kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মির্জাপুরে প্রধানমন্ত্রী

বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে মানুষের কষ্ট থাকবে না

টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে মানুষের কষ্ট থাকবে না

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী কমপ্লেক্সে গতকাল অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজীসহ অতিথিরা। ছবি: বাসস

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী ট্রাস্ট মানবসেবায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অনুসরণ করে বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুমুদিনী স্কুল নিয়ে নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘বাবা (বঙ্গবন্ধু) আমাকে এই স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) আয়োজিত রণদাপ্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান ও কুমুদিনী ট্রাস্টের ৮৬তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন। তিনি এক হাতে যেমন অর্থ আয় করতেন, অন্য হাতে সাধারণ মানুষকে তা বিলিয়ে দিতেন। সারা জীবন নির্যাতিত মানুষের কথা তিনি ভেবেছেন। আজকে এই কুমুদিনী ট্রাস্ট আমি মনে করি, আমাদের দেশে নারীশিক্ষার প্রসার ঘটানো থেকে শুরু করে মানবসেবার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সে দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমাদের দেশে অনেক বিত্তশালী আছেন, তাঁরাও করতে পারেন। তাহলে আমাদের দেশের মানুষের আর কোনো কষ্ট থাকবে না।’

এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শন করেন এবং ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে উপভোগ করেন।

সকাল ১১টার পর হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে মির্জাপুরে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কুমুদিনী কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পৌঁছেই তিনি ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ১২টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। ছোট বোন শেখ রেহানাও এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরে কুমুদিনী ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে ২০১৯ সালের রণদাপ্রসাদ স্মারক স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে জাতির জনকের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী পদক গ্রহণ করেন।

কুমুদিনী ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহাকে ভাই হিসেবে বর্ণনা করে রণদাপ্রসাদ স্মারক স্বর্ণপদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা। যখনই চায়, তখনই আসতে পারে এবং আসে। আমি তাকে ছোট ভাইয়ের মতোই স্নেহ করি, কুমুদিনী ট্রাস্টের জন্য যা যা সহযোগিতা দরকার সে পাবে।’

একাত্তরে রণদাপ্রসাদ ও তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার ঘটনা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, স্বজন হারানোর বেদনা যে কত যন্ত্রণাদায়ক, সেটা আমরা বুঝতে পারি। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই কিন্তু আমার যাত্রা শুরু। আমি বাবা-মা, ভাই সব হারিয়ে এই মাটিতে যখন ফিরে আসি, তখন চারদিকে শুধু অন্ধকার। একটাই আলোকবর্তিকা পেয়েছিলাম, বাংলাদেশের জনগণ। এই জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি, জনগণের আস্থা পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আমি কাজ করছি। মনে রেখেছি বাবা কী করতে বলেছিলেন। বাবার কাজের একটুকুও যদি আমি করতে পারি, সেটাই হবে আমার জন্য বড় সাফল্য।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।’

কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুত্সুদ্দির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা ও ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতী, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ জলিল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা