kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

?

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



?

এই সংবাদটির কোনো শিরোনাম খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলো না। মানুষের এমন অমানুষি, পৈশাচিক কাজ কল্পনায়ও আনা যায় না। অথচ এমন ঘটনা ঘটে গেছে এ দেশেরই ‘মানবসমাজে’।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কাজিরচর পূর্বপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে গত ৮ জুন এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের তদন্তে জানা যায়, মেয়েটির নাম সাবিনা আক্তার। বয়স ২১ বছর। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে পাশের গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (২৮) নামের এক বিবাহিত যুবক মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়েটি বাধা দিলে একপর্যায়ে সাইফুল তার শার্ট খুলে মেয়েটির গলায় পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করে এবং সেই মৃতদেহেই সাইফুল তার লালসা চরিতার্থ করে। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার এই পৈশাচিক কাজের কথা স্বীকার করে। গতকাল বুধবার দুপুরে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র‌্যাব ১১-র অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন।

সাবিনার লাশ উদ্ধারের পরদিন তাঁর মা আফিয়া বেগম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শিবপুর কলেজগেট এলাকা থেকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তের বাড়ির টয়লেট থেকে সাবিনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসেট ও পাশের নর্দমা থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন সাইফুলের পৈশাচিকতার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাবিনা আক্তার শিবপুরের মাছিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম একই উপজেলার দুলালপুর গ্রামের মৃত হানিফ ফকিরের ছেলে। সাইফুল প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আরেকটি বিয়ে করে। দ্বিতীয় ঘরে তার দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। কাজের সুবাদে তিন মাস আগে শিবপুরের ধানুয়া কারীবাড়ী মাজারে সাইফুলের সঙ্গে সাবিনার পরিচয় হয়। একই এলাকার হওয়ায় সাইফুলের সঙ্গে সাবিনার মাঝেমধ্যেই দেখা হতো এবং নানাভাবে সাইফুল মেয়েটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কৌশল করত। এসব ঘটনা মেয়েটি তাঁর এক বান্ধবীকে জানিয়ে রেখেছিলেন। গত ৬ জুন রাতে কাজিরচর এলাকায় সাবিনার সঙ্গে একটি কলাবাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় সাইফুল ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সাবিনা বাধা দিলে সাইফুল তার গায়ের শার্ট দিয়ে সাবিনার গলায় পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর সাইফুল মৃত মেয়েটিকে ধর্ষণ করে তাঁর মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়। পরে ফোনটি বন্ধ করে বাড়ির টয়লেটে ও ব্যাগটি বাড়ির পাশের নর্দমায় ফেলে দিয়ে আত্মগোপন করে।

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ইসলামকে শিবপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার শাহ মো. মশিউর রহমান, নিহত সাবিনার মা আফিয়া আক্তার প্রমুখ।

 

মন্তব্য