kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ

কম ভোটারেও সংঘর্ষ গুলি প্রাণহানি বর্জন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



কম ভোটারেও সংঘর্ষ গুলি প্রাণহানি বর্জন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাচনে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ফরহাদকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলা নির্বাচনে প্রথম দুই ধাপের মতো গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপেও ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। এর মধ্যেও ভোটকেন্দ্র দখল করা নিয়ে সংঘর্ষ ও গুলি, আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরিয়ে ফেলা, জাল ভোট ও ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে একটি উপজেলা ও ১৪ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। একাধিক স্থানে ভোট বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরিয়ে ফেলার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ভোট জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় জেলার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একাধিক স্থানে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে ভোটগণনা শেষে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় উজ্জ্বল প্রামাণিক (৩৭) নামের একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি হামলায় না অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন—এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

গতকাল দেশের ২৫ জেলার ১১৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল এ নির্বাচন বর্জন করেছে।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় গণনা শুরু হয়। রাতে ভোটের ফল আসতে শুরু করে। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১৭টি উপজেলার মধ্যে ৫৭টির ফলাফল পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের ঘোষণা করা ফলাফল অনুযায়ী, ৩৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ১২টিতে বিজয়ী হয়েছেন দলটির ‘বিদ্রোহীরা’। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন ৯টি উপজেলায়। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী জিতেছেন একটি উপজেলায়।

আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, তৃতীয় ধাপের ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভোটের পার্সেন্টেজ কত হলো এটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বিষয়টা হলো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না।’

উপজেলায় ভোটের হার কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘কমিশন বলেছে, অনেকেই (দল) নির্বাচন করেনি (অংশগ্রহণ করেনি)। প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় রাঙামাটি জেলা বাদ দিয়ে ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাঙামাটির ফলাফল যদি আমরা পাই, তাহলে গড়ে আমাদের মনে হয় ৪৫ শতাংশ হবে। আর তৃতীয় ধাপে আমরা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করছি।’ 

হেলালুদ্দীন আহমেদ আরো বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক জোট নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা কিন্তু ভোটে আসেনি। অন্যদিকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসার জন্য তাদের প্রচারণা আছে। এসব আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

ইসি সচিব বলেন, কটিয়াদীতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত করে আরো কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংঘর্ষ-গুলি : চন্দনাইশ পৌর সদরের পূর্ব চন্দনাইশ চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জোর করে ব্যালটে সিল মারতে বাধা দিলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন কনস্টেবল ফরহাদ হোসেন (২২)। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। একই কেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পরিদর্শক শাহ আলমও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় প্রায় ৪০ মিনিট ওই কেন্দ্রে ভোট বন্ধ ছিল। পুনরায় ভোট শুরু হলে পৌনে ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা আবারও গুলি ছুড়ে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে ভোট স্থগিত করা হয়। চন্দনাইশের উত্তর বরকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দুর্বৃত্তদের হাতাহাতি হয়। একই উপজেলার দক্ষিণ জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ব্যালটে সিল মারার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। তারা দুই পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে ফেলে। পরে বিশেষ বাহিনী দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের বেশ কিছু কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে শহরের গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুটি কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সরকারদলীয় প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয় আটজন।

নড়াইলের কালিয়ার নোয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে কিছুক্ষণ ভোট বন্ধ থাকে।

মেহেরপুরের গাংনীর সহড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গ্রেপ্তার করে একজনকে। একই উপজেলার চেঙ্গারা কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বাশবাড়িয়া কেন্দ্রে একজন আহত হয়েছে। মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস মিয়া মুনসুর এমএম একাডেমি ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুর ও সদর উপজেলার পাকাকাঞ্চনপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহের শৈলকূপায় কেন্দ্র দখল নিয়ে নৌকা ও আনারস প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ছয়জন আহত হয়েছে। একই উপজেলার দুলালমুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে বাধা দেওয়ায় প্রিসাইডিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায়ও একজনকে আটক করা হয়েছে। জেলার কালীগঞ্জের দুলালমুন্দিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর করেছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এ সময় পুলিশ দলটির পোলিং এজেন্ট শাহীনকে আটক করে।

বরিশালের হিজলার গুয়াবাড়িয়ার মাউলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

ঝালকাঠির রাজাপুরে বড়ইয়া ইউনিয়নের নিজামিয়া কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মিলন মাহমুদ বাচ্চুর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় মিলনের সমর্থক বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল আবেদীন পরপর পাঁচটি গুলি ছোড়েন। এতে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ জাহিদুলকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে একটি দোনালা বন্দুক (লাইসেন্সকৃত), একটি এয়ারগান ও  বন্দুকের ২২টি গুলি জব্দ করা হয়েছে।

ভোট স্থগিত, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার : রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা—এসব অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কটিয়াদী উপজেলার সব কয়টি অর্থাৎ ৮৯টি কেন্দ্রই স্থগিত ঘোষণা করেছে। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মো. শামসুদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কটিয়াদীর দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী লায়ন মো. আলী আকবর  (দোয়াত-কলম), ডা. মোস্তাকুর রহমান (ঘোড়া) ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপির কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের সহায়তায় শনিবার রাতে বেশ কিছু কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখে। গতকাল সকালে অন্তত পাঁচটি কেন্দ্রে গিয়ে বাক্সে ব্যালট ভর্তি দেখা যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন দুই প্রার্থী। এরপর আরো কিছু কেন্দ্র থেকে একই ধরনের অভিযোগ আসতে থাকে। জেলার একাংশের রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে ব্যালট বাক্স ভর্তি দেখতে পান। নির্বাচন কমিশনে এসব তথ্য দেওয়ার পর সব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসরুকুর রহমান খালেদ জানান, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদীর ওসি মো. শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। 

এ ছাড়া ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুটি কেন্দ্র, গাজীর চর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্র, সরিষাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও জোয়ারিয়া প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র এবং ভৈরবের জগন্নাথপুর নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চণ্ডীবের হাজি আসমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

স্থগিত হওয়া অন্য ভোটকেন্দ্রগুলো হলো—চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পূর্ব চন্দনাইশ চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ঈশ্বরবা দাখিল মাদরাসা, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ২৭ নম্বর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের হাউসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আটক : ব্যালটে সিল মারাসহ নানা অভিযোগে কয়েকজন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন—চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব চন্দনাইশ চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মমতাজ উদ্দীন ও মোহাম্মদ আলম, গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শাহ আলম ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার কহিনুর আকতার লিপি, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ২৭ নম্বর ভোটকেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার রুহুল আমিন।

ভোট বর্জন : আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক স্থানে ভোট বর্জন করেছেন বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাঁরা হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবর আলী বিশ্বাস  ও আনোয়ারুল ইসলাম, ঝালকাঠি সদরের সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ও কাঁঠালিয়ার গোলাম কিবরিয়া সিকদার ও মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, মানিকগঞ্জ দৌলতপুর উপজেলার আব্দুল কাদের ও আমিনুর রহমান এবং বরিশালের উজিরপুরে আবুল কালাম আজাদ বাদল। তাঁরা মূলত আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। এ ছাড়া বরিশালের বাকেরগঞ্জে কলস প্রতীকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী খাদিজা বেগম ভোট বর্জন করেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান যাঁরা : কুষ্টিয়া সদরে আতাউর রহমান আতা, মেহেরপুর সদরে ইয়ারুল ইসলাম, মুজিবনগরে জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠাণ্ডু, বরিশাল সদরে সাইদুর রহমান রিন্টু, বাকেরগঞ্জে শামসুল আলম চুন্নু, বানারীপাড়ায় গোলাম ফারুক, গৌরনদীতে সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরী, আগৈলঝাড়ায় আবদুর রইচ সেরনিয়াবাত, মুলাদীতে তারিকুল হাসান খান মিঠু, ঝালকাঠির নলছিটিতে সিদ্দিকুর রহমান, ভোলার বোরহানউদ্দিনে মো. আবুল কালাম আজাদ, মাদারীপুরের শিবচরে মো. শামসুদ্দীন খান, কালকিনিতে মীর গোলাম ফারুক, শরীয়তপুর সদরে আবুল হাসেম তপাদার, জাজিরায় মোবারক আলী সিকদার, নড়িয়ায় এ কে এম ইসমাইল হক, ভেদরগঞ্জে হুমায়ুন কবীর, ডামুড্যায় আলমগীর হোসেন মাঝি, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এ বি এম নুরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ সদরে ইসরাফিল হোসেন, শিবালয়ে রেজাউর রহমান খান, হরিরামপুরে দেওয়ান সাইদুর রহমান, সাটুরিয়ায় আব্দুল মজিদ ফটো, গাজীপুরের কালীগঞ্জে মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, নরসিংদীর পলাশে সৈয়দ জাবেদ হোসেন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে আছিয়া আলম, চাঁদপুরের মতলব উত্তরে এম এ কুদ্দুস, মতলব দক্ষিণে এ এইচ এম গিয়াসউদ্দিন, হাজীগঞ্জে গাজী মো. মাইনউদ্দিন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তৌহিদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজারের উখিয়ায় হামিদুল হক চৌধুরী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা