kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

প্রতিবাদী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা

প্রতিবাদ করাতেই পুড়িয়ে হত্যা

৪৮ দিনের তদন্তে আদ্যোপান্ত জানাল পিবিআই : নুসরাত হত্যায় জড়িত ১৬, আদালতে স্বীকার ১২ জনের, অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে আগুন দেয় ৫ জন, এরপর পরীক্ষায় বসে ৩ জন, দুই আওয়ামী লীগ নেতা এক শিক্ষক প্রাক্তন ছাত্রসহ ১০ জন সহায়তা করে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



প্রতিবাদ করাতেই পুড়িয়ে হত্যা

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করে তার পরিবার। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় মাদরাসার অধ্যক্ষকে। এর জের ধরে নুসরাতকে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত উদ্ঘাটন করা হয়েছে জানিয়ে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বলেছে, এ ঘটনায় ১৬ জন জড়িত। তাদের আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে হুকুমদাতা হিসেবে আসামি করা হয়েছে মাদরাসার অধ্যক্ষ (বর্তমানে বরখাস্ত) এস এম সিরাজ উদ দৌলাকে। আসামিদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা রুহুল আমীন ও মাকসুদ আলমও রয়েছেন।

পিবিআই মাত্র ৪৮ দিনের তদন্তে নুসরাত খুনের পুরো ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে। ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে পিবিআইর ৭২২ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে। এতে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নুসরাত মাদরাসার সবার স্বার্থে ঘা দিয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, আজ বুধবার ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হবে।

বনজ কুমার স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ মূল আসামি। নুসরাত হত্যার পুরো দায় ওই অধ্যক্ষের। তিনিসহ মোট ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে কাল (আজ বুধবার) আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘এই মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে যতই ভেতরে ঢুকেছি ততই আমাদের কষ্ট বেড়েছে। কেবল সাবালিকা হয়েছে এমন একটা মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে এ মামলার আসামিরা কেউ ছাড় পাবে না। বিচার চলাকালে আদালতে সব আসামি উপস্থিত থেকে নিজ চোখে তাদের বিচার দেখবে। আমরা পেরেছি। ঘটনায় অভিযুক্ত প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা উল্লেখ করে মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।’

বনজ কুমার জানান, অভিযোগপত্রে যে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে তারা সবাই গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

হত্যার কারণ প্রতিবাদ : হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘প্রথমে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে অনেকেই বলেছেন, মাদরাসার আলেমদের অপমান ও প্রেমের ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা সেটি পাইনি। আমরা পেয়েছি ওই মাদরাসার সকলের স্বার্থে এই মেয়েটি ঘা দিয়েছিল। ওই মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক ক্ষমতা, ছাত্রীদের এখানে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন করার ক্ষমতা ভয়াবহ। এই মেয়েটি এর প্রতিবাদ করে। যে কারণে তাকে তারা সবাই মিলে পরিকল্পনা করে হত্যা করে।’ তিনি যোগ করেন, ‘মাদরাসার অর্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং যৌন হয়রানির মতো নানা অপকর্মের সঙ্গে ১৬ জনের একে অপরের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট। এই অপকর্মের বিরুদ্ধে নুসরাত প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। তাই ১৬ জনের প্রত্যেকে সুচিন্তিতভাবে সুস্থ মস্তিষ্কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।’

বনজ কুমার জানান, পাঁচটি গ্রুপ এই হত্যায় ছিল। এক গ্রুপে শিক্ষক যিনি (অধ্যক্ষ) হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, আরেক গ্রুপ হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ সহায়তা করেছে। আরেক গ্রুপ মেইন গেটে পাহারা দিয়েছে এবং মেইন গেট দিয়ে যেন লোকজন না ঢোকে তা দেখেছে। আর দুজনের এক গ্রুপ সাইক্লোন শেল্টারের গেট পাহারা দিয়েছে। আর চারদিক থেকে সহায়তা করেছে আরো দুজন। তাদের একজন গভর্নিং বডির সহসভাপতি ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন। অন্যজন স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতা ও মাদরাসার গভর্নিং বোর্ডের নির্বাহী সদস্য মাকসুদ আলম।

পিবিআইর বর্ণনায় হত্যাকাণ্ড : তদন্তের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বনজ কুমার বলেন, ‘১০ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার আমরা পাই। ১১ তারিখে প্রথমেই আমরা গ্রেপ্তার করি স্থানীয় কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে। এরপর একে একে অন্যদের গ্রেপ্তার করি। আমরা যে সুনির্দিষ্ট ১৬ জনকে এ ঘটনায় অ্যারেস্ট দেখিয়েছি তাদের সবার মৃত্যুদণ্ড চাইব আমরা। তাদের প্রত্যেককেই আমরা কয়েক দফায় রিমান্ডে এনেছি। সবচেয়ে বেশি রিমান্ডে এনেছি সিরাজ-উদ-দৌলাকে। তাঁকে তিনবার রিমান্ডে এনেছি। ১২ আসামি ছাড়াও ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।’

বনজ কুমার আরো বলেন, “সিরাজ-উদ-দৌলার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির পুরো ঘটনায় সবার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করেছে। জবানবন্দিতে তিনি নুসরাতের গায়ে হাত দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি (অধ্যক্ষ) বলেছেন যে ‘নুসরাতকে প্রথমে প্রেসার দিবা। না হলে খুন করবা’। খুনের পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন যে ‘আগুন দিয়ে খুন করবা এবং আত্মহত্যা বলে চালাবা’।”

পিবিআই প্রধান আরো বলেন, তদন্তের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাঁচটি বোরকার মধ্যে তাঁরা তিনটি উদ্ধার করতে পেরেছেন। একটি শাহদাত হোসেন শামীমের ফেলে দেওয়া মাদরাসার পুকুর থেকে। আরেকটি জোবায়েরের, যে ঘটনা ঘটিয়ে বের হয়ে গিয়ে খালে ফেলে দিয়েছিল, সেটা উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া দিয়াশলাইয়ের কাঠি উদ্ধার করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘কেমিক্যাল রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। রিপোর্ট বলছে, কেরোসিন ব্যবহৃত হয়েছে। সেই কেরোসিন কোথা থেকে কিনেছে তাও বের করেছি।’

কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে হত্যা : বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘আসামিরা সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে নির্দেশনা নিয়ে আসে। নির্দেশনা নিয়ে আসার পর টিনশেডের হোস্টেলে তারা প্রথমে সিরাজের মুক্তি কমিটি করে। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিল নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম। পরবর্তী সময়ে তারা নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং কে কোথায় থাকবে ঠিক করে। গেট পাহারা দিছে একদল। একদল পাহারা দিছে সাইক্লোন শেল্টার।’ 

পিবিআই প্রধান বলেন, নুসরাত পরীক্ষা দিতে এলে পরিকল্পনা মতো উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতকে তার বান্ধবীকে মারধরের কথা বলে। নুসরাত দৌড়ে ছাদে যায়। ছাদে যাওয়ার পর মামলা তুলতে চাপ দিয়ে তাকে একটা সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। সেখানে পাঁচজন বোরকা পরে অংশ নেয়। তাদের দুজন মেয়ে—উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও কামরুন নাহার মনি। কিন্তু নুসরাত রাজি না হওয়ায় শামীম তার মুখ চেপে ধরে এবং পপিকে বলে নুসরাতের বোরকার ভেতর থেকে তার ওড়না বের করে নিতে। পপি ওড়না বের করে নিয়ে জোবায়েরকে দেয়। জোবায়ের ওড়নার এক অংশ দিয়ে নুসরাতের পা বাঁধে এবং পপি পেছনে হাত বাঁধে। এরপর তিনজন মিলে নুসরাতকে শুইয়ে ফেলে। শামীম মুখ চেপে ধরে। পপি ও জুবায়ের পা চেপে ধরে ওড়না দিয়ে গিঁট দেয়। আগে থেকে ছাদে কালো পলিথিনে রাখা ছিল কেরোসিন ও কাচের গ্লাস। সেই গ্লাসে কেরোসিন নিয়ে নুসরাতের গায়ে ঢেলে দেয় জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন। পরে শামীমের ইঙ্গিতে জোবায়ের দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়াদের মধ্যে দুজন মেয়ে সামনের দিকে থেকে বের হয়ে আস্তে আস্তে পরীক্ষার হলে ঢোকে। আরেকজন পরীক্ষার্থী ছিল জাবেদ। সেও পরীক্ষার হলে যায়। সে পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে বোরকা দিয়ে যায় শামীমকে। শামীম মূল গেট দিয়ে না গিয়ে পেছনে দিক হয়ে বের হয়ে যায়। জোবায়ের অত্যন্ত সাহসী। সে বোরকা পরে ঘুরে মূল গেটে আসে। সেখান দিয়ে একজন মেয়ে হিসেবে সে বের হয়ে পাশেই কৃষি ব্যাংকের সিঁড়িতে উঠে বোরকা ও হাতমোজা খুলে ফেলে।

অভিযুক্ত ১৬ জনের যে ভূমিকা : পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে আসামিদের কার কী ভূমিকা ছিল সেটাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি সিরাজ পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেন এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। আসামি নুর উদ্দিন ঘটনার সময় ভবনের নিচের পরিস্থিতিটা খুব চতুরতার সঙ্গে সামলে নেয়। শাহাদাত হোসেন শামীম হত্যাকাণ্ডের আগে পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থিত ছিল। কিভাবে কে কী করবে তার পুরো পরিকল্পনা সাজায় সে। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে সে ১০ হাজার টাকা নেয়। যে টাকা দিয়ে বোরকা ও কেরোসিন কেনা হয়। কাউন্সিলর মাকসুদ ২৮ মার্চ সিরাজের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে না থাকলে আইসিটি পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার হুমকি দিতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন তিনি। ঘটনার সব কিছু জানলেও ঘটনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি ফেনীতে অবস্থান করছিলেন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া অন্য চারজন হলো জোবায়ের, জাবেদ, পপি ও মনি। এর মধ্যে মনিকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বোরকা সংগ্রহ করতে বলে শামীম। এ টাকায় দুটি বোরকা ও হাতমোজা কেনে সে। আর নিজের কাছ থেকে একটি মিলিয়ে তিনটি বোরকা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় রেখে আসে। নুসরাতকে শুইয়ে ফেলতে সহায়তা করে এবং বুকের ওপর চাপ দিয়ে ধরে রাখে মনি। পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা ছিল এই মামলা তদন্তের প্রথম সূত্র। নুসরাত তার শেষ জবানিতে এই নামটি বলেছিল। পপি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পর কেরোসিন ঢালার গ্লাসটি নুসরাতের হাতে ধরিয়ে দেয়। যাতে বোঝা যায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে। মাদরাসার হেফজখানার শিক্ষক আব্দুল কাদের ঘটনার সময় মাদরাসার প্রধান ফটকের বাইরে পাহারায় ছিলেন। নুসরাত পরীক্ষার হলে ঠিকমতো পৌঁছেছে কি না, তার ভাই নোমান দেখতে চাইলে হাফেজ কাদের তাকে বাধা দেন। পরে তিনি নোমানকে জানান, নুসরাত গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ইংরেজির শিক্ষক আবছার উদ্দিনও গেটে পাহারায় ছিলেন। ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মামলার বাদীকে (নুসরাতের মা) ফোন করে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন তিনি। আরেক আসামি আব্দুর রহিম শরীফ বাইরের গেটে পাহারায় ছিল। ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন ও মহিউদ্দিন শাকিলও গেটে পাহারায় ছিল।

আরেক আসামি সোনাগাজী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ঘটনার পর মাদরাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি হিসেবে পুলিশ-প্রশাসন সব কিছু ম্যানেজ করার আশ্বাস দেন। হত্যাকাণ্ডটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করেন। ঘটনার পর শামীমের সঙ্গে দুই দফা ফোনে কথা বলে সব কিছু নিশ্চিত হন তিনি।

আসামিদের মধ্যে সিরাজ, পপি, জাবেদ, জোবায়ের, নুর উদ্দিন, শামীম, মনি, শরীফ, রানা, মামুন, শাকিল ও আব্দুল কাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি : পুলিশ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করলেও হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা মেলেনি। তারা হলো সিরাজের ছাত্র আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, সাবেক ছাত্র ও ব্যাংক কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ জনি, ছাত্র আলাউদ্দিন, শহিদুল ইসলাম। সিরাজের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও খুনের পরিকল্পনাসহ কোনো পর্যায়ে এই আসামিদের জড়িত থাকার তথ্য মেলেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন তার মা। ওই দিনই পুলিশ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৮ এপ্রিল তার ভাই সিরাজকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়। ওই দিনই হত্যার ধারায় যুক্ত মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে।

 

মন্তব্য