kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

আপিল বিভাগের প্রশ্ন

মিজান কি দুদকের চেয়ে শক্তিশালী?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিজান কি দুদকের চেয়ে শক্তিশালী?

ডিআইজি মিজানুর রহমান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালককে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খানকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘ডিআইজি মিজানকে এখনো গ্রেপ্তার করছেন না কেন? সে কি দুদকের চেয়েও বেশি শক্তিশালী?’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এই প্রশ্ন তোলেন। হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানিকালে ওই প্রশ্ন ওঠে। আদালত বলেন, ‘জেসমিন ইসলামের জামিন হয়েছে তিন মাস আগে। এখন এসেছেন কেন?’ আদালত আরো বলেন, ‘আপনাদের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সত্যিই দেশের জন্য অ্যালার্মিং (অশনিসংকেত)। যে প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেই প্রতিষ্ঠানে যদি এমন হয় তবে তা সত্যিই অ্যালার্মিং।’ আদালত বলেন, ‘একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিলেন?’ জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ওই সময় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে তো শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তো কোনো ব্যবস্থা নেননি। আপনারা কোনো কিছুই করেননি।’

দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে হলে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এফআইআর করতে হবে। আইনের এই বিধানের বাইরে তো আমি অন্য কিছু করতে পারব না।’

ওই সময় আদালত বলেন, ‘ডিআইজি মিজানুর রহমান নিজেই ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁকে তো গ্রেপ্তার করতে পারতেন। কিন্তু তাও করতে পারছেন না। তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করছেন না? তিনি (ডিআইজি মিজান) কি দুদকের চাইতে বড়?’

তখন দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলায় এরই মধ্যে চার্জশিট দাখিলের জন্য মেমো অব এভিডেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা কাজও শুরু করে দিয়েছেন। দুদক গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছে।’

এ ছাড়া আদালত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত বলেন, ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার ওই টাকার বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পত্তি ছাড়িয়ে নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’

ডিআইজি মিজানুর রহমানের অভিযোগ, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য চুক্তি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। সঙ্গে দাবি করেন একটি গ্যাসচালিত গাড়ি। ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে নগদে নিয়েছেন এই দুদক পরিচালক। এই অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক সচিব দিলওয়ার বখ্তকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয় গত ৯ জুন। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনীতে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় কমিশন।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান থাকাবস্থায় অন্য এক নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতন এবং আরেক নারী সংবাদ পাঠিকাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর তাঁকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এ অবস্থায় কয়েক দিন আগে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালককে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

মন্তব্য