kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাশে থাকব যৌক্তিক আন্দোলনে

বিশেষ সাক্ষাৎকারে জিএস গোলাম রাব্বানী

হাসান মেহেদী   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাশে থাকব যৌক্তিক আন্দোলনে

গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যেকোনো নৈতিক ও যৌক্তিক আন্দোলন ও দাবির সঙ্গে বিনা বাক্য ব্যয়ে পাশে থাকব। সেটা সরকার বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গেলেও কোনো ব্যাপার না। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। সুতরাং শিক্ষার্থীরা যেটা চাইবে সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেব।’

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণে কাজ করবেন জানিয়ে রাব্বানী বলেন, ‘এরই মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা, আবাসন সমস্যা, খাবারের মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বীমা চালু করার বিষয়ে আমরা কাজ করার পরিকল্পনা করেছি।’

ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস বলেন, হলগুলোতে যেসব সমস্যা রয়েছে, যেমন—বিজয় একাত্তর হলে সারা রাত লিফট চালু রাখা, মেয়েদের হলগুলোতে গেট খোলা রাখার সময় বাড়ানো, মেয়েদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি আছে সেগুলো নিয়েই ডাকসু কথা বলবে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশা ভাড়া নির্ধারণ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশা ও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন তৈরি করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে জানিয়ে রাব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা দিতে চাই। নিরাপত্তা চৌকি বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাত ১০টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করার চেষ্টা করব।’ প্রতিটি হলে রিডিং রুমের সংখ্যা, হল লাইব্রেরি খোলা রাখা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংস্কার ও ডিজিটাইজড করার বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

গোলাম রাব্বানী বলেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন সেটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা আইডি তৈরি করা, যেটি ব্যবহার করে তারা ঘরে বসেই ভর্তির টাকা জমা, বেতন দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ করতে পারে।

গোলাম রাব্বানী আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু অথবা এম ওয়াজেদ মিয়ার নামে একটি বিজ্ঞান গবেষণাগার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানিয়েছি; যেখানে সব ধরনের গবেষণা হবে। এটি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আগামী বাজেটে গবেষণার জন্য আলাদা বাজেট দেবেন।’ এ বাজেট যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খেয়ালখুশি মতো ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য ডাকসু থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

রাব্বানী বলেন, আন্তর্জাতিক যেসব সম্মেলন হয় সেখানে ডাকসুর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে দেশের বাইরে থেকেও শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে। আইডিয়া আদান-প্রদান হবে। সেই ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা পথ দেখাতে চাই। পরে যারা আসবে তারা যাতে এসব কাজকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এটি একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমরা চ্যালেঞ্জটিকে মোকাবেলা করতে চাই।’

ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাব্বানী জানান। তিনি বলেন, ‘সিনেটে ডাকসুর যে প্রতিনিধিদল যাবে প্রথম অধিবেশনেই আমরা এই প্রস্তাব উত্থাপন করতে চাই। আশা করব, এটা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২৫টি ডাকসু পদ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের সমস্যা বিবেচনায় আমরা মনে করি এই পদ আরো বাড়ানো উচিত।’ শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্রভিত্তিক (টিএসসি) সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের চারজন প্রতিনিধি ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরো বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডাকসুর জিএস। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামনে শতবর্ষ উদ্যাপন করবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ডাকসুর মাধ্যমে জাঁকজমকভাবে পালন করব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা