kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

আর ‘ঐক্যফ্রন্টনির্ভর’ থাকবে না বিএনপি

শফিক সাফি   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আর ‘ঐক্যফ্রন্টনির্ভর’ থাকবে না বিএনপি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ জন্য দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক এখন থেকে নিয়মিত হবে। সেখানে নতুন নতুন কর্মসূচি নির্ধারণের পর তা সব ইউনিটকে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিশেষ করে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হবে এসব কর্মসূচি। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসনের মুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা জোরালো কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ জন্য নিয়মিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের বাইরে বিএনপি নিজেদের মতো করে কর্মসূচি নির্ধারণ ও পালন করবে।

সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে কমিটির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির ছাত্রদলের বিরোধিতা করেছিল। বিএনপির জোটে জামায়াত থাকায় নতুন প্রজন্ম ডাকসুতে ছাত্রদলকে ভোট দেয়নি। এর জবাবে ডানপন্থী এক নেতা বলেন, ‘জামায়াত থাকার কারণে ভোট কমলে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট হওয়ায় আমাদের ভোট কমেছে। কারণ, জয়বাংলা স্লোগানধারীদের সঙ্গে জোট হয়েছে। এতে বিএনপি সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। এর মধ্যে একজন জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে যোগ দিয়ে এখন বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে।’ ডানপন্থী ওই নেতা এ সময় আরো বলেন, “ড. কামালকে নেতা বানিয়েছে বিএনপি। তাঁর নেতৃত্বে আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলাম। কিন্তু ফল কী হলো। আমরা বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের ওপর তাঁর মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে এখনো কোনো কর্মসূচি আসেনি। কেন? বিএনপিও রাজপথে ‘কঠোর’ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ফ্রন্ট যে কর্মসূচি ঘোষণা করে, জোটের প্রধান ও বড় শরিক তাদের নির্দেশমতো কর্মসূচি পালন করে। কেন আমরা তাদের কথামতো কর্মসূচি নেব ও পালন করব। তাদের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। আমাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদেরই কর্মসূচি নির্ধারণ করা উচিত। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সপ্তাহে অন্তত এক দিন বৈঠকে বসবে। সেখান থেকে নিয়মিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সূত্রগুলো বলছে, ডানপন্থী ওই নেতার বক্তব্যকে সমর্থন করেন উপস্থিত বেশির ভাগ নেতা। ওই বৈঠকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই ঐক্যফ্রন্টের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাপ আসে দলের ভেতর থেকেই। এক পর্যায়ে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি থেকে সরে যান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সেখানে অন্তর্ভুক্ত হন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খান। যদিও নির্বাচনের পর থেকে স্টিয়ারিংয়ের কোনো বৈঠকেই ছিলেন না গয়েশ্বর।

এদিকে গতকাল অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যোগ দেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না তা নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফখরুল বৈঠকে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু নির্বাচনের পর দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও ঐক্যফ্রন্ট থেকে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। বিএনপি কী ধরনের কর্মসূচি দেবে, তা সর্বশেষ গত বুধবারের স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এই অবস্থায় কী করণীয় তা আমরা ভেবে দেখছি।’ আমাদের নেতারা বলেছেন, বেগম জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে। এখন আমরা নিজেদের কর্মসূচি নেব। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি এ বিষয়ে কর্মসূচি না দেয় তাহলে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

গণফোরামের মিডিয়াবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রতীক বলেন, ২৬ মার্চ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি রয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচন, হামলা-মামলা বন্ধ, বেগম জিয়ার মুক্তিসহ নানা ইস্যুতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গণশুনানির কর্মসূচি হবে। এপ্রিল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হতে পারে। তবে এখনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। খুব শিগগিরই স্টিয়ারিং কমিটি আবার বসবেন, পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা