kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

সেনাবাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী

পতাকার মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পতাকার মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ চাই

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সেনাবাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনা সদস্যরা তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চারটি ব্যাটালিয়নকে (৭, ৮, ৯ ও ১০) বীর ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পতাকা হলো জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। তাই পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যেকোনো ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান ও গৌরবের বিষয়। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা, আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছি। এই সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

উপস্থিত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মদক্ষতা, কঠোর অনুশীলন ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে যে পতাকা আজ আপনারা পেলেন, তার মর্যাদা রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আপনারা সব সময় প্রস্তুত থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশেই ১৯৭২ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে একটি শান্তিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী এ প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশ ও দেশের বাইরে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন মিশনে ও জাতিসংঘে নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করছে।’

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সেনা সদস্যদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থবারের মতো এবং টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ায় আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শাসক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আমরা দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছি।’

আর এ কাজে সব সময় সশস্ত্র বাহিনীকে পাশে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের সেবা করার জন্য আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পেয়েছি। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার সময় যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে—এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

সেনাবাহিনীকে দেশের মানুষের ‘ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী পেশাদারির কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের পাশাপাশি সেনা সদস্যদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্ ও মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে একটি হেলিকপ্টারযোগে শেখ হাসিনা রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছেন। সেখানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ৭, ৮, ৯ ও ১০ বীরের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড জাতীয় পতাকা কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং ওই চার বীরকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, সংসদ সদস্য এনামুল হক, ডা. মনসুর রহমান ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা