kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১, আইএসের দায় স্বীকার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১, আইএসের দায় স্বীকার

ছবি: ইন্টারনেট

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার তিন দিন পরও হামলাকারীর পরিচয় পরিষ্কার হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে যাদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে, সেই ‘ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত’ (এনটিজে) এখনো হামলার দায় স্বীকার করেনি। কেউ বলছে, নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ‘প্রতিশোধ’ নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করেছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে আবার ‘জামায়াত আল-তৌহিদ আল-ওয়াতানিয়া’ নামের একটি সংগঠনের কথাও বলা হচ্ছে।

এদিকে গত রবিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৫ জনই শিশু। গতকাল মঙ্গলবার তিন মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করে শ্রীলঙ্কার মানুষ। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয় এই নীরবতা। গত রবিবার সাড়ে ৮টার সময়ই সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলে প্রথম হামলাটি হয়েছিল।

গতকাল শ্রীলঙ্কাজুড়ে এক দিনের জাতীয় শোক পালন করা হয়। সব ভবনে জাতীয় পতাকা ছিল অর্ধনমিত। নিহতদের মধ্যে গতকাল অনেকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহেকে ফোন করে সহমর্মিতা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। হামলায় জড়িত সন্দেহে গতকাল পর্যন্ত এক সিরীয়সহ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাংরি লা এবং সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলে আত্মঘাতী হামলায় অংশ নিয়েছিল দুই সহোদর। তাদের বাবা কলম্বোর শীর্ষ মসলা ব্যবসায়ীদের একজন। এই দুই ভাই এনটিজের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল বলেও দাবি করেছেন এক সরকারি কর্মকর্তা।

সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রবিবার আরেকটি হোটেলেও আত্মঘাতী হামলার ছক ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হামলাটি হয়নি। হোটেলটির নাম প্রকাশ না করে এএফপি জানায়, ঘটনার আগের দিন এক ব্যক্তি সেখানে ওঠেন। রবিবার সকালে তিনি একটি অনুষ্ঠানস্থলেও ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি হামলা চালাননি। তবে কী কারণে তিনি হামলা থেকে বিরত থাকলেন, সে বিষয়ে এএফপির প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

শ্রীলঙ্কার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান বিজেবর্ধনে গতকাল দাবি করেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুক হামলার প্রতিশোধ নিতেই আমাদের এখানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি আরো দাবি করেন, ‘জামায়াতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়ার (জেএমআই) সঙ্গে এনটিজের যোগসাজশ রয়েছে।’ তবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে হামলার প্রতিশোধ নিতে শ্রীলঙ্কায় হামলা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

এদিকে হামলার পর গতকাল রাতে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে প্রথম অধিবেশন বসার কথা। সতর্ক থাকলে রবিবারের হামলা এড়ানো যেত কি না—অধিবেশনে তাই নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তারাও বলছেন, হামলার বিষয়ে সতর্ক করার পরও কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, সেটিই সবচেয়ে বেশি করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধানের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও  যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি তাদের জানিয়েছিল। শ্রীলঙ্কা সরকারের মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে দাবি করেছেন, ওই সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে কিংবা শীর্ষ মন্ত্রীদের জানানো হয়নি। তবে বিক্রমাসিংহে গতকাল ভারতের এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাতে কয়েকটি ত্রুটি ছিল।’ তার পরও ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিল বলে দাবি করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনার দপ্তর থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে এনটিজের ওপর দোষ চাপানো হলেও সংগঠনটি এখনো হামলার দায় স্বীকার করেনি। এর মধ্যে গতকাল আইএস হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। ‘আমাক’কে আইএসের মুখপত্র উল্লেখ করে এসব গণমাধ্যম বলছে, নিজেদের সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে আইএস হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে।

সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি।

মন্তব্য