kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ : এমডি

টিআইবির গবেষণা প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ : এমডি

ফাইল ছবি

ওয়াসার দুর্নীতি, অনিয়ম ও পানির নিম্নমান নিয়ে প্রকাশ করা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে পাইপলাইনে সরবরাহ করা রাজধানীর সব কটি এলাকার পানি শতভাগ সুপেয় এবং নিরাপদ বলে দাবি করেছে ওয়াসা। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

ওয়াসার দাবি, নিম্নমানের পানি ফোটাতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকা খরচ হয়—টিআইবির এই তথ্য গবেষণালব্ধ নয়। এটা সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর। ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় হওয়ায় ফোটানোর কোনো প্রয়োজন নেই। রাজধানীতে বসবাস করা প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ মানুষ সবাই পানি ফুটিয়ে পান করে না। এ ছাড়া ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ওয়াসা পানির সংযোগ প্রদান করে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকার ১০টি জোনের ২৪২টি এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পানি পরীক্ষা করেছে ওয়াসা। এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটি আরো জানায়, ২০০৯ সালে ওয়াসার রাজস্ব আয় ছিল ৬৪ শতাংশ। কিন্তু গত বছর তা ৯৮ শতাংশ হয়েছে। এই হিসাবে গত ১০ বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় বেড়েছে। এ ছাড়া সিস্টেম লস ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করায় আরো ২০০ কোটি আয় বাড়ানো হয়েছে। হটলাইনের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ নেওয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক অর্থ লেনদেন ও হয়রানির সুযোগ নেই ওয়াসার কর্মীদের।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় হওয়ায় পানির মান নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই সেবাগ্রহীতাদের। এ ছাড়া ওয়াসার পানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব কটি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে পরীক্ষিত। তিনি বলেন, টিআইবি পানি ও পয়োনিষ্কশন ব্যবস্থার মান নিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। এটি কোনো গবেষণা নয়, অনুমাননির্ভর তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াসার সক্ষমতা নিয়ে টিআইবি প্রশ্ন করেছে। অথচ ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অনুকরণীয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ঢাকা ওয়াসাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণায় ঢাকা ওয়াসার নিম্নমানের পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবায় রাজধানীর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সেবাগ্রহীতা অসন্তুষ্ট উল্লেখ করে টিআইবি। একই সঙ্গে ওয়াসার অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সেবন করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে নগরবাসী এবং পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করতে প্রতি বছর ৩৩২ কোটি টাকার বেশি জ্বালানি ব্যয় হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য