kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

যৌথ সভায় শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে

তৃণমূলের যৌথ সভায় এমপিদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে

বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার শুরুতে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছি, জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। এ জন্য আমরা আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি করেছি। এই কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে তৃণমূলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর।’

আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ একসঙ্গে বসেছি। সেই সঙ্গে আমরা আর একটি কাজ করতে চাই, এরই মধ্যে আমাদের প্রেসিডিয়াম মিটিং করেছি, ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করেছি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম কার্যকরী সদস্যদের নিয়ে আটটি বিভাগে কমিটি গঠন করেছি; যে কমিটির দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। কোথায় কমিটি আছে, না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরো মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচন, যেটা হয়ে গেল; যদি নির্বাচনের দিকে তাকান দেখবেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে; যেটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র; সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার সবাই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে, তাদের সেবা করার জন্য ভোট দিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘অপরদিকে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান—যেহেতু মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো।’ তিনি বলেন, নির্বাচনকে তারা মনে করেছে ব্যবসা। দলটির টিকিট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে; কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে যখন সার্ভে করা হয়েছিল, সেই সার্ভেতে তখন থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। তারা নির্বাচন করার জন্য নয়, বাণিজ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যার জন্য তাদের এই হাল। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যা-ই হোক, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ—এগুলোই ছিল তাদের কাজ। আজকে দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে।

এবারের নববর্ষ সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদ্যাপন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার ব্যাপকভাবে নববর্ষ উদ্যাপন হয়েছে। শ্রেণি-পেশা-নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবটা করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি।’ বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার পথে। আমরা প্রায় ৪০ থেকে ২১ শতাংশে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করব। এই উদ্যাপনের লক্ষ্য নিয়েই বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। সরকারিভাবে কমিটি করেছি, ব্যবস্থা নিয়েছি। পার্টির পক্ষেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা একটি কমিটি করেছি। সেই কমিটির মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলাম ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন করব। এই সময়টাকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।’

তৃণমূলের যৌথ সভায় দলীয় এমপিদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক : আওয়ামী লীগের তৃণমূলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যৌথ সভায় স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত জানান দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলা পর্যায়ে এই যৌথ সভা করবে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত আওয়ামী লীগের আট কমিটি। সভায় শেখ হাসিনা সংসদ অধিবেশন যখন চলবে তখন তৃণমূলে যৌথ সভা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে। 

আগামী ২৪ এপ্রিল সংসদ অধিবেশন শুরু এবং এরপর এক মাস রোজা হওয়ায় মূলত ঈদের পর তৃণমূলের যৌথ সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ যৌথ সভাগুলোতে অপূর্ণাঙ্গ জেলা ও উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সম্মেলনের মাধ্যমেও জেলা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেবেন। গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় প্রায় ৪০ জন নেতা সমসাময়িক ও সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলেন। সভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

সভায় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মুকুল বোস দলের অপর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এর প্রতিবাদে একটি বিবৃতি তৈরি করা হয়েছিল। সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার বজলুল হকের কাছে তাঁরা গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি (বজলুল হক) ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেননি। অথচ সেই ব্যক্তি এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান রাজাকার ছিলেন এবং অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সভা সূত্র জানায়, মুকুল বোসের এসব অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব কথা থাক। তিনি (মুকুল বোস) কী করেছেন সেটাও জানেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক পরিস্থিতিতে অনেককে রাখতে হয়েছে। এসব ধরলে চলে না। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশে ফিরে আসেন তখন আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন। এখনো কে কী করে সেটা জানেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সহযোগী সংগঠনের শোডাউন : এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাপক শোডাউন করেছে দলের সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মৎস্য ভবন থেকে শুরু করে গুলিস্তানের শহীদ নূর হোসেন চত্বর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়।

মন্তব্য