kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডাকসুর যাত্রা শুরু

আবাসন সংকট নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য প্রস্তাবে ভিন্নমত

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আবাসন সংকট নিয়ে আলোচনা

নবনির্বাচিত ডাকসু নেতাদের অভিষেক শেষে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে আসনবণ্টন এবং বিদ্যমান গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা ভেঙে দিয়ে আবাসন সংকট সমাধানে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিতরা। তবে তাঁদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাবের ওপর ভিন্নমত তুলে ধরা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মত সদস্য করার পক্ষে গেলেও সমাধান ছাড়াই সভা শেষ হয়। পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব আনেন। কিন্তু ডাকসুর এ নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে এ সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মতো সম্মানিত ব্যক্তিকে আজীবন সদস্য পদ না দিতে মত দেন সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর আর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া ২৩টিতেই জিতেছে ছাত্রলীগ।

২৮ বছরের বেশি সময় পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিষেক হলো গতকাল শনিবার ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায়। পাশাপাশি ১৮ হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিষেক হয় প্রাধ্যক্ষদের সভাপতিত্বে হলগুলোতেই। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিষেক অনুষ্ঠান ও সভা শেষে ডাকসুর ২৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তন ও ভাষাশহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সব শেষে আইবিএ ক্যান্টিনে সবাই মিলে দুপুরের খাবার খান।

অভিষেক সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান শুরুতে নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে সবাইকে প্রশাসনের সঙ্গে এক হয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানান। এরপর নির্বাচিত ছাত্রনেতারা বক্তব্য দেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যা পরবর্তী সভায় প্রস্তাব আকারে জমা দিতে বলা হয়। সভার শুরুতে ১৯৭১ সাল-পরবর্তী শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব আনা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করা নিয়ে ভিন্নমত : সভায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব করেন। এতে ভিন্নমত প্রকাশ করে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বড় একটি অংশ এ নির্বাচন মানছে না; অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে; কিন্তু এখনো সুপারিশ পাওয়া যায়নি। কাজেই এ নির্বাচনের গঠিত সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মতো সম্মানিত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত না করাই ভালো। একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে করলেই ভালো হবে।’

ভিপি নুরের এ কথায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শুধু সমাজসেবা সম্পাদক আখতার তাঁর কথায় সায় দেন। বিষয়টির এরপর সমাধান হয়নি। আগামী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

সভা শেষে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎসাহ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তিনি যে আশ্বাস দিয়েছেন তার সবই বাস্তবায়ন করেছেন। এতে আমরা আত্মপ্রত্যয়ী ও শক্তি অনুভব করেছি। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী।’

উপাচার্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি প্রস্তাব এসেছে, তাঁকে আজীবন সম্মাননা সদস্য পদ প্রদান করা হবে। সংসদীয় আইনের ভাষায় যেভাবে আছে, সেটা দেখেই করা হবে। প্রস্তুাবটি গ্রহণ করা হয়েছে, আগামী সভায় এজেন্ডা আকারে উপস্থাপন করা হবে।’

জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘প্রথম দিনে আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ বিষয়ক প্রস্তাব রেখেছি। হলের আবাসন সংকট, গণরুম ও গেস্টরুম সংকট সমাধান এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। ক্যাম্পাসে সাইকেল ও রিকশা লেন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখানে সব রিকশা চলতে পারবে না, নির্দিষ্ট ভাড়ায় তিন শতাধিক রিকশা চলবে, তাদের পোশাকও নির্দিষ্ট করা হবে। রাতে বড় বড় গাড়ি চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে।’

সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা ভেঙে দিতে জোর দাবি জানিয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুর। পাশাপাশি বহিরাগতদের তাড়িয়ে বৈধদের আসন বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ প্রস্তাবে সবাই ঐকমত্য পোষণ করে। জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করার বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

সিনেটে পাঁচ প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধির বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সিনেটে থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিনিধি নেই। সেই বন্ধ্যত্ব কাটাতে ডাকসুর প্রথম সভায় ছাত্র প্রতিনিধি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা