজ (গতকাল) ফিজিও ওকে দেখে আমাদের জানাবে।’ আশ্চর্য ঘটনাই। সাইফউদ্দিন ব্যথা পেয়েছিলেন ২০ জুন, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দিনে। মাঝে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও জানা যায়নি সাইফউদ্দিনের চোট কোন পর্যায়ের। তাই আফগানিস্তান ম্যাচে এই অলরাউন্ডারের খেলা না খেলার বিষয়টি নির্ভর করছে ফিজিওর প্রতিবেদনের ওপর। তবে মোসাদ্দেক ম্যাচ খেলার জন্য ফিট আছেন বলে জানিয়েছেন মিনহাজুল।

আফগানিস্তান ম্যাচের জন্য শারীরিক ফিটনেসই তো শেষ কথা নয়, মানসিক ফিটনেসও সমান জরুরি। আফগানিস্তান ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ফল হলে আগের ম্যাচগুলোয় ভালো ক্রিকেটের কথা কেউ মনে রাখবে না, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সম্ভাবনাও ধুয়েমুছে যাবে সাউদাম্পটন হারবারের জলে। ১৯১২ সালে এই বন্দর থেকেই শেষ যাত্রা করেছিল টাইটানিক। আর ফেরেনি। টাইটানিকের জন্য এখনো শোক করে সাউদাম্পটন। আফগান ম্যাচে একটু এদিক-ওদিক হলে শোক করার সময় পাবেন না মাশরাফিরা।

তা যতই রোজ বৌলের উইকেটে আফগান স্পিনারদের সামনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা হাবুডুবু খাক না কেন। বাংলাদেশকে এ ম্যাচটা জিততেই হবে। মাঠের বাইরের এমন একরোখা প্রত্যাশাকেই আপাতত ২৪ জুনের প্রধান প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে!

মন্তব্য