kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ওয়ার্নার ম্যাক্সওয়েলেই সর্বনাশ

নটিংহাম থেকে প্রতিনিধি   

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওয়ার্নার ম্যাক্সওয়েলেই সর্বনাশ

ইংল্যান্ড ম্যাচে আরো বড় হারের পরও এতটা হতাশ দেখায়নি বাংলাদেশ অধিনায়ককে। গতকাল ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে ভীষণ হতাশাগ্রস্ত দেখিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। এই হতাশা আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ মুঠো গলে বেরিয়ে যাওয়ার।

‘বড় দলের বিপক্ষে আপনাকে অর্ধেক সুযোগও কাজে লাগাতে হবে’, মাশরাফির প্রথম শোকের জেরে ব্যক্তিগত ১০ থেকে ১৬৬ রান করেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। দুঃখ তাঁর আরো আছে। ৪০ থেকে ৪৬—এই সাত ওভারে অস্ট্রেলিয়া তুলেছে ১০৯ রান, যে সময়টায় যথেচ্ছ বাংলাদেশি বোলারদের হেনস্তা করেছেন ওয়ার্নার ও ম্যাক্সওয়েল। ‘খেয়াল করে দেখেন আমরা ডেথ ওভারে বরং ভালো বল করেছি। কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ও ওয়ার্নারের জুটির সময়টায় ভালো করিনি। আমার মনে হয় ওদের একটু চেক দেওয়া গেলে ৩৪০ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে রাখা যেত’, বলেছেন মাশরাফি। অবাক কাণ্ডই। নিয়মিত বোলাররাই বোলিং করেছেন কিন্তু উইকেট নেওয়া দূরের কথা, রানও আটকাতে পারেননি। অতঃপর আবার সৌম্য সরকারকে আক্রমণে এনেছেন মাশরাফি, সাফল্যও পেয়েছেন। শেষ তিন ওভারে অস্ট্রেলিয়া যে একই হারে রান তুলতে পারেনি, সেটি মূলত সৌম্য শেষ স্পেলে এসে দ্রুত আরো দুটি উইকেট তুলে নেওয়ায়। প্রথমে ওয়ার্নার এর পর একই ওভারে ম্যাক্সওয়েল এবং উসমান খাজাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

নিয়মিত বোলারদের ব্যর্থতার দিনে ষষ্ঠ বোলারের দায়িত্ব পালন করা সৌম্যর প্রশংসাও করেছেন মাশরাফি, ‘সৌম্য যা করেছে, তা অনেক। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচে ওরা অনেক এগিয়ে গেছে।’

ব্যাটিং উইকেট যখন, তখন বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলানোর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আবার দুজন নিয়মিত বোলার চোট নিয়ে সরে গেছেন, সঙ্গে অস্ট্রেলীয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের বোলিং সাফল্য যখন নিশ্চিত নয় তখন ষষ্ঠ বোলার হিসেবে বিশেষজ্ঞ বোলার খেলানোই যুক্তিযুক্ত। সবার ব্যর্থতার দিনে সৌম্য ৩ উইকেট নেওয়ায় ষষ্ঠ বোলারের অভাব আড়াল করার সুযোগটা নিয়েছেন মাশরাফি, ‘সৌম্য তো ভালো বোলিং করেছে।’ কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে দলীয় চিন্তার সঙ্গে মিলিয়ে একাদশ গড়তে না পারার দুঃখ ঠিকই আছে তাঁর মনে, ‘আমার দুইজন খেলোয়াড় ইনজ্যুরড। সাইফউদ্দিন ম্যাচের শুরু এবং শেষে উইকেট নিয়েছে। মোসাদ্দেক থাকলে ওদের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং নিয়ে আমাকে ভাবতে হতো না। কিন্তু কেউ চোট আছে বললে তো আর কিছু করার থাকে না।’

মাশরাফির ভাঁড়ারেও আর কিছু অবশিষ্ট নেই যে! আবু জায়েদ রাহি দলে আছেন না থাকার মতো করেই। কোনো কম্বিনেশনেই তিনি বিশ্বকাপ একাদশে আসেন না। গতকালের একাদশের বাইরে থাকা সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেক চোটগ্রস্ত। আর মোহাম্মদ মিঠুন তো ব্যাটসম্যান। তাই বোলিং বিকল্প নেইও রিজার্ভে।

জোড়াতালির বোলিং আক্রমণ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মাশরাফির কপালেও, ‘ব্যাটসম্যানরা দারুণ করছে। আমরা জানতাম যে ইংল্যান্ডে ৩০০ রান হবেই। তাই বলে প্রতি ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের কাছে এটা আশা করা ঠিক না। ওরা করে যাচ্ছে, এটা আশার কথা।’ কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সেমির আশা কতটুকু দেখছেন অধিনায়ক? ‘আমাদের আরো তিনটা ম্যাচ আছে। সেগুলো জিতলে হয়তো সুযোগ আসতে পারে। সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে, এমনটা মনে করছি না। তবে আমরা একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। দেখা যাক কী হয়’, সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার আগে আশ্বাস দিয়ে গেছেন মাশরাফি। মিক্সড জোনে এসে তামিম ইকবালও শুনিয়ে গেছেন একই বিশ্বাসের কথা, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রতিটা ম্যাচ জেতা। সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের সব ম্যাচ জিততে হবে। এটুকুই বলব।’ আর নিজের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা সম্ভবত কেটে গেছে বাঁহাতি ওপেনারের মন থেকে, ‘আজ আরো বড় ইনিংস খেলা উচিত ছিল আমার। আশা করি হয়ে যাবে।’

মন্তব্য