kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

শেখ হাসিনার সফরের পর উচ্চকণ্ঠ টোকিও

রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তে অগ্রগতি চায় জাপান

রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টিসহ একগুচ্ছ তাগিদ মিয়ানমারকে

মেহেদী হাসান   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তে অগ্রগতি চায় জাপান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরো উচ্চকণ্ঠ হয়েছে টোকিও। গত বুধবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে ওই শীর্ষ বৈঠকের পর টোকিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ঢাকাকে সর্বাত্মক সমর্থন জানায়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা-শিনজো আবে বৈঠকের পরদিনই টোকিওতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী চ টিন্টের সঙ্গে আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন। ওই সময় জাপানের মন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে মিয়ানমারে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চলমান কর্মকাণ্ডে অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করতেও মিয়ানমারকে তাগিদ দেন তিনি।

টোকিও থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মিয়ানমারের মন্ত্রী চ টিন্টের সঙ্গে বৈঠকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো সুনির্দিষ্টভাবে রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়ংকর নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমারের তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপান ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিও বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সরকারকে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট রূপরেখাসহ রাখাইনে নিরাপত্তা ও চলাফেরার সুযোগসহ অধিকারগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, জাপান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান দেখতে চায়। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার জবাবদিহি ও প্রত্যাবাসন—দুটিই চায় জাপান। সেই হিসাবে বর্তমানে জাপান ও বাংলাদেশের অবস্থান আরো অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে। জাপান এই ইস্যুতে আগামী দিনে আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

জানা গেছে, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারকে রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি রাখাইনের সিতুয়েজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের শিবিরগুলো যথাযথভাবে বন্ধ করে তাদের পুনর্বাসন এবং আসিয়ান জোট ও ‘আসিয়ান কো-অর্ডিনেটিং সেন্টার ফর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অন ডিজস্টার ম্যানেজমেন্টের (এএইচএ সেন্টার)’ সহযোগিতা নিতে আহ্বান জানান মিয়ানমারকে।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের মন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কথাও বলেন তিনি।

জানা গেছে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও শান্তি উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে স্থায়ী অস্ত্রবিরতি দেখতে চায় জাপান।

 

মন্তব্য