kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ওয়ার্নারের শতরানে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওয়ার্নারের শতরানে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন ডেভিড ওয়ার্নারের। ছবি : এএফপি

চেনা চেহারা দুই দলের এমন দুজন ক্রিকেটার, যাঁদের নামের সঙ্গে লেগে আছে ‘নিষিদ্ধ’ শব্দটি। এই ইংল্যান্ডেই স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িয়ে জেল-জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা জুটেছিল মোহাম্মদ আমিরের। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেও ছিলেন না। সেই আমির বিশ্বকাপে খেললেন এবং নিজের দল পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে পেস বোলিংয়ের ভয়ংকর প্রদর্শনীতে অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের মাঝের ও শেষটা একাই গুঁড়িয়ে দিলেন।

অন্যদিকে বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই বিশ্বকাপে ডেভিড ওয়ার্নারের খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপে খেলছেন। ভারতের বিপক্ষে সব শেষ ম্যাচে করেছেন শম্বুকগতির ব্যাটিং। কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে চেনা চেহারায় ফিরলেন ওয়ার্নারও। পাকিস্তানের বিপক্ষে পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম শতরান, সেই সঙ্গে অ্যারন ফিঞ্চকে নিয়ে গড়া ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে গড়ে দিয়েছেন বড় সংগ্রহের ভিত। অমন দুর্দান্ত শুরুর পরও আমিরের ভয়ংকর ছোবলে যদিও ৩০৭ রানে আটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আশা জাগিয়েও পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে ২৬৬ রানে। অস্ট্রেলিয়ার জয় ৪১ রানে।

টন্টনের মাঠের আকৃতি এমন যে এখানে রান উৎসব অবধারিত। টসে জিতেও তাই ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ। তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতেই উঠেপড়ে লাগলেন ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার। প্রথম উইকেটের জন্য অপেক্ষা ২৩তম ওভার পর্যন্ত। মোহাম্মদ আমিরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে মোহাম্মদ হাফিজের হাতে ধরা পড়ে ফিঞ্চ বিদায় নিলেন ৮২ রানে। ওয়ান ডাউনে নামা স্টিভেন স্মিথও করতে পারেননি ১০ রানের বেশি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ১০ বলে ২০ রানের ঝড়টা সংক্ষিপ্ত করে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। অন্য প্রান্তে সঙ্গী বদলের হাওয়াটা লাগে ওয়ার্নারের গায়েও। ডিপ পয়েন্টে বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হয়ে যান ওয়ার্নারও। ১০২ বলে ১১ চার আর ১ ছয়ে করেছিলেন ১০০, এরপর আরো ৯ বলে ৭ রান যোগ করে বিদায় নেন ওয়ার্নার। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের এনে দেওয়া চমৎকার সূচনাটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ার পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম উইকেটের পতন যেখানে ২৩তম ওভারে, সেখান থেকে ৪৯ ওভারেই ৩০৭ রানে অলআউট অস্ট্রেলিয়া। মিডল অর্ডারটা ধসিয়ে দিয়েছেন আমির, ১১ রানের ব্যবধানে নিয়েছেন শন মার্শ ও উসমান খাজার উইকেট। এরপর লেজটা ছেঁটেছেন নাথান-কোল্টার নাইল ও মিচেল স্টার্কের উইকেট নিয়ে। ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সেরা বোলিং ফিগার আমিরের, সেই সঙ্গে ১০ উইকেট নিয়ে এই বাঁহাতি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও।

পরের দিকে বোলারদের সাফল্যে অস্ট্রেলিয়াকে অপেক্ষাকৃত কম রানে আটকে ফেলার সুবিধাটি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা নিতে পারলেন কই? শূন্য রানে ফিরে গেছেন ফখর জামান। ইমাম-উল-হকের সংগ্রামী ৫৭ রানের ইনিংসটিরও ইতি টেনে দিয়েছেন প্যাট কামিনস। বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে দুটি ছোট ছোট জুটি গড়ে তুলেছিলেন ইমাম, কিন্তু বাবর ৩০ আর হাফিজ ৪৬ রানে আউট হতে সেই প্রত্যাশার সলিল সমাধি। ফিঞ্চ সব শেষ বোলিং করেছিলেন ৪ ম্যাচ আগে, তাও মাত্র ২ ওভার। কাল সেই ফিঞ্চও বল হাতে এসে প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছেন হাফিজের উইকেট! ফুলটস বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে দলের বিপদ বাড়িয়েছেন হাফিজ। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন শোয়েব মালিক আর আসিফ আলী।

১৬০ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ে গেলে হারটা তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের। ম্যাচটা জিততেও পারেনি তারা, কিন্তু হাসান আলী-ওয়াহাব রিয়াজদের ব্যাটিংয়ে হয়তো আশার আলো দেখতে পাচ্ছিল পাকিস্তানি সমর্থকরা। জয়ের সম্ভাবনাও যে একটা পর্যায়ে উঁকি দিচ্ছিল পাকিস্তানের। মিচেল স্টার্ক আক্রমণে আসার পর সেটা আবার মিলিয়েও গেছে দূর দিগন্তে। দলীয় ২০০ রানে তিনটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কায় ১৫ বলে ৩২ রান করে হাসান আলী ফেরার পর নবম উইকেটে ওয়াহাব রিয়াজ ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ যোগ করেন ৬৪ রান। ম্যাচে তখন ভালোভাবেই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ওয়াহাবকে স্টার্ক ফেরানোর পর আর মাত্র ২ রানেই থেমে গেছে তাদের ইনিংসের চাকা। ৩ ছক্কা এবং ২ বাউন্ডারিতে ৩৯ বলে ৪৫ রান করেন ওয়াহাব। স্টার্কের ওই ওভারেই শূন্য রানে স্টাম্প উড়ে যায় মোহাম্মদ আমিরের। পরের ওভারে অধিনায়ক সরফরাজের রান আউটে ইতি ঘটে পাকিস্তানের ন্যূনতম জয়ের সম্ভাবনারও। ৩৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার প্যাট কামিন্স। মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন প্রত্যেকে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা