kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বরিশাল বিমানবন্দর

নিরাপত্তাব্যবস্থায় নাজুক সরঞ্জাম জনবলের অভাব

বরিশাল অফিস   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপত্তাব্যবস্থায় নাজুক সরঞ্জাম জনবলের অভাব

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলেও বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নড়বড়ে। সীমানাপ্রাচীর পর্যাপ্ত উঁচু না হওয়ায় এবং সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যাওয়ায় বিমানবন্দরে অনায়াসে ঢুকে পড়ে লোকজন, গরু-ছাগল। এ ছাড়া জনবলের অভাবসহ রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। এর মধ্যেই বিমানবন্দরটি থেকে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট ঢাকায় আসা-যাওয়া করে।

সম্প্রতি বরিশাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, চারপাশে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও কয়েকটি স্থানে তা ভেঙে গেছে। বেশ কিছু স্থানে দেয়ালের নিচে মাটি না থাকায় ফাঁকা হয়ে গেছে। সেখান দিয়ে লোকজন ও গবাদি পশু বন্দরে ও রানওয়েতে ঢুকে পড়ছে।

নভো এয়ারলাইনসে ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা তেমন একটা নেই। নিরাপত্তারক্ষীরা যাত্রীদের তেমন একটা তল্লাশিও করেন না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকে যায়।’ এ ছাড়া কোনো ভিআইপি যাত্রী এলে তাঁর অনেক লোকজন অনায়াসে ঢুকে পড়ে বলেও তিনি জানান।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাজনৈতিক নেতারা যখন যাতায়াত করেন, তখন দলীয় কর্মীদের কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। বিশেষ করে ক্ষমাতসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা যখন বরিশালে আসেন অথবা ঢাকায় যান, তখন কর্মীরা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে এয়ারক্রাফটের দরজা পর্যন্ত চলে যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা কঠোর হলে হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয় তাদের।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য দুটি রেসকিউ অ্যান্ড ফায়ার ফাইটিং (আরএফএফ) যান থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবল নেই; আটজনের জায়গায় আছে পাঁচজন। কন্ট্রোল টাওয়ারে চারজনের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও আছেন একজন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় ১৬০ দশমিক ৫ একর জমির ওপর স্থাপিত বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে ২৪ জন নিরাপত্তাকর্মী। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিমানবন্দরটির উন্নয়ন করে চালু করা হলেও এখনো এ বিমানবন্দরের উপযুক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। এ বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামার সুযোগ নেই। ফলে সূর্যাস্তের আগেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিকেলের দিকে কোনো ফ্লাইট বিলম্বিত হলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।

বরিশাল বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার কামরুল হাসান বলেন, সীমানাপ্রাচীর জরুরি ভিত্তিতে উঁচু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কন্ট্রোল টাওয়ারের আধুনিকায়ন, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা এবং রানওয়েতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক রথীন্দ্রনাথ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় একটি করে স্ক্যানিং মেশিন, আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর আছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা