kalerkantho

বিশেষজ্ঞ মত

বেসরকারি খাতে ঋণ কমবে প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেসরকারি খাতে ঋণ কমবে প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে

ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া বেড়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে মেগা প্রকল্প চালিয়ে নিতেই সরকারকে ঋণ নিতে হচ্ছে। যদিও সরকার এখন সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার ওপরই বেশি নির্ভরশীল, কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংক থেকে নেওয়া বেড়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোও ১২-১৩ শতাংশ সুদে সরকারি বন্ডে ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ করছে। ঝুঁকিহীন হওয়ায় বেসরকারি ব্যাংক সরকারকে ঋণ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। আমানতের একটি অংশ সরকারি ঋণে চলে যাওয়ায় দেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে বড় বড় প্রকল্প ছাড়া অন্যগুলোতে গতি কম। ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলেও এর প্রভাব এখনো তেমনভাবে পড়েনি। কিন্তু অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে গেলে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ করতে সরকার ঋণ নিচ্ছে কিন্তু এসব প্রকল্প এখনো অনুৎপাদনশীল বা আউটপুট নেই। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চললেও মানুষের হাতে অর্থ চলে আসে, এতে মুদ্রাস্ফীতিতে চাপ তৈরি হয়। সরকারের হাইটেক পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক  ও মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় অনেক বেশি হলেও কর্মসংস্থান সেভাবে হয় না। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প তবুও আগের মতো খাল খনন বা অন্যান্য কাজে কর্মসংস্থান সেভাবে হচ্ছে না।

আমাদের এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। সরকার অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করবে ঠিকই, কিন্তু এর সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও ভাবতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোয়ালিটি বা মান এবং সময়ের দিকেও নজর রাখতে হবে সরকারকে।

সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে টান পড়বে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন হবে কিন্তু সরকার বেশি বেশি ঋণ নিলে প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব পড়বে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাবে প্রবৃদ্ধি আবারও বেড়ে যাবে। কিন্তু দেশের শিল্প-বাণিজ্যের ঠিকমতো উন্নতি না হলে জিডিপিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। কাজেই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো প্রয়োজন।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা