kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

১১৬ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের ভোট কাল

দুই এমপিকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




১১৬ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের ভোট কাল

আগামীকাল সোমবার উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজলায় ভোট। এক কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন ভোটার এদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুসারে, এ ধাপে মোট ১২৯ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার নির্বাচন তৃতীয় ধাপে এবং দিনাজপুর সদর উপজেলার নির্বাচন চতুর্থ ধাপে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের সুবিধার্থে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আর সব পদে একক প্রার্থী থাকার কারণে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের মিরসরাই, রাউজানের ছয় উপজেলায়। ফলে ভোট হচ্ছে ১১৬টি উপজেলায়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, পার্বত্য তিন জেলার উপজেলাগুলোতে নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও থাকবে।

এর আগে গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৮ উপজেলায় নির্বাচন হয়। এ ধাপে ১২টি জেলার মোট ৮৭টি উপজেলার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও পরে আদালতের নির্দেশনায় এবং প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন নিজে ছয়টি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে। এ ছাড়া তিনটি উপজেলায় সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় ধাপেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কারণে চেয়ারম্যান পদে ২৩টি উপজেলায়, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩টি উপজেলায় এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২টি উপজেলায় ভোট হবে না।

আগামীকালের এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৭৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৩৯ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। মোট সাত হাজার ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দুই এমপিকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ : এদিকে নির্বাচন কমিশন গতকাল দুই সংসদ সদস্যকে (এমপি) উপজেলা নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যার আগেই নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ দুই সংসদ সদস্য হলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের  মো. ফজলে রাব্বি মিয়া ও কক্সবাজার-৩ আসনের সাইমুন সরওয়ার কমল। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মো. ফজলে রাব্বি মিয়াকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে নির্বাচন বন্ধ হলে উক্ত উপজেলা পরিষদ (সাঘাটা ও ফুলছড়ি) নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন তথা সরকারের যে আর্থিক ব্যয় হবে পরবর্তীতে তার দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে।’

বিনা ভোটে চেয়ারম্যান : কাল দ্বিতীয় ধাপে যে ২৩ উপজেলায় বিনা ভোটের চেয়ারম্যান হচ্ছেন সেগুলো হলো রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া, দিনাজপুরের হাকিমপুর, পার্বতীপুর ও ঘোড়াঘাট, বগুড়ার আদমদীঘি ও শেরপুর, নওগাঁ সদর, পাবনা সদর ও সুজানগর, মৌলভীবাজার সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, মীরসরাই, রাউজান ও হাটহাজারী, রাঙামাটির লংগদু ও কাপ্তাই এবং খাগড়াছড়ি সদর ও মানিকছড়ি।    

দ্বিতীয় ধাপে যে ১১৬ উপজেলায় ভোট : দ্বিতীয় ধাপে যে ১২৩ উপজেলার নির্বাচন হচ্ছে সেগুলো হলো—ঠাকুরগাঁও জেলার সদর, পীরগঞ্জ, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল; রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, পীরগাছা, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ; গাইবান্ধা জেলার সদর, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও পলাশবাড়ী; দিনাজপুর জেলার কাহারোল, বোচাগঞ্জ, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হাকিমপুর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, বিরল, পার্বতীপুর, খানসামা ও ঘোড়াঘাট;  বগুড়া জেলার সদর, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, কাহালু, গাবতলী ও সোনাতলা; নওগাঁ জেলার আত্রাই, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট, বদলগাছী, রানীনগর, মহাদেবপুর, পত্নীতলা ও মান্দা; পাবনা জেলার আটঘরিয়া, বেড়া, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া ও সুজানগর; সিলেট জেলার সদর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার; মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, সদর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল; ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী, চরভদ্রাসন, সদরপুর, সালথা, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী ও ভাঙ্গা; চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী; রাঙামাটি জেলার সদর, লংগদু, নানিয়ার চর, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বরকল, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি; বান্দরবান জেলার সদর, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, থানচি, লামা, রুমা ও নাইক্ষ্যংছড়ি; খাগড়াছড়ি জেলার সদর, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও রামগড় এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া।

 

 

মন্তব্য