kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পিকআপের চাপায় পা-হারা নিপার প্রশ্ন

আমার পড়ালেখার কী হবে?

ফিরোজ গাজী, যশোর   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমার পড়ালেখার কী হবে?

গত বুধবার সকালে নিজ বিদ্যালয়ের সামনে বেপরোয়া গতির পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে ডান পা হারায় মিফতাউল জান্নাত নিপা। ভেঙে যায় তার ডান হাত। এই যন্ত্রণার মধ্যেও অন্য চিন্তা পোড়াচ্ছে শিশু নিপাকে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তার পড়াশোনার কী হবে, সে ডাক্তার হতে পারবে কি না—এসব বারবার জানতে চাচ্ছে বাবার কাছে।

মিফতাউল জান্নাত নিপা যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণের দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং বুরুজবাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রথম (ক্রমিক সংখ্যা ১) হয়ে আসছে সে। 

নিপার সুষ্ঠু চিকিৎসা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে তার পরিবার। দুর্ঘটনার দিনই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন থেকে চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিপার চিকিৎসা ছাড়া মেলেনি আর কোনো সহযোগিতা। এ পরিস্থিতিতে নিপার অসহায় বাবা বললেন, ‘নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও মেয়ের চিকিৎসা করাব।’

গতকাল দুপুরে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগের ৩ নম্বর কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ে নিপার মাথার কাছে বসে আছেন বাবা রফিকুল ইসলাম। কাটা পা ও ভাঙা হাতের যন্ত্রণার মধ্যেও নিপা নিজের পড়াশোনা ও ডাক্তার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করছে বাবাকে। আর মেয়ের সুষ্ঠু চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ চিন্তায় অস্থির বাবা মেয়েকে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।

নিপার বাবা জানালেন, মা, স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। তিনি শিক্ষকতা করেন নাভারণের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। বেতন পান সামান্য। এ দিয়েই মেয়ের পড়াশোনাসহ পাঁচজনের সংসারের খরচ চালান কোনোরকমে। দুর্ঘটনার দিন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল এসেছিলেন নিপাকে দেখতে। তখন তিনি বলেছিলেন, সব ধরনের চিকিৎসার খরচ জেলা প্রশাসন বহন করবে। পরে পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি এসেছিলেন। তিনিও বলেছিলেন সহযোগিতার কথা। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ছাড়া জেলা প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি নিপার বাবা। ওষুধসহ চিকিৎসার অনেক সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে তাঁকে। এতে এক দিনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাঁর। আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা আর বাড়ির দুটি গরুর একটি বিক্রি করে খরচ চালাচ্ছেন তিনি। অন্য গরুটিও বিক্রি করে দেওয়া লাগতে পারে নিপার চিকিৎসার জন্য। দুশ্চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে নিপার বাবাকে। 

শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে নিপার মামা ইয়ানুর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। পিকআপটির চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা