kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

সবজি প্রচুর তবু চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



সবজি প্রচুর তবু চড়া

এবার রমজানে ভোগ্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা তুলনামূলক কম। প্রতিবছর তেল, চিনি, পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হলেও এবার তা হয়নি। তবে কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি দামে মাছ, ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে; যদিও বাজারে সবজির কোনো কমতি নেই। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও সব ব্যবসায়ী তা মানছে না। প্রথম রমজান থেকে যেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামে গরু ও খাসির মাংস বিক্রি করছে। তবে অভিযান না থাকলে তালিকা লুকিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয় কোনো কোনো ব্যবসায়ী। বাজারে দেশি ফলের সরবরাহও ভালো। তা সত্ত্বেও দাম চড়া।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাসাবো, কারওয়ান বাজার, আজমপুর ও মিরপুর ১ নম্বর মার্কেটসংলগ্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে।

সকাল ১১টার কিছু আগে বাসাবো বাজারে ‘আলী ভাই ভাই গোশত বিতানে’ গরুর মাংস কিনতে কয়েকজন ক্রেতার ভিড় লক্ষ করা যায়। দোকানটিতে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানানো ছিল না। ক্রেতা ভেবে কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদকের কাছে দোকানি জানতে চাইল, ‘মাংস কিনবেন?’ দাম জিজ্ঞাসা করতেই ৫৫০ টাকা কেজি হাঁকানো হলো। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানানো নেই কেন জানতে চাওয়ামাত্রই সরকারি কোনো সংস্থার লোক মনে করে দোকানের মেঝেতে আড়াল করে রাখা তালিকা বের করে দৃশ্যমান স্থানে টানাল দোকানি। তার দেখাদেখি আশপাশের দোকানগুলোতেও তালিকা টানানোর হিড়িক পড়ে গেল।

আলী ভাই ভাই গোশত বিতানের মালিক মো. আফজাল হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করলে তাঁদের পোষায় না। গরু কিনতে যে খরচ হয় তাতে এক কেজি মাংসের দাম পড়ে ৫০০ টাকার বেশি। এ ছাড়া দোকান ভাড়া, কর্মচারীর খরচও আছে। ৫২৫ টাকা দরে বিক্রি করলে সামান্য লাভ থাকে। আফজাল হোসেন বলেন, ‘অনেক ক্রেতা আছে যাদের কাছে দাম কিছুই না, মাংস ভালো হইলেই হইল। তারা অনায়াসে ৫৫০ টাকা দরেই নিয়ে যায়। যারা দামাদামি করে তাদের কাছ থেকে ৫২৫ টাকাই রাখা হয়।’

গরুর মাংসের দোকানে তালিকা টানানো নেই, অথচ খাসির মাংসের দোকানে তা টানিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে আফজাল বলেন, ‘খাসির মাংস ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও ওদের লাভ আমাদের চেয়ে বেশি হয়। আর ৭৫০ টাকা বিক্রি করলে তো কথাই নাই।’

ওই দোকানে গরুর মাংস কিনতে যাওয়া পূর্ব বাসাবোর একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা শিমা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি কোনো সংস্থা থেকে বাজার নিয়মিত তদারকি হয় না। এই সুযোগে দোকানিরা খেয়ালখুশিমতো দাম হাঁকাচ্ছে। শুধু তাই নয়, মূল্য তালিকা টানানোর গুরুত্ব পর্যন্ত অনুধাবন করে না তারা।’ তিনি ক্রেতাদের স্বার্থে বাজার নিয়মিত তদারকির দাবি জানান।

ওই বাজারের আরো চার-পাঁচটি দোকানে ৫৫০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়।

উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজারে গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছে ৫৫০ টাকা দরে। খাসির মাংসের দাম উঠেছে ৭০০ টাকা। এ ছাড়া বিজিবি মার্কেটে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৫৩০ টাকা দরে। প্রথম রমজানে একই বাজারে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানায়।

কারওয়ান বাজারে প্রতিটি মাংসের দোকানেই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানানো দেখা গেছে। ক্রেতারাও নির্ধারিত দামেই মাংস কিনতে পেরেছে বলে জানায়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ‘দেশি গরুর মাংস’ বলে অনেকেই ‘বোল্ডার গরুর মাংস’ বিক্রি করে। অথচ প্রতি কেজি বোল্ডার গরুর মাংস ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন।

ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মাংস নির্ধারিত দামেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোনটা যে দেশি গরুর আর কোনটা বোল্ডার, সেটা বোঝার উপায় নেই।’

কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর গরুর সংকট রয়েছে। তবে ভেজাল করার সুযোগ নেই। কারণ যখন তখন মোবাইল কোর্টের লোক এসে ঘুরে যাচ্ছে।’

মিরপুর ১ নং মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসংলগ্ন কাঁচাবাজারেও মাংসের দাম স্থিতিশীল দেখা গেছে। বেঁধে দেওয়া দামেই গরুর মাংস বিক্রি করেছে ব্যবসায়ীরা।

দেশি মুরগির দাম প্রতিটি ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে : রমজানের শুরু থেকে দেশি মুরগির দামও হালিপ্রতি ২০০ টাকা অর্থাৎ প্রতিটি ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। কারণ জানতে চাইলে দেশি মুরগি হাউসের ব্যবসায়ী মো. দুলাল বলেন, দেশি মুরগির সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে। তাঁর দোকান থেকেই ১৪০০ টাকা দিয়ে এক হালি দেশি (প্রতিটি ৫০০ গ্রাম) মুরগি কেনেন উত্তর বাসাবো থেকে আসা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শামীম আলম খান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজার  আগেও ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের মুরগির হালি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় কিনেছি। এখন ৫০০ গ্রাম ওজনের মুরগিই ১৪০০ টাকায় কিনলাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোজা এলেই শুনি, কিছু পণ্যের মূল্য বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানেই শেষ, বাজার তদারক করতে আর দেখা যায় না। এই সুযোগে ক্রেতার পকেট কাটে ব্যবসায়ীরা।’

তবে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম সহনশীল দেখা গেছে। রমজানের আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণলতা ব্রয়লার হাউসের মালিক অনিল দেবনাথ বলেন, রোজায় ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কম। কিন্তু সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তাই দামও কিছুটা কমতির দিকে।

ছোট মাছের সরবরাহ কম, বড় মাছের দাম বেশি : বাজারে পর্যাপ্ত বড় মাছ থাকলেও ছোট মাছ একেবারেই কম। ফলে বড় মাছই কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। বড় মাছের দামও বেশি। প্রতি কেজি ছোট রুই ও কাতলার দাম ২৪০-২৫০ টাকা। মাঝারি রুইয়ের দাম ২৮০ টাকা কেজি। তবে দুই কেজির বেশি ওজনের রুই মাছের দাম ৩৫০ টাকা কেজি। মৃগেল, গ্রাস কার্পের দাম কিছুটা কম। কোনো কোনো বাজারে কই মাছ পাওয়া গেলেও দাম উঠেছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা পর্যন্ত।

বিজিবি কাঁচাবাজারে মাছ কিনতে যাওয়া আনোয়ারা বলেন, ‘রমজানের আগের চেয়ে বেশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। ছোট মাছের সরবরাহ বাজারে নেই বললেই চলে। চাষের মাছ ছাড়া কোনো মাছই পাওয়া যাচ্ছে না।’

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের দাম অন্যান্য সময়ের চেয়ে জাতভেদে কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি। প্রতি কেজি বড় আকারের গুলশা মাছ ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়, যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি। ছোট টেংরা অন্য সময় ৪০০-৪৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা অন্য সময়ের চেয়ে ১০০-১৫০ টাকা বেশি। বড় রুইয়ের দাম প্রতি কেজি ৩০০ টাকারও বেশি। ছোট মলা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে। তবে মলা মাছের সরবরাহ একেবারেই কম।

ওই বাজারে ক্রেতা হাবিবুর রহমান গতকাল দুপুরে বলেন, ‘মাছের বাজার এমনিতেই চড়া। তার ওপর রোজায় দাম আরো বেড়েছে।’

বাসাবো বাজারেও সব ধরনের মাছের দামই বেশি দেখা গেছে। মূল্য তালিকা টানিয়েও বেশি দাম হাঁকতে দেখা যায় বেশির ভাগ দোকানিকে। সকালে বাসাবোর নাজিম মার্কেটের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় রুইয়ের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছোট রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় ইলিশ মাছ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, ছোট ইলিশ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাইন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কোরাল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ও পাঙ্গাশ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা মৃদুল ঘোষ জানান, রোজার কারণে সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি। আগের চেয়ে কেজিতে ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 

বাজারে পর্যাপ্ত সবজি, দাম চড়া : উত্তরা এলাকার দুটি বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়ার দাম ৩০ টাকা, যা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশি। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৫৪ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। কচুর লতি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ টাকা বেশি। তবে করলা ৪০ টাকা, ঢেড়স ৩০ টাকা, বেগুন, কাঁকরোল, বরবটি, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে পর্যাপ্ত সবজি থাকার পরও দাম বেশ চড়া। তবে কোনো কোনো সবজির দাম সহনশীল রয়েছে।

দক্ষিণখানের শাহাবউদ্দিন কাঁচাবাজারে ক্রেতা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘সবজি যথেষ্ট রয়েছে। কিন্তু দাম বেশি। সব দোকানদার একসঙ্গে যুক্তি করে দাম বাড়ায়। সব দোকানে এক দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।’

তবে ব্যবসায়ীরা জানায়, সবজির সরবরাহ কম থাকলে পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দেয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে পাইকারদের কাছ থেকে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

উত্তরা বিজিবি মার্কেটের ব্যবসায়ী হারুন মিয়া বলেন, ‘সবজির দাম বেশি-কম করার পেছনে ছোট ব্যবসায়ীদের হাত থাকে না। সব পাইকারি ব্যবসায়ীরা করে। কম দামে কিনতে পারলে আমরা কম দামেই বেচি।’

বাসাবো বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজির দেখা মেলেনি। একসময়ের সস্তা সবজি হিসেবে পরিচিত পেঁপের দাম এখন ৬০ টাকা কেজি। রোজার আগেও ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আলুর দাম কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়ে ২৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ভেণ্ডি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পূর্ব বাসাবোর গৃহিণী রিক্তা বেগম বলেন, ‘দেখেন, দোকানগুলোতে সবজির অভাব নেই। কিন্তু সব সবজির দামই বেশি। কোনো সবজিই ৫০ টাকার নিচে নেই।’

মিরপুর ১ নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসংলগ্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য পণ্যের দাম অপেক্ষাকৃত

স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচাবাজারে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেশি। আদা (আমদানীকৃত) ১২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, শসা ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, তরমুজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, বাঙ্গি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, পাকা কলা ৩৬ থেকে ৪৮ টাকা (হালি), লেবু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতা ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। অথচ বাজারের বাইরে একই লেবু ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং ধনে পাতা ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছিল।

একই বাজারের দুই অংশে সবজির দরে বিশাল ফারাক : কারওয়ান বাজারের পাইকারি অংশে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা গেছে। বিভিন্ন সবজির দামও অন্যান্য বাজারের চেয়ে কম। তবে খুচরা অংশে গিয়েই সেগুলো বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল। প্রতি কেজি ঝিঙা পাইকারিতে ২২-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। কয়েক গজ দূরের খুচরা বাজারেই সেটি বিক্রি হয় ৬০-৬৫ টাকায়। আবার নতুন আসা করলা পাইকারিতে যেখানে বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকায়, খুচরায় দাম উঠেছে ৭৫-৮০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের সবজির আড়তদার কামাল হোসেন বলেন, ‘এই সিজনে বেশি সবজি পাওয়া যায় না। তবু এখন কিছু কিছু অঞ্চলে চাষ হয়। কিন্তু দাম থাকে চড়া। তবে খুচরা বাজারে পাইকারির চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করলে আমাদের কী করার আছে!’

চড়েছে দেশি ফলের বাজার : বাজারে বেশ কয়েকটি দেশি জাতের ফলের ভালো সরবরাহ লক্ষ করা গেছে। তবে সেগুলো বিক্রি হচ্ছিল বেশ চড়া দামে। কারওয়ান বাজারে ছোট আকারের একেকটি তরমুজ বিক্রি হয়েছে ২০০-২৫০ টাকায়। আর মাঝারি তরমুজ বিক্রি হয় ৪০০ টাকা বা তারও বেশি দামে। যদিও বাজারে তরমুজের সরবরাহ বেশ ভালো।

বিক্রেতা ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে তরমুজের চাহিদা বেশি, সে অনুযায়ী সরবরাহ কম। সে কারণে এবার দাম একটু বেশি।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শবরি জাতের কলা প্রতি ডজন ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি হালির দাম পড়েছে ৩৫-৪০ টাকা। তবে চাঁপা কলা প্রতি ডজন বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। প্রতি হালি সাগর কলা ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি পাকা পেঁপে ১২০-১৩০ টাকা, প্রতি কেজি পেয়ারা ৮০-১০০ টাকা, প্রতি কেজি আম ১৮০-২০০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি শ লিচু ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।

ক্রেতা মাসুম আরেফিন বলেন, ‘বাজারে অনেক ফল রয়েছে। কিন্তু রোজার কারণেই একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব।’   

[প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন জিয়াদুল ইসলাম, শওকত আলী, শাখাওয়াত হোসাইন ও তানজিদ বসুনিয়া]

 

মন্তব্য