kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

লাওস জয়ে বাংলাদেশ বাছাই পর্বের দরজায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাওস জয়ে বাংলাদেশ বাছাই পর্বের দরজায়

রবিউল ইসলামের একমাত্র গোলেই বিজয় উৎসব বাংলাদেশের। ছবি : বাফুফে

দেশে বইছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের হাওয়া। এর মধ্যে ফুটবল দলও সাফল্যের সুরভি যোগ করেছে লাওসকে হারিয়ে। গত বৃহস্পতিবার রবিউল হাসানের একমাত্র গোলে লাওসকে ওদের মাঠে হারিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল বাছাই পর্বে ঢোকার কড়া নাড়ছে। আগামী ১১ জুন ঢাকায় হোম ম্যাচটি না হারলেই তারা পেয়ে যাবে বাছাই পর্বের টিকিট।

তা মিললে বাংলাদেশ ফুটবলের জ্যাকপট জেতার মতো ব্যাপার হবে। দেশের ক্ষয়ে যাওয়া ফুটবলে উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো ঘটনা খুব নেই। গত বছর যথারীতি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশ মাত্র এক ম্যাচ জয়ের পুঁজি নিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে। ফুটবলের এই আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে লাওসের মাঠে তাদেরকে হারানো বাংলাদেশ ফুটবলের বড় ঘটনা। ১১ তারিখ দেশের মাঠে জিতলে কিংবা ড্র—সেটা আরো বড় সুখানুভূতির উপলক্ষ হবে জামাল ভূঁইয়াদের জন্য। প্রাক-বাছাই পর্ব উতরে তারা বিশ্বকাপের মূল বাছাইয়ে ঢুকবে এবং আরো অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ফিফার ফরম্যাট অনুযায়ী এশিয়ার ৪৬টি দলের মধ্যে শেষ ১২ দলকে খেলতে হচ্ছে প্রাক-বাছাই পর্ব। এখান থেকে উতরে যাওয়া ছয় দল প্রথম ৩৪টি দলের সঙ্গে যোগ হয়ে খেলবে মূল বাছাই পর্ব। অর্থাৎ এশিয়ার ৪০ দল বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব, সুবাদে মিলবে অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ। তা ছাড়া এটা এশিয়ান কাপেরও বাছাই। তাই লাওসের ম্যাচ দুটো বাংলাদেশ ফুটবলের টার্নিং পয়েন্টও বটে।

বৃহস্পতিবার ভিয়েনতিয়ান ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কঠিন ম্যাচটি জিতে ফিরেছে তারা। তবে প্রথমার্ধে বড় বেসুরো ফুটবল খেলেছেন জামাল-ইমনরা। তাই বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে আশরাফুল রানাকে। গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের কৃতিত্বে গোলপোস্ট অক্ষত রেখে বিরতিতে যাওয়া লাল-সবুজের দল দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো ফুটবল খেলে। তৌহিদুল ইসলামের পায়ে একটা সহজ সুযোগ নষ্টের পর ৭৭ মিনিটে বদলি মিডফিল্ডার রবিউল হাসান লক্ষ্যভেদ করে দলকে স্বপ্ন দেখান। ‘গোলের পর আমরা শেষ বাঁশি পর্যন্ত রক্ষণ আগলে খেলেছি। এই গোলটাই হয়তো আমাদের মূল বাছাই পর্বে উত্তরণের সুযোগ করে দেবে। এটা আমাদের ফুটবলের জন্য অনেক বড় জয়’—ম্যাচ জেতানো এই তরুণ মিডফিল্ডার সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় আছেন। গত মার্চে তাঁর গোলেই হয়েছিল কম্বোডিয়া-জয়। সেটি ছিল প্রীতি ম্যাচ আর লাওসের ম্যাচটি হতে পারে ফুটবলের সামনের দিনগুলোকে রাঙানোর ম্যাচ।

তবে এমন জয়ের পর জেমি ডে ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। বাংলাদেশের এই ইংলিশ কোচ আরো ভালো পারফরম্যান্স আশা করেছিলেন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে, ‘আমরা ম্যাচ জিতেছি, এটা খুশির খবর। তবে খেলা মোটেও ভালো হয়নি, তাদের আরো ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। খেলা দেখে মনে হয়েছে, কয়েকজন বেশ চাপ নিয়ে ফেলেছে। তাই আমাদের মাঠের খেলা ঠিক পরিকল্পনা মেনে হয়নি।’ কয়েকজন বাড়তি চাপ নেওয়ায় স্বাভাবিক খেলাটা ব্যাহত হয়েছে, আর এই সুযোগে লাওস অধিনায়ক সালিক মধ্যমাঠের জ্বলানি হয়ে পুরো দলকে চমৎকার খেলিয়েছেন। আর সেখানেই পড়েছে জেমির বিশেষ নজর, ‘সে খুব ভালো খেলে। তাকে হোম ম্যাচে এভাবে খেলতে দেওয়া যাবে না। ঢাকায় ওই ম্যাচ জিতে আমরা পরের রাউন্ডে যেতে চাই।’ তাঁর অধীনে লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য শতভাগ, দুই ম্যাচের দুটোই জয়। সুতরাং ১১ জুনের ম্যাচ নিয়ে জেমির আত্মবিশ্বাস বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক!

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা