kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

উত্তর রাখাইনে যেতেই পারছে না জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশা বাড়ছেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তর রাখাইনে যেতেই পারছে না জাতিসংঘ

রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ যাচাইয়ে মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহকারী কমিশনার ভোলকার তুর্ক গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্যই দিলেন। সংবাদ সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি যেকোনো পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার  জন্য স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক, টেকসই, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবনযাপনের নিশ্চয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে শিবিরগুলোতে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণী রয়েছে। তারা যখন মিয়ানমারে ফিরে যাবে তখন যাতে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত থাকে সে জন্য আমাদের এখন তাদের বেশি করে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ কাজের সুযোগ দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে ভোলকার তুর্ক বলেন, তাঁর সংস্থার প্রতিনিধিরা রাখাইনের ৬০টি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, তাঁর সংস্থা কবে গেছে? সেখানে পরিস্থিতি কেমন? রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার কতটা প্রস্তুত?

জবাবে ভোলকার তুর্ক বলেন, গত বছর তাঁর সংস্থার কর্মকর্তারা ৬০টি গ্রাম পরিদর্শন করেছিলেন, কিন্তু এখন উত্তর রাখাইনে সংঘাতের কারণে তাঁদের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।’

স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও পূর্ণ অধিকারসহ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ভোলকার তুর্ক বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আমাদের ভবিষ্যতের অংশ হিসেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গারা অর্থবহ ও ফলপ্রসূ জীবন চায়। তারা জীবন ও ফিরে যাওয়ার ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। সে জন্য আমাদের সহযোগিতা ও তাদের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা উচিত।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর সম্ভাব্য সব কিছু করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের লোক। তারা মিয়ানমারের।’

বিশ্বে এ যাবৎ কোনো শরণার্থী সংকট সমাধানের উদাহরণ ইউএনএইচসিআরের আছে কি না জানতে চাইলে সংস্থাটির সহকারী কমিশনার ভোলকার তুর্ক বলেন, তাঁরা মানবিক সংস্থা। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক সংস্থা নয়। সমাধান সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর হাতে।

তিনি যুগোশ্লাভিয়া ও কসোভোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে সরকারগুলো উদ্যোগ নেওয়ার পর শরণার্থীরা ফিরে গেছে।

তিনি বলেন, ‘কাজ করার জন্য আমাদের প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই পালন করতে হবে।’

ভোলকার তুর্ক অতীতে বিভিন্ন সময় এ দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার ইঙ্গিত করে বলেন, টেকসই সমাধান হলে আসা-যাওয়া চলবে।

রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিলের বড় অংশ প্রশাসনিক কাজে ব্যয় হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভোলকার তুর্ক বলেন, তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের ব্যাপারে তাঁর সংস্থা অত্যন্ত কঠোরভাবে সজাগ।

রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসান চরে স্থানান্তরে সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ভোলকার তুর্ক বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের আলোচনা চলছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা অত্যন্ত গাদাগাদি করে আছে। তাই অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনাকে তাঁরা স্বাগত জানান। তেবে রোহিঙ্গাদের সম্মতি ও আগ্রহের ভিত্তিতে এবং জীবনযাপনের সুযোগের ব্যাপারে আশ্বস্ত করে স্থানান্তরের ব্যাপারে তাঁরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভোলকার তুর্ক রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি, সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার, বিশেষ করে কক্সবাজারের বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

মন্তব্য