kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

অরক্ষিত বিমানবন্দর

চট্টগ্রামে এক দিনে ৮১ কেজি সোনা জব্দ, আটক ৪

দুবাই থেকে এসে ভারত যাচ্ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও মিরসরাই প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে এক দিনে ৮১ কেজি সোনা জব্দ, আটক ৪

চট্টগ্রামে গতকাল রবিবার এক দিনেই অবৈধভাবে আনা ৭০০টি সোনার বার জব্দ করেছে পুলিশ, যার ওজন প্রায় ৮১ কেজি। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি টাকা। সোনার বারগুলো চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পাচার করে আনা হয়েছে। প্রতিটি ১০ তোলা ওজনের বারগুলোর গায়ে ‘দুবাই-ইউএই’ লেখা। এসব সোনা রাজধানী ছাড়াও ভারতে পাচার হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরসরাইয়ে উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে একটি গাড়ি তল্লাশি করে ৬০০টি সোনার বারসহ দুজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভার আজমপুর গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিব (৩৪) ও মোবারকপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে করিম খান কালু (৩৪)। পুলিশ তাঁদের পাজেরো গাড়ি ও ছয়টি মোবাইল ফোন সেট জব্দ করেছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সিআরবি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে ১০০টি সোনার বার আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আটক করা হয় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকার মৃত পরেশ চন্দ্র শাহার ছেলে লাভু শাহা ওরফে প্রলয় কুমার শাহা (৫৯) ও তাঁর গাড়িচালক শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানা এলাকার ছোট শিদলপুরা গ্রামের হাশেম সওদাগরের ছেলে মো. বিলাল হোসেন কাদেরকে (২৮)।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা জোরারগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে সোনার বার জব্দ করার বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, জব্দ সোনার ওজন প্রায় ৬৯ কেজি ৯৭২ গ্রাম। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

পুলিশের এ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন চালানটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাঁরা ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।

সোনার বার আটকে নেতৃত্বদানকারী জোরারগঞ্জ থানার ওসি ইফতেখার হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিকট অতীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে, বিশেষ করে জোরারগঞ্জ এলাকায় এ ধরনের বড় সোনার চালান আটক হয়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

নগর ডিবির উপকমিশনার (বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসেন জানান, আটককৃত লাভু শাহার কোমরে থাকা কাপড়ের তৈরি বিশেষ ধরনের কোমরবন্ধের ভেতরে এবং গাড়িতে সোনার বারগুলো লুকানো অবস্থায় ছিল। এসব সোনা ২৪ ক্যারেটের। ১১ কেজি ৬৬২ গ্রাম ওজনের সোনার বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত লাভু শাহা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি লবণের ব্যবসা করেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে তিনি প্রাইভেট কার নিয়ে আগের রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছেন। বদনাশাহ মাজার এলাকা থেকে একজন লোকের কাছ থেকে তিনি সোনার বার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরে যাচ্ছিলেন।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনার বারগুলো এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে আনা বারগুলো রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাচ্ছিল। ভারতেও পাচার করা হতো বলেও তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব সোনার গন্তব্য ছিল ভারত। তবে বিমানবন্দর দিয়ে কারা পাচার করে এনেছে বা দুবাই থেকে কারা পাঠিয়েছে এবং কিভাবে বিমানবন্দর থেকে এগুলো বের করে আনা হলো— সেটা আটককৃতরা বলতে পারেননি।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, আটককৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা