kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

ডাকসুর সাবেক নেতাদের অভিমত

শুভ সূচনা, তবে সময় বাড়ানো উচিত ছিল

তৈমুর ফারুক তুষার   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুভ সূচনা, তবে সময় বাড়ানো উচিত ছিল

নানা অভিযোগ ও আশঙ্কা সত্ত্বেও এবার ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতির অচলায়তন ভাঙবে বলে মনে করেন কয়েকজন সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)। তাঁদের মতে, ২৮ বছর পর আজ সোমবারের নির্বাচন শুভ সূচনা। এ নির্বাচনকে ডাকসুর পুনর্জন্মও বলা যায়। ধারাবাহিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরবর্তী সময়ে একটি আদর্শ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে। তাঁরা মনে করেন, নির্বাচন ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহ থাকায় দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় না রেখে তা আরো বাড়ানো উচিত ছিল।

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আসবে। তার পরও বলব, নির্বাচনটা হচ্ছে, একটি শুভ সূচনা হচ্ছে। এই যে ৪৩ হাজার তরুণ ভোট দেবে, তারা যেন একটি ভালো নির্বাচনের জন্য মূল ভূমিকা নেয়। এই তরুণরাই আমাদের পথ দেখাতে পারে আগামী দিনে একটি ভালো টেকসই গণতন্ত্রের। আমি চাইব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহ্য ছিল, সেই ঐতিহ্যের ধারকবাহক হয়ে সত্যিকার অর্থে যারা নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন তারা যেন নির্বাচিত হয়ে আসে।’

মাহফুজা খানম বলেন, ‘নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কমিটি হয়েছে। সেখানে ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের বক্তব্য রেখেছে। কর্তৃপক্ষ কিছুটা মেনেছে, কিছুটা মানেনি। কিন্তু আশার কথা হলো সবাই নির্বাচনটা হোক—এটা চেয়েছে। সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—এটাই হলো বড় কথা। ছাত্রদল দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ছিল না, তারাও এটাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আসতে পেরেছে। এটা ইতিবাচক।’

ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২৮ বছর পর নির্বাচন হচ্ছে—এটা উৎসাহব্যঞ্জক। আমার মনে হয়, উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই ভোটগ্রহণ হবে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভোট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে। তারা যদি আগ্রহী হয়, তবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ভোট হবে। আসলে এই নির্বাচনকে ডাকসুর পুনর্জন্ম হিসেবেও দেখা যায়।’ ভোটগ্রহণের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ভোটগ্রহণের সময়টা বাড়িয়ে ৫টা পর্যন্ত করা উচিত ছিল। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভোট দেবে। এর জন্য সময় দরকার।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না অবশ্য এবারের নির্বাচনের মধ্যে কোনো আশা দেখছেন না। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি পত্রপত্রিকা পড়ে যেটা জানতে পারছি, আর কিছু ছাত্রের সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে, এতে আমি আশার কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আজকের সব পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে—শঙ্কা, অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি। এর মধ্যে হলে ভোট হচ্ছে। ১০ বছর ধরে একটি ছাত্রসংগঠন হল দখল করে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের প্রতি অন্ধ আনুগত্যে আছে। এই ভোটে কোনো কিছু আশার কথা আছে বলে তো আমার মনে হয় না।’

দুইবারের নির্বাচিত সাবেক ভিপি মান্না বলেন, ‘এখানে সরকারি দল ডাকসু নিয়ে যাবে। অন্য জায়গায় কিছু ভাগ-ভাটোয়ারা হতে পারে। সত্যিকারের ভোটে তো তারা জিততে পারবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেতন। তারা সরকারি দলকে ভোট দেবে বলে মনে হয় না। ভোটগ্রহণের যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এতে করে সবাই যদি ভোট দিতে আসে তবে দিতে পারবে না। ভোটগ্রহণের সময় ২টা পর্যন্ত না রেখে ৪টা করতে পারত। কিন্তু তারা করেনি। সব কিছুতেই তারা নিজেদের কর্তৃত্ব রাখতে চায়। সে জন্য এ সময় বাড়ায়নি। সবাই ভোট দিতে না পারলেও তাদের কিছু যায় আসে না।’

ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে এবার উৎসাহ-উদ্দীপনা ভালোই দেখা গেছে। তবে শুধু ক্ষমতাসীনরা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পেরেছে। এই দিক থেকে কিছুটা অপূর্ণতা রয়েছে। আমার মনে হয়, যেসব প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছে তারা ভালো করবে। তবে বেশির ভাগ প্রার্থীই এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদের কাছে পরিচিত হয়েছে। তাদের ছাত্রসংগঠনের প্রভাব, বিস্তৃতি এসবের ওপর ফল নির্ভর করবে।’

মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আশা করি ডাকসুতে যারাই নির্বাচিত হয়ে আসুক তারা এখনকার অচলায়তন ভাঙতে সাহায্য করবে। পরে ধারাবাহিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে আরো ভালো, আদর্শ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখতে পাব। তবে শুরুটা হোক ভালোভাবেই। আমি যতদূর জানি, শিক্ষক ও ছাত্রদের বড় অংশই একটি ভালো নির্বাচনের পক্ষে। তারা যদি ঠিক থাকে তবে কারো মনে যদি কোনো দুরভিসন্ধি থেকেও থাকে তারা সফল হবে না।’

 

মন্তব্য