kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাবিভ্রাট

রুদ্ধশ্বাস ঘটনাবলির পর সচিব ছুটলেন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে

মাসুদ রুমী   

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রুদ্ধশ্বাস ঘটনাবলির পর সচিব ছুটলেন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী মোহাম্মদ মামুন আলীর অস্ত্র স্ক্যানারে ধরা না পড়া নিয়ে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। ইলিয়াস কাঞ্চনের ঘটনার ১০ দিন আগেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাইগামী উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাইচেষ্টায় নিহত পলাশ আহমেদের ‘খেলনা’ পিস্তলও স্ক্যানারে ধরা পড়েনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে পর পর তিনটি এমন ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার বিমানবন্দরে ছুটে আসেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক। তিনি বিমানবন্দরে কর্মরত সব সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মর্কতাদের নিয়ে টানা দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন, নিয়ম না মেনে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ, গ্রেপ্তারসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যদিও বিমানবন্দরে তল্লাশি জোরদার করায় সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মী আরো বাড়ানো হয়েছে। ২০ মিনিট পর পর যাতে ডিউটি পরিবর্তন করা যায় সে জন্য নিরাপত্তাকর্মী এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে। প্রত্যেকটি স্তরে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে কর্মরত সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব পালনে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কেউ যদি ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ করেন তাহলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে থানায় সোপর্দ হবেন, অস্ত্র জব্দ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে। শুক্রবার যাত্রী মামুনের অস্ত্রসহ প্রবেশ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, তিনি মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।

জানতে চাইলে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) শাহ্ মো. ইমদাদুল হক গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাত্রী মামুন মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। এমন দায়িত্বহীন যাত্রীর কারণে আমরা এখন জিরো নীতি বাস্তবায়নে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এখন কেউ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার, অস্ত্র জব্দ, চালান ও মামলার শিকার হবেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।’

এদিকে পলাশ আহমেদের ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এর পরও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘আসল’ পিস্তল আর গুলি ধরা পড়েনি বিমানবন্দরের স্ক্যানারে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইলিয়াস কাঞ্চন মিথ্যা বলেছেন, তাঁর অস্ত্র দ্বিতীয় স্ক্যানে এন্ট্রি হাইজ্যাকিং পয়েন্টে ধরা পড়েছিল।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে যাত্রী মামুন সঙ্গে থাকা পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি নিয়ে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রথম তল্লাশি পার হওয়ার পর নিজের সঙ্গে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীর কাছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-১৩১ ফ্লাইটে সিলেটে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আসেন মামুন আলী।

তিনি কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই বিমানবন্দরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে পিস্তল ও গুলি থাকলেও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের আর্চওয়েতে তাঁর শরীর তল্লাশি করেন আনসার সদস্য রিপন। তবে মামুনের দাবি, তিনি বিমানবন্দরের প্রথম নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে থাকা গুলিসহ পিস্তল শনাক্ত করতে পারেননি নিরাপত্তাকর্মীরা।

শাহজালাল বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালক উইং কমান্ডার নূরে আলম সিদ্দিকী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাঁরা অস্ত্র বহন করেন তাঁরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁদের কাছ থেকে আমরা দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি। কিন্তু এটাও সত্য, আমাদের সম্মানিত যাত্রীরা আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছেন। যার ফলে আমরা আইনের কঠোর প্রয়োগে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’

এদিকে গতকাল কয়েকজন যাত্রী কালের কণ্ঠকে জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় যাত্রীদের বেশি তল্লাশি করা হচ্ছে। এতে ভিড় লেগে যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে। এ প্রসঙ্গে এভসেকের পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে ভিড় হচ্ছে না। আসলে সবগুলো এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সূচি প্রায় একই সময়ে। আগে প্রবেশ এবং বের হওয়া নিয়ে যাত্রীদের অনেকে প্রতিযোগিতায় থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে কখনো কখনো জটলা সৃষ্টি হয়।’

 

মন্তব্য