kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

কার্ডিফ ও ইংল্যান্ডবধের স্মৃতিই শক্তি

সাইদুজ্জামান, কার্ডিফ থেকে   

৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কার্ডিফ ও ইংল্যান্ডবধের স্মৃতিই শক্তি

ইংলিশ সামার আগেও দেখার সুযোগ হয়েছে। তবে এতটা জোরে এবং ধারাবাহিক বৃষ্টি কখনো দেখা হয়নি। দেখা হয়নি বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ইংলিশ অধিনায়ককে তাঁর দেশে সাংবাদিকরাই মোটামুটি জেরা করছেন! প্রতিপক্ষ স্পিন কিভাবে সামলাবেন? গতবার তো এই দলটার কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিলেন? চার বছর আগের স্মৃতির লেনে দাঁড়িয়ে আবার বাংলাদেশ অধিনায়ককে অনুপ্রাণিতও করেছেন, অবিশ্বাস্য!

এরপর আর রুবেল হোসেন না ফিরে পারেন একাদশে! ২০১৫ বিশ্বকাপে এ পেসারের দুই বলেই তো জেতা ম্যাচ হেরেছিল ইংল্যান্ড। আজ সকালেও সামান্য বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হবে না, তবে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দিনভর বাতাস বইবে। কার্ডিফের গ্যালারির উচ্চতা বাংলাদেশের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের চেয়েও কম। তাই ঠাণ্ডা বাতাস পেস উপযোগিতা বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে বাংলাদেশ। এমন কন্ডিশনে রুবেল হোসেনকে দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার ছক কেটেছে বাংলাদেশ। পুরো ফিট রুবেল ম্যাচ খেলার জন্য অস্থির হয়ে আছেন, যা সহায়ক কন্ডিশনে কার্যকরই হওয়ার কথা। তার ওপর গত বিশ্বকাপে অ্যাডিলেড স্মৃতিও ফিরিয়ে আনা হবে!

অবশ্য চার বছর আগের ওটা এখন নিছকই ইতিহাস মাশরাফির কাছে। তারও চার বছর আগে, ২০১১ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এক ইংরেজ সাংবাদিকই প্রশ্ন করেছেন মাশরাফিকে, ‘এবার তো তাহলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা!’ মাশরাফি নিরুত্তাপ থেকে যা বললেন, তা নিখাদ ক্রিকেটীয়, ‘ওগুলো ভালো স্মৃতি। তবে এর বেশি কিছু নয়।’

চার কিংবা আট বছর আগের স্মৃতি যে শুধুই অতীত, সেটি তো এবারের বিশ্বকাপেই প্রমাণ পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের পরের ম্যাচেই হেরেছেন নিউজিল্যান্ডের কাছে, যে দলটিকে দুই বছর আগে এই ইংল্যান্ডের মাটিতেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই মাঠের ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগী মাশরাফি, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমরা যদি আমাদের কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে অসম্ভব নয়। তবে মনে রাখতে হবে, ইংল্যান্ড এখন দারুণ ফর্মে আছে। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটও।’

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপের এই ফেভারিট তত্ত্ব কী করে যেন ইওয়েন মরগ্যানের গলার ফাঁস হয়ে গেছে! প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয়ে শুরু পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু পরের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারতেই গেল গেল রব উঠেছে ব্রিটিশ মিডিয়ায়। এই যেমন বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ফেভারিট বলেই আপনি চাপে কি না—এমন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে ইংলিশ অধিনায়ককে। বাংলাদেশের স্পিন সামলানোর উপায়ও বাতলাতে হয়েছে। তবে ইংলিশ ক্রিকেট মহল তো আর জানে না যে আজকের ম্যাচের জন্য বোলিংয়ের নকশাই বদলে ফেলছে বাংলাদেশ। রুবেলকে জায়গা দিতে একাদশে থাকছেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে স্পিন বিকল্প বলতে থাকছেন শুধুই মোসাদ্দেক হোসেন। বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনার যে গতি-প্রকৃতি, তাতে পেসের ঝাঁজের সঙ্গে সাকিবের বাঁহাতি স্পিনই বড় বাজি বলে মনে হচ্ছে। ইংলিশ মিডল অর্ডারের বাঁহাতিদের রুখতে ফাটকা খেলা হবে মোসাদ্দেকের অফস্পিন দিয়ে। তবে আগে-পরে পেস আক্রমণ এবং সাকিবকে নিয়ে কার্ডিফের ছোট মাঠে ইংল্যান্ডকে নাগালের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা মাশরাফির।

টসের সময় তাই আজকের প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় তালিকা দেখে চমকেই ওঠার কথা মরগ্যানের! তবে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারাকেই জয়ের অনুষঙ্গ মনে করেন মাশরাফি। বড় দলের বিপক্ষে জিততে হলে ‘আউট অব দ্য বক্স’ চিন্তাই তাঁর শক্তি। তবে শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে সাফল্যের রেসিপি হলো, ‘ডিফেন্সিভ। আমাদের ডিফেন্সটাই প্রতিপক্ষের জন্য অ্যাটাকিং।’ কিভাবে? ‘আমরা সবাই জানি ইংল্যান্ড কেমন দল। ওরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে। সেখানে আমরাও যদি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলি, তাহলে বিপদের আশঙ্কা বেশি।’ এসংক্রান্ত বাংলাদেশ দলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা শোনা হয়েছে বহুবার। স্টাম্প সোজা বল রেখে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের জন্য নিমন্ত্রণ করো। তাতে ওরা মারমুখি হয়ে উইকেট দেবেই দেবে। দিয়েছেও। বাংলাদেশ দলে তো আর গোটা দুয়েক উইকেট শিকারি নেই। সবারই লক্ষ্য থাকে রান আটকে ব্যাটসম্যানকে জোরপূর্বক শট খেলানোয়। সামান্য টাইমিংয়ের হেরফেরে উইকেটও মেলে যখন, তখন আক্রমণাত্মক হয়ে আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার মানে নেই। তাই পরাক্রমশালী ইংলিশদের জন্য রক্ষণাত্মক ছক বাংলাদেশের, অনেকটা ছিপ ফেলে শিকারের অপেক্ষায় থাকা আর কি!

কিন্তু কার্ডিফের রণক্ষেত্র যে বারবারই স্মৃতিকাতর করে তোলে বাংলাদেশকে। এ মাঠে দুটি দুর্দান্ত জয় আছে বাংলাদেশের। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য সেই জয়। এমন ‘উসকানিতে’ও নিস্তরঙ্গ মাশরাফি, ‘এখানে দুই ম্যাচই জিতেছি। তবে এটাই আরেকটি জয়ের গ্যারান্টি নয়। আপনাকে খেলেই জিততে হবে, অন্য কোনো উপায় নেই।’

সেই খেলার পূর্বাভাসে অবশ্যই এগিয়ে ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচে হারের ধাক্কা তাদের কতটা অস্থির করে তুলেছে, তার খানিক নমুনা মিলছিল মিডিয়ার ডাইনিংয়ে বসেই। মাঝে একটা পর্দার ওপারে ইনডোরে নেট করছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। সে কী সশব্দ নকিং, যেন ব্রিটিশ সিংহের আগাম হুংকার!

এমন প্রতিপক্ষের সামনে তাই অপেক্ষার খেলাই সম্ভাব্য সাফল্যের সূত্র। ফোকাসটা ঠিক রেখে সঠিক লাইন আর লেন্থে টোপ ফেলো, উন্মত্ত সিংহ শিকারের নেশায় ঝাঁপাবেই!

আজকের বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের পূর্বাভাস এমনই। অপেক্ষায় থেকে পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষকে অ্যাম্বুশ করার!

 

মন্তব্য