kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হলের ‘ইজারা’ নির্যাতন বন্ধ করা হবে

বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভিপি নুরুল হক নুর

রফিকুল ইসলাম   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হলের ‘ইজারা’ নির্যাতন বন্ধ করা হবে

নুরুল হক নুর বলছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তাঁর ভাষায়— কলঙ্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সে স্বপ্ন ধ্বংস করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। আগামীতেও ডাকসু সচল রাখতে হবে। প্রতিবছরই যেন নির্বাচন হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। যেকোনো বাধা বা সমস্যা আসুক নির্বাচন চালু রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হল লাইব্রেরির সংকট নিরসনে কাজ করবেন জানিয়ে নুর বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলে হলে সিট মেলে। আর না গেলে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্রসংগঠনের খড়্গ নেমে আসে। সিটের বিনিময়ে শিক্ষার্থীকে বানানো হয় অনুগত দাস। অকর্মণ্য হল প্রশাসনও সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠনকে হলের অলিখিত ইজারা দেয়।’ এই ইজারা উচ্ছেদ ও প্রশাসনের কূটকৌশলের বিরুদ্ধে কাজ করবেন তিনি। নুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জোর করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেওয়া, গণরুম ও গেস্টরুমের নামে নির্যাতন থামিয়ে দিতেও আমি সক্রিয় থাকব।’

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ায় ক্যাম্পাসে রিকশা সার্ভিস, শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট সমাধান ও বাস রুটের সংখ্যা বাড়ানোসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সংকট সমাধানে কাজ করবেন বলে জানান ভিপি নুর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানে আধুনিক বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে আছে, সে ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে ভিপি নুর বলেন, গবেষণাধর্মী শিক্ষার মান উন্নত করতে সবাইকে নিয়ে কাজ করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জায়গা সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি থাকার বিধান থাকলেও ২৮ বছর অগণতান্ত্রিক পথেই হেঁটেছে বিশ্ববিদ্যালয়—এমন উপলব্ধির কথা জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, এটা নিয়ে দেশে নেতিবাচক বার্তা ছিল। সিনেট পূর্ণাঙ্গের মাধ্যমে এখন উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনও দিতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাকের মতো জ্ঞানী ও বিদ্বান ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন রাজনৈতিকভাবে উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের টার্গেট থাকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক তোষণ। আমাদের দাবি যোগ্য, জ্ঞানী ও শিক্ষা-গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নুর বলেন, ডাকসু সচল হওয়ায় এখন শিক্ষকরা আর অপরাজনীতির চর্চার সুযোগ পাবেন না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বিভাগ প্রয়োজন। যদিও কোনো কোনো বিভাগের প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও খোলা হয়েছে। কেবল স্বজনপ্রীতি বা দলীয় লোককে নিয়োগ দিতে বিভাগ খুললে হবে না। চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও বিভাগ খোলা বন্ধ করতে হবে। যেসব বিভাগে চাহিদা কিছুটা কম সেখানে আসন কমিয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিভাগের আসন বাড়াতে হবে।

নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জাতিকে এগিয়ে নিতে দেশে শিক্ষা-গবেষণায় জোর দিতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও লেখাপড়া বাদ দিয়ে তোষণে ব্যস্ত। গবেষণায় বরাদ্দও পর্যাপ্ত দেওয়া হয় না। আমাদের দাবি, গবেষণায় জিডিপির ২ শতাংশ আর বিশ্ববিদ্যালয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা