kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

এমপি লিটন হত্যা

অস্ত্র মামলায় কাদের খানের যাবজ্জীবন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ত্র মামলায় কাদের খানের যাবজ্জীবন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানকে অস্ত্র মামলার দুটি ধারায় যাবজ্জীবন ও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলার চার্জশিটে শুধু কাদের খানকেই আসামি করা হয়।

গাইবান্ধার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক গতকাল মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। অস্ত্র আইনের ১৯এ ও  ১৯এফ দুটি ধারায় হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি কাদেরকে অবৈধ অস্ত্র এবং অবৈধ গোলাবারুদ রাখার দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর রায় ঘোষণা করা হয়।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় লিটনের ছোট বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে ১ জানুয়ারি ২০১৭ সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে কাদের খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে তা মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডের চতুর্থ দিনে কাদের খান আদালতে ১৬৪ ধারায় লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে কাদের খান গাইবান্ধা কারাগারে আছেন।

এদিকে গতকাল আদালতে রায় ঘোষণার পর সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উল্লাস প্রকাশ করে। এ সময় এমপি লিটনের স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি কালের কণ্ঠকে  জানান, এই রায়ে তিনি খুশি। কিন্তু এখন অপেক্ষা হত্যা মামলার রায়ের জন্য। তিনি বলেন, শুধু লিটনের পরিবার নয়, সুন্দরগঞ্জবাসী প্রকৃত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য অপেক্ষা করছে। সে জন্য সম্ভাব্য দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হোক।

তবে অস্ত্র মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাদের খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সরকার জিন্নাহ বলেন, কাদের খান যাতে ন্যায়বিচার পান সে জন্য উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, অস্ত্র মামলার রায়ে তিনিসহ অন্য আইনজীবীরা খুশি। তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে বিচারক এই রায় দিয়েছেন।

হত্যা মামলায় কাদের খানসহ সুনির্দিষ্টভাবে আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। ওই চার্জশিটে কাদের খান হুকুমদাতা ও প্রধান আসামি। এ ছাড়া তাঁর কিলার বাহিনীর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা, শাহীন মিয়া শান্ত, রাশেদুল হাসান মেহেদী, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) শামছুজ্জোহা সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, তাঁর ভগ্নিপতি কসাই সুবল চন্দ্র রায়, কাদের খানের গাড়িচালক আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কসাই সুবল মারা গেছেন এবং চন্দন কুমার রায় ভারতে পালিয়েছেন। অন্যরা জেলহাজতে আটক রয়েছেন।

মন্তব্য